
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব এবার স্পষ্ট টলিউডেও। সোমবার ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চলচ্চিত্র জগতের প্রযোজক সংগঠন ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইম্পা)। সংগঠনের সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, যা ক্রমশ রূপ নিচ্ছে প্রকাশ্য সংঘাতে।
বিজেপি সমর্থক একাংশ প্রযোজকের অভিযোগ, ইম্পা-কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হলে অবিলম্বে সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে পিয়া সেনগুপ্তকে। সোমবার থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ, যা পরবর্তী দু’দিনে আরও তীব্র আকার নেয়। মঙ্গলবার ইম্পা অফিসের বাইরে বিক্ষোভে নামে একদল প্রযোজক। সেখানে প্রতীকীভাবে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ কর্মসূচি পালন করা হয় বলে জানা যায়। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংগঠনের অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। বৌবাজার থানায় অভিযোগ জানানো হয় এবং আদালতের নির্দেশে ইম্পা চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বুধবার বিকেল থেকে এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয় এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কথাও শোনা যায়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হওয়ায় প্রশাসনের তরফে ১৪৪ ধারা জারির ইঙ্গিত দেওয়া হয়। যদিও পরে আদালতের নির্দেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইম্পা অফিস ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নজরদারি চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উভয় পক্ষের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর অন্যতম মুখ পরিবেশক শতদীপ সাহা জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “দু’পক্ষ মিলে শুক্রবার দুপুরে আবার বৈঠকে বসবে। সেখানেই আমাদের দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।”
বিরোধীদের মূল অভিযোগ, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত নয় এবং গায়ের জোরে সংগঠন পরিচালনা করছে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে নতুন করে নির্বাচন করতে হবে এবং সংগঠনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে।
অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিয়া সেনগুপ্ত। তিনি দাবি করেন, “আমাদের কাছে সব প্রমাণ রয়েছে। আদালতের নজরদারিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ভিত্তিহীন অভিযোগ মানা যায় না।”
তিনি আরও জানান, বৈধ প্রক্রিয়ায় সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে এবং মিথ্যা অভিযোগ তুলে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। সংগঠনের প্রযোজক বিভাগের চেয়ারম্যান ঋতব্রত ভট্টাচার্য জানান, ইম্পার নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “প্রত্যেক প্রযোজক স্বাধীনভাবে ছবি তৈরি করতে পারবেন। বাজেট সংক্রান্ত পুরনো বাধা তুলে দেওয়া হয়েছে।” এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, বিতর্ক থামেনি।
এদিকে বুধবার রাতে টেকনিশিয়ানদের একটি অংশকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, কিছু বিজেপি সমর্থক টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বরে ফেডারেশনের অফিসে গিয়ে শুটিং চলাকালীন অস্থিরতা তৈরি করেন। যদিও বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত স্টুডিও অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব যে বিনোদন জগতেও ছড়িয়ে পড়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে ইম্পাকে ঘিরে চলা এই সংঘাতে। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক ছায়া—সব মিলিয়ে টলিউডে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার আবহ। আগামী শুক্রবারের বৈঠকেই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর চলচ্চিত্র মহলের।
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.