
মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম)-এর প্রতিষ্ঠাতা আলতাফ হুসেন আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সাধারণ মানুষের উপর হামলা হলে কাবুল পাল্টা জবাব দিতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে হুসেন আফগানিস্তানের পাক্তিয়া, পাক্তিকা এবং কুনার প্রদেশে সাধারণ মানুষের বাড়িতে হামলার নিন্দা করেন। তিনি লিখেছেন, "আফগানিস্তানে সাধারণ মানুষের উপর এই হামলা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানকে পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।"
হামলায় নারী ও শিশু মৃত্যুর খবরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের অভিযানের ফলে পাকিস্তান পাল্টা হামলার শিকার হতে পারে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সরাসরি সংঘাতের দিকে চলে যেতে পারে।
করাচিতে রেঞ্জার্স সদর দফতরে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার নিন্দা করে হুসেন বলেন, পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। তবে তাঁর মতে, সামরিক জবাব সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হওয়া উচিত ছিল, সাধারণ মানুষের বসতিতে নয়।
তিনি মনে করেন, ইসলামাবাদের উচিত ছিল আফগানিস্তানের কাছে প্রতিবাদ জানিয়ে কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করা এবং রাষ্ট্রসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা।
আফগান কর্তৃপক্ষ, আফগানিস্তানে রাষ্ট্রসংঘের মিশন এবং রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ প্রতিনিধির রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে হুসেন জানান, পাকিস্তানের বিমান হামলায় ২৮ জন নারী ও শিশু নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে কেন নিশানা করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এই হতাহতের ঘটনার জন্য জবাবদিহির দাবি করেন।
হুসেন করাচি হামলায় নিহত রেঞ্জার্স কর্মীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আফগান নাগরিকদের পাশে থাকার বার্তা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, আফগানিস্তানের পাল্টা হামলায় যদি পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়, তবে তার দায় তাদেরই নিতে হবে যারা সাধারণ মানুষের উপর হামলার অনুমোদন দিয়েছে।
এমকিউএম প্রতিষ্ঠাতা আফগান কর্তৃপক্ষকে তাদের মাটি থেকে জঙ্গি কার্যকলাপ বন্ধ করার এবং পাকিস্তানে সীমান্তপার হামলা ঠেকানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন।
তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকেও তাদের আঞ্চলিক নীতি পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কয়েক দশকের নিরাপত্তাকেন্দ্রিক কৌশল আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করেছে এবং দেশের ভেতরেও অসন্তোষ বাড়িয়েছে।