
China Moon Mission: এবার চাঁদে বুকে হাঁটবেন চিনের মহাকাশচারীরা। আগামী বছর চারেকের মধ্যেই চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে ড্রাগনের দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে চিন। অ্যাপোলো অভিযানের বহু বছর পর আবার চাঁদের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন মানুষ। তবে এবার সেই দৌড়ে আমেরিকার পাশাপাশি বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে তৈরি চিন। ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে বেইজিং। কীভাবে হবে সেই অভিযান, কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, এমনকী চাঁদে পৌঁছে মহাকাশচারী বা নভশ্চররা কী কী করবেন, তার বিস্তারিত পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে চিন।
৩১ অক্টোবর বেজিংয়ে সপ্তম 'হিউম্যান স্পেস সিম্পোজিয়াম'-এ এই চন্দ্র অভিযানের রূপরেখা তুলে ধরেন চিনের মহাকাশ গবেষণা কর্মসূচির শীর্ষ আধিকারিক ওয়াং শিয়াং। চিনের মানববাহী মহাকাশ সংস্থা CMSA-র এই পরিকল্পনায় থাকছে দুটি শক্তিশালী রকেট, একটি মহাকাশযান এবং একটি বিশেষ ল্যান্ডার।
দেখুন ভিডিও
China has officially declared today that two Chinese astronauts will land on the Moon before 2030. https://t.co/gp8u2ZU1Ri
— Li Zexin 李泽欣 (@XH_Lee23) October 31, 2026
চিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অভিযানে মোট তিন জন নভশ্চর অংশ নেবেন। তবে তাঁদের সবাই চাঁদের মাটিতে নামবেন না। চাঁদে নামবেন দু’জন। আর তৃতীয় জন থাকবেন কক্ষপথে ঘুরতে থাকা মহাকাশযানে। এর জন্য ব্যবহার করা হবে দুটি 'লং মার্চ-১০' রকেট। প্রথম রকেটে চড়ে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছবে 'মেংঝৌ' নামে একটি মহাকাশযান। তাতে থাকবেন তিন জন নভশ্চর। এরপর দ্বিতীয় রকেটে পাঠানো হবে 'ল্যানইউয়ে' নামে একটি বিশেষ ল্যান্ডার।
এরপর কী হবে
চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে মহাকাশযান এবং ল্যান্ডারটি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হবে। তারপর তিন জনের মধ্যে দু'জন মেংঝৌ থেকে ল্যানইউয়ে ল্যান্ডারে চলে যাবেন। তৃতীয় জন মূল মহাকাশযানেই থাকবেন। এরপর দুই নভশ্চরকে নিয়ে চাঁদের মাটিতে নামবে ল্যান্ডারটি।
চাঁদে নেমে কী করবেন তাঁরা?
চাঁদের মাটিতে পৌঁছে শুরু হবে আসল কাজ। সেখানে মাটি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ করবেন দুই নভশ্চর। পাশাপাশি চলবে নানা ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। চাঁদের বুকে ঘোরাফেরা ও গবেষণার জন্য তাঁদের সঙ্গে থাকবে বিশেষ রোভার ‘তানসুও’। কাজ শেষ হলে ল্যান্ডারের একটি অংশ চাঁদের মাটি থেকে ফের উড়ে চাঁদের কক্ষপথে ফিরে যাবে। সেখানে অপেক্ষায় থাকা মেংঝৌ মহাকাশযানের সঙ্গে আবার যুক্ত হবে সেটি। দুই নভশ্চর ফিরে আসবেন মূল মহাকাশযানে। এরপর তিন জন একসঙ্গে পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা দেবেন।
কতটা এগিয়েছে চিনের প্রস্তুতি?
চিন জানিয়েছে, এই অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি তৈরির কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। মেংঝৌ মহাকাশযানের জরুরি অবতরণ সংক্রান্ত পরীক্ষা এবং ল্যানইউয়ে ল্যান্ডারের অবতরণ ও ফের উড়ে যাওয়ার প্রাথমিক পরীক্ষাও হয়েছে। তবে মানুষ পাঠানোর আগে ল্যান্ডারটির চালকহীন পরীক্ষামূলক উড়ান চালানো হবে। সব মিলিয়ে, ২০৩০ সালের আগেই চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে জোরকদমে এগোচ্ছে চিন। মহাকাশ গবেষণায় আমেরিকার সঙ্গে পাল্লা দিতে বেজিংয়ের এই উদ্যোগ আগামী দিনে কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা বিশ্বের।