Costume Mix-up: মেয়ের জন্য চাইলেন মেরি পপিন্স, বাক্স খুলে বেরোলেন কিম জং উন! হতবাক পরিবার

Published : Aug 27, 2026, 05:51 PM IST
Costume Mix-up: মেয়ের জন্য চাইলেন মেরি পপিন্স, বাক্স খুলে বেরোলেন কিম জং উন! হতবাক পরিবার

সংক্ষিপ্ত

মেলবোর্নের এক ১০ বছরের মেয়ে স্কুলের 'বুক উইক' প্যারেডের জন্য মেরি পপিন্সের পোশাক পরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু অনলাইনে অর্ডার করা সেই পোশাকের বাক্স খুলতেই পরিবারের চক্ষু চড়কগাছ! ভেতরে মেরি পপিন্স নয়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কস্টিউম।

মেলবোর্নের এক ১০ বছরের মেয়ে স্কুলের 'বুক উইক' প্যারেডের জন্য দারুণ উৎসাহিত ছিল। তার শখ হয়েছিল, সে সবার প্রিয় আয়া 'মেরি পপিন্স' সাজবে। কিন্তু অনলাইনে অর্ডার করা পোশাকের পার্সেল আসতেই ঘটল এক অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড। বাক্সের ভেতর থেকে মেরি পপিন্সের বদলে বেরিয়ে এল উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কস্টিউম।

শুক্রবার প্যারেড, তার মাত্র কয়েকদিন আগে এই ঘটনায় পরিবারটির মাথায় হাত। তড়িঘড়ি করে তারা মেরি পপিন্সের অন্য একটি পোশাকের জন্য ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। রসিদ থেকে জানা যায়, অর্ডারটি করা হয়েছিল ২৩শে আগস্ট। CostumeBox নামের ওই সংস্থাটি অস্ট্রেলিয়াজুড়ে একই দিনে বা দ্রুত ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দেয়।

মেয়েটির জন্য অর্ডার করা হয়েছিল ৬০ ডলার দামের 'মিউজিক্যাল ন্যানি ডিলাক্স' পোশাকটি। এর সঙ্গে কোট, স্কার্ট, টুপি এবং বো টাই ছিল। শুধু ছাতা, জুতো আর মোজা কিনলেই মেরি পপিন্সের আইকনিক লুকটা সম্পূর্ণ হতো।

কিন্তু তার বদলে পরিবারটি পায় কিম জং উনের সঙ্গে জড়িত একটি কস্টিউম। মজার বিষয় হলো, CostumeBox-এর ক্যাটালগে ৮০ ডলার দামের একটি ডিক্টেটর মাস্কও রয়েছে, যার বিবরণে লেখা, "সবাই আপনাকে চিনে ফেলবে।" এই মারাত্মক ভুলে হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়েটির মা সরাসরি ওই সংস্থাকে ইমেল করেন। CostumeBox নিজেদের "অস্ট্রেলিয়ার এক নম্বর অনলাইন কস্টিউম বিক্রেতা" বলে দাবি করে।

অসি টিভি ও রেডিও সঞ্চালক জ্যাকলিন ফেলগেট ওই মায়ের লেখা ইমেলটি অনলাইনে শেয়ার করেন। তাতে লেখা ছিল, "আপনারা আমাকে ভুল পোশাক পাঠিয়েছেন! আমার মেয়ের বুক উইকের জন্য মেরি পপিন্সের পোশাকটা দরকার ছিল, আর আপনারা পাঠালেন কিম জং-উনের কস্টিউম!"

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, "এর মানে কী?" মা আরও লেখেন, স্কুলের অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া ১০ বছরের একটি বাচ্চার কাছে কীভাবে এমন একটি পোশাক পাঠানো যেতে পারে। ইমেলে বলা হয়, "এটা মেনে নেওয়া যায় না। আর দু'দিন পরেই ওর প্যারেড। মেয়েটা তো একেবারে ভেঙে পড়েছে।"

এই অদ্ভুত ঘটনাটি অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সঞ্চালক জ্যাকলিন ফেলগেট তাঁর ফলোয়ারদের কাছে প্যারেডের আগে একটি মেরি পপিন্সের পোশাক খুঁজে পেতে সাহায্য চান। তিনি লেখেন, "সময়ের মধ্যে মেরি পপিন্সের পোশাকটা পেতে কোথায় যাওয়া যেতে পারে, কেউ কি জানেন?"

খবর অনুযায়ী, News.com.au এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে CostumeBox-এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের সিইও নিকি ইয়ামানের একটি বিবৃতির দিকে নির্দেশ করা হয়। তিনি বেশ মজার ছলে বিষয়টির উত্তর দেন। নিকি লেখেন, "এই বিষয়ে আপনারা দুটো ভিন্ন গল্প ভাবতে পারেন... হয়: 'আমাদের গুদামে একটা ছোট কিন্তু দৃঢ় কমিউনিস্ট বিপ্লব ঘটে গেছে। তবে নিশ্চিন্ত থাকুন, বিদ্রোহ দমন করা হয়েছে এবং আমাদের ন্যায়পরায়ণ পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে'। অথবা; 'আমাদের গুদামে একটি সাধারণ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক মানবিক ভুল হয়েছে, যেখানে দুটি ঠিকানা ভুলবশত বদল হয়ে গেছে।'"

ইয়ামান জানান, পরিবারটির কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরেই সংস্থা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তিনি আরও বলেন, "মেরি পপিন্সের গ্রাহক আজ সকাল ৬টায় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, আমরা সকাল ৯:০৫-এ উত্তর দিই এবং সকাল ৯:৩৫-এর মধ্যে একটি নতুন মেরি পপিন্স কস্টিউম প্যাক করা হয়ে যায়। সেটি অস্ট্রেলিয়ার পোস্ট এক্সপ্রেস যোগে দিনের প্রথম ট্রাকেই বেরিয়ে গেছে। সব ঠিকঠাক থাকলে, পোশাকটি কালকের মধ্যেই পৌঁছে যাবে এবং শুক্রবারের বুক উইক প্যারেডের জন্য সময়ে তৈরি থাকবে।"

তিনি এও ব্যাখ্যা করেন যে, যে গ্রাহক আসলে কিম জং-এর কস্টিউমটি অর্ডার করেছিলেন, তাঁর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। যদি সত্যিই পার্সেল বদল হয়ে থাকে, তবে তা নিশ্চিত করা হবে। নিকি শেষে লেখেন, "যদি তিনি সত্যিই মেরি পপিন্সের পোশাক পেয়ে থাকেন, তবে আমরা তাঁকে একটি নতুন কিম জং মাস্ক পাঠাতে প্রস্তুত, যা তিনি এই সপ্তাহান্তের অনুষ্ঠানের জন্য সময়ে পেয়ে যাবেন। আশা করি, এই উত্তরটি আপনাদের এবং সেই সব সংবাদমাধ্যমের জন্য যথেষ্ট, যারা 'গুরুত্বপূর্ণ খবর' পরিবেশন করার মহৎ উদ্দেশ্যে আজ সকাল থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ধন্যবাদ, নিকি, সিইও, Costumebox.com.au।"

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

টানা একদিনের মুষলধারার বৃষ্টিতে স্পেনে ভয়বাহ বন্য়া, জলের তলায় দুতলা বাড়িও
Francis Halzen Nobel Prize 2026 in Physics: বরফের গভীরে 'ভূতুড়ে কণা'র সন্ধান, পদার্থবিদ্যায় নোবেল জিতলেন ফ্রান্সিস হালজেন