কুম্ভমেলার পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম হিন্দু মেলা হল এই গঙ্গাসাগর মেলা । হিন্দুদের কাছে এটি অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান। পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত কপিল মুনির আশ্রমে প্রতি বছর মক্রর সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত হয় এই ধর্মীয় উৎসব ও মেলা। গঙ্গা নদী ও বঙ্গোপসাগরের এই পবিত্র মিলনস্থলে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। এটি একদিকে তীর্থভূমি আবার অন্যদিকে মেলা প্রাঙ্গণ। এই দুইয়ের মেলবন্ধনে আবদ্ধ গঙ্গাসাগর-মেলা।
শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপ। গঙ্গার মর্ত্যে প্রত্যাবর্তন ও সাগর রাজার পুত্রদের জীবন বিসর্জনের লোকগাঁথাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই বিখ্যাত তীর্থস্থান গঙ্গাসাগর।
28
প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির দিন এখানে বহু পূণ্যার্থী তীর্থস্নান করতে আসেন। বিহার-উত্তরপ্রদেশ থেকে আগত অবাঙালি পুণ্যার্থীদের ভিড়ই হয় সর্বাধিক।
38
১৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হবে এই মেলার। চলবে ১৫ জানুয়ারি শনিবার পর্যন্ত। পূণ্যস্নানের সময় হল ১৪ জানুয়ারি শুক্রবার, পূণ্যকলা শুরু হবে সকাল ৬ টা বেজে ২ মিনিটে। এই সময় থেকেই শুরু হবে মকর সংক্রান্তির পূণ্য স্নানের যোগ। এই যোগ শেষ হবে ১৫ জানুয়ারি শনিবার, সকাল ৬ টা বেজে ২ মিনিট পর্যন্ত।
48
এখানে ছিল সাংখ্যদর্শনের আদি-প্রবক্তা কপিলমুনির আশ্রম। পুরাণ অনুযায়ী, একবার কপিলমুনির ক্রোধের আগুনে সাগর রাজার ষাট হাজার পুত্র ভস্মীভূত হন এবং তাদের আত্মা নরকে নিক্ষিপ্ত হয়।
58
সাগরের পৌত্র ভগীরথ স্বর্গ থেকে গঙ্গাকে নিয়ে এসে সাগরপুত্রদের ভস্মাবশেষ ধুয়ে ফেলেন এবং তাঁদের আত্মাকে মুক্ত করে দেন। মহাভারতের বনপর্বে তীর্থযাত্রা অংশে গঙ্গাসাগর তীর্থের উল্লেখ রয়েছে।
68
পালবংশের রাজা দেবপালের একটি লিপিতেও তাঁর গঙ্গাসাগর-সঙ্গমে ধর্মানুষ্ঠান করার কথা বলা হয়েছে। লোক-কাহিনী অনুযায়ী এখানে কপিল মুনির একটি আশ্রম ছিল।
78
এক সময় সেটি সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে আশ্রমটিকে কেন্দ্র করে তার ভক্তদের সমাগম বাড়তে থাকে।
88
প্রত্যেক বছর জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি মকরসংক্রান্তি বা পৌষ-সংক্রান্তির পূণ্যতীথিতে লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। এই সমাগমকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিরাট মেলা যার নাম গঙ্গাসাগর-মেলা।
Ajker Rashifal: Check today's rashifal in Bangali for your zodiac signs. Know your daily Horoscope (দৈনিক রাশিফল) in Bangla , Weekly rashifal (সাপ্তাহিক রাশিফল) yearly rashifal at Asianet news Bangla.