
Australia Navy Scandal: অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজের মহিলা নাবিকদের বাথরুম থেকে গোপন ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সে দেশের প্রতিরক্ষা দফতরে। কুইন্সল্যান্ডের কেয়ার্নস বন্দরে নোঙর করে থাকা 'এইচএমএএস লিউইন' (HMAS Leeuwin) নামে একটি জাহাজে এই ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ অক্টোবর, রবিবার, জাহাজের মহিলা নাবিকদের বাথরুম ও শাওয়ার রুম থেকে ওই ক্যামেরা উদ্ধার করা হয় বলে খবর। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সামরিক পুলিশ ও সাধারণ পুলিশ।
অস্ট্রেলিয়ার সেনেটর জ্যাকি লাম্বি প্রথম এই বিষয়টি পার্লামেন্টে তোলেন। তাঁর দাবি, নৌবাহিনীর এক প্রাক্তন সদস্য তাঁকে এই ঘটনার কথা জানিয়েছেন। শুধু গোপনে ক্যামেরা বসানোই নয়, মহিলা নাবিকদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। কত জন মহিলা নাবিকের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে রেকর্ড করা হয়েছে এবং সেই ভিডিও অনলাইনে ছড়ানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন লাম্বি।
ঘটনার তদন্তের জন্য জাহাজটির সমুদ্রযাত্রা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর প্রতিরক্ষা দফতরের এক কর্মীকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সামরিক পুলিশের আধিকারিকেরা। তবে এই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা এখনও নিশ্চিত নয়। অস্ট্রেলীয় নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল ম্যাট বাকলি ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের কাজ নৌবাহিনীর কর্মীদের মধ্যে থাকা বিশ্বাসের চরম অপব্যবহার। তিনি ঘটনাটিকে যৌন হেনস্থার মতো গুরুতর বিষয় হিসেবেও দেখছেন।
চলছে তদন্ত
এই ঘটনার পর অস্ট্রেলীয় নৌবাহিনীর সব যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির বাথরুমে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও গোপন ক্যামেরা বা এই ধরনের কোনও যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। অন্য দিকে, ঘটনার জেরে মহিলা নাবিকদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে কেয়ার্নসে নৌবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে পাঠানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, এই ধরনের আচরণ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত শেষ হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে মহিলা নাবিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে তদন্তের সব তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।