
পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির 'রামায়ণ' ছবির প্রযোজক হিসেবে এই মুহূর্তে শিরোনামে রয়েছেন নমিত মালহোত্রা। তবে তাঁর আসল পরিচয় শুধু ভারতীয় সিনেমার প্রযোজক হিসেবে আটকে নেই। ছোট একটা পোস্ট-প্রোডাকশন সেটআপ থেকে শুরু করে তিনি আজ বিশ্বমানের ভিএফএক্স ব্যবসার অন্যতম মাথা। তাঁর এই বিশাল সাফল্যের ছাপ পড়েছে তাঁর বিপুল সম্পত্তিতেও।
হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্ট ২০২৬ অনুযায়ী, নমিত মালহোত্রার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৯,২০৪ কোটি টাকার বেশি। বিশ্বের ধনকুবেরদের তালিকায় তাঁর স্থান ৩,৩০৬ নম্বরে। ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারির হিসেবে এই সম্পত্তির অঙ্ক কষা হয়েছে। তবে মনে রাখবেন, এই পরিমাণটা তাঁর হাতে থাকা নগদ টাকা বা তরল সম্পদ নয়, এটা তাঁর মোট সম্পদের একটা আনুমানিক হিসেব।
অন্যদিকে, হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬ বলছে, মালহোত্রা পরিবারের সম্মিলিত সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকা। এটা শুধু নমিতের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, গোটা পরিবারের। তাই এই দুটো হিসেব মেলানো বা সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না।
১৯৯৫ সালে নমিতের উদ্যোগী জীবনের শুরু। বাবার গ্যারেজে একটা ছোট ভিডিয়ো ওয়ার্কশপ খোলেন তিনি। কম্পিউটার গ্রাফিক্স আর পোস্ট-প্রোডাকশন প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর দারুণ আগ্রহ ছিল। মেনস্ট্রিম সিনেমায় ভিএফএক্স (VFX) জরুরি হওয়ার অনেক আগেই তিনি বুঝেছিলেন যে, ডিজিটাল টুলস দিয়ে ফিল্ম মেকিংয়ের চেহারাটাই বদলে দেওয়া যায়।
পরে তাঁর এই ছোট ব্যবসা বাবা নরেশ মালহোত্রার প্রোডাকশন কোম্পানি, ভিডিয়ো ওয়ার্কসের সঙ্গে জুড়ে যায়। এই পার্টনারশিপ থেকেই তৈরি হয় প্রাইম ফোকাস। ধীরে ধীরে প্রাইম ফোকাস ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের জায়গা পাকা করে।
২০০৬ সালটা ছিল একটা বড় মাইলস্টোন। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE) এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (NSE) প্রাইম ফোকাস তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির লক্ষ্য ছিল মিডিয়া প্রোডাকশনের নানা দিক, যেমন পোস্ট-প্রোডাকশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, প্রযুক্তি আর প্রোডাকশন পরিষেবা—সব এক ছাতার তলায় নিয়ে আসা।
২০১৪ সালে আরেকটা বড় মোড় আসে। ব্রিটিশ ভিজ্যুয়াল এফেক্টস স্টুডিয়ো ডাবল নেগেটিভ বা ডিএনইজি (DNEG) কিনে নেয় প্রাইম ফোকাস। এই অধিগ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের ব্যবসা আরও বাড়ে এবং গ্লোবাল ভিএফএক্স ইন্ডাস্ট্রিতে তারা একটা বড় নাম হয়ে ওঠে।
বর্তমানে নমিত মালহোত্রা ডিএনইজির চেয়ারম্যান এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও)।
প্রাইম ফোকাস কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই শেয়ার বাজারে নথিবদ্ধ কোম্পানিতে মালহোত্রা পরিবারের ৬০.৭৩% স্টেক বা মালিকানা রয়েছে। আবার প্রাইম ফোকাসের ডিএনইজি-তে ৮৮.২৯% মালিকানা রয়েছে।
এই শেয়ারের হিসেব দেখলে বোঝা যায় নমিতের বিপুল সম্পত্তির উৎস কী। তবে এর মানে এই নয় যে, এই দুটো কোম্পানির মোট মূল্যটাই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি।
ডিএনইজি বহু জনপ্রিয় হলিউড ছবিতে ভিজ্যুয়াল এফেক্টসের কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে 'ইনসেপশন', 'ইন্টারস্টেলার', 'ব্লেড রানার ২০৪৯' এবং 'ডিউন' ফ্র্যাঞ্চাইজি। অস্কার জেতার পর গ্লোবাল বিনোদন জগতে তাদের সম্মান আরও বেড়ে গিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিনোদন জগতে তিনি একটা বড় নাম, তবুও এখন নমিতকে নিয়ে চর্চা হচ্ছে অন্য কারণে। আর সেটা হলো 'রামায়ণ'।
নীতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় এই মহাকাব্য দুটি পর্বে তৈরি হচ্ছে। প্রধান চরিত্রে আছেন রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী এবং যশ। ভারতের এই অন্যতম সেরা মহাকাব্যকে দারুণ গল্প বলা আর আধুনিক ভিএফএক্সের মাধ্যমে সারা বিশ্বের দর্শকের সামনে তুলে ধরাই এই প্রজেক্টের লক্ষ্য।
শোনা যাচ্ছে, এই দুটো পর্বের মোট বাজেট প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি। এই হিসেব সত্যি হলে, 'রামায়ণ' ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম দামি প্রজেক্ট হতে চলেছে।
নমিতের কাছে এই প্রজেক্টটা হলো তাঁর দুটি সবচেয়ে প্রিয় জিনিস—ফিল্ম মেকিং আর আধুনিক ভিএফএক্স প্রযুক্তির এক মেলবন্ধন।
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.