
রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা বিলে সবুজ সংকেত দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত ভারত, চিন এবং ব্রাজিলকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন আমদানি শুল্ক বিলটি আনছে। রাশিয়ার যুদ্ধের প্রস্তুতিতে আর্থিক মদত বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এই বিলটি মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা হয়েছে। শীঘ্রই মার্কিন কংগ্রেসে এই বিলের ওপর ভোটাভুটি হবে। নতুন বিলটি কংগ্রেসে পাস হলে ভারত, চিন এবং ব্রাজিলের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে তেলের পাশাপাশি রাশিয়ার ইউরেনিয়াম উত্তোলনের ওপরও এই কঠোর কর প্রযোজ্য হবে।
৫০০ শতাংশ কর
এই নতুন বিলটি রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেবে। বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, যে দেশগুলো রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা জারি রাখবে, তাদের থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপ করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে ইউক্রেন আক্রমণের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর আরোপিত আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ। চিন, ভারত এবং ব্রাজিল হলো রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
এই তালিকায় চিন প্রথম স্থানে রয়েছে, আর ভারত দ্বিতীয়। পুতিনের যুদ্ধের প্রস্তুতিতে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করার প্রস্তাব নিয়ে আসা এই নতুন নিষেধাজ্ঞা বিলটি চিন ও ভারতের জন্য বড় ধাক্কা হতে চলেছে। ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধ ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে বড় প্রভাব ফেলেছে। গত বছরই ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর কর বাড়িয়েছিল। রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর আরোপ করায় কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট কর প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল।
রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার চিনও আমেরিকার কাছ থেকে বড় ধরনের শুল্ক যুদ্ধের মোকাবিলা করছে। আমেরিকা যখন চিনা পণ্যের ওপর ১৪০ শতাংশ কর আরোপ করেছিল, তার জবাবে চিনও আমেরিকার পণ্যের ওপর ১২০ শতাংশ কর আরোপ করে দেয়। অনুমান করা হচ্ছে, এই নতুন বিলটি কার্যকর হলে বিশ্ব বাজারে বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়বে।