
১৫ অগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের এর বিশেষ দিন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী সেদিন। এই দিনেই নন্দনগাছী মহাবিদ্যালয়ের গার্হস্থ্য অর্থনীতিক লেকচারার সোহেলী আক্তার তাঁর ফেসবুক পেজে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন। সেটি ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। সেখানে লেখা- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। ক্যাপশনে লেখা বিনম্র শ্রদ্ধা।
এটাই ছিল অপরাধ। তারপর সোমবার জরুরি বৈঠকে বসেন কলেজের গভর্নিং বডির সদস্যরা। সেখানেই গার্হস্থ্য অর্থনীতিক লেকচারার সোহেলী আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে এই ধরনের পোস্ট রাষ্ট্রবিরোধী। তবে এই সিদ্ধান্তের আগে অভিযুক্ত লেকচারারকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেখা হয়নি। এই কথা স্বীকার করেছে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্যরা।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল ১০টায় কলেজ চত্বরে বিক্ষোভের ডাক দেয় নন্দনগাছী কলেজ ছাত্রদল। নির্ধারিত সময়ে কলেজে জড়ো হন সংগঠনের নেতা কর্মীরা। তাদের দাবি ছিল, শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, সোহেলী আক্তারকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করতে হবে। তার বিরুদ্ধে নিতে হবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাও।
এদিন বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন নন্দনগাছী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক আহেদুর রহমান সাহেদা। তাঁর অভিযোগ, সোহেলি কলেজ আওয়ামি লিগের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর বাবার জেলা আওয়ামি লিগের সহ সভাপতি। সেই প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়। রাজনৈতিক পরিচয় এবং ১৫ অগস্টের ফেসবুক পোস্ট দুই মিলিয়ে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। সোমবার জরুরি বৈঠকে বসেন কলেজের গভর্নিং বডির সদস্যরা। সেখানেই গার্হস্থ্য অর্থনীতিক লেকচারার সোহেলী আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে এই ধরনের পোস্ট রাষ্ট্রবিরোধী। সে কারণে চাকরি গিয়েছে গার্হস্থ্য অর্থনীতিক লেকচারার সোহেলী আক্তারের।