
অরুণাচল প্রদেশে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে উত্তেজনা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল বেজিং। সীমান্তে টহলদারি নিয়ে ভারতের অভিযোগের জবাবে চিনের দাবি, দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তি মেনেই সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল দেয় চিনা সেনা। একই সঙ্গে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার জন্য ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে বেজিং। সোমবার, ২৬ অক্টোবর চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন জানান, ভারত ও চিনের মধ্যে হওয়া চুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলি ধারাবাহিকভাবে মেনে চলছে বেজিং। সীমান্ত এলাকায় নিজেদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিয়মিত টহলদারি এবং সীমান্ত পরিচালনার কাজ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। গুয়ো আরও জানান, ভারত ও চিন কূটনৈতিক এবং সামরিক চ্যানেলের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-এর ডিজি শত্রুজিৎ সিং কাপুর জানিয়েছিলেন, অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক জায়গায় ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান বা সংঘাতের পরিস্থিতি এখনও রয়েছে। জুলাই মাসেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি। এর পরেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, চিনা সেনা পূর্বনির্ধারিত টহলদারির পদ্ধতি থেকে সরে এলে সীমান্তে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এই মন্তব্যের পরই চিনের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া সামনে এল।
চিনের বক্তব্য, দুই দেশের মধ্যে আগে হওয়া সমঝোতা কার্যকর করার জন্য ভারতকেও সহযোগিতা করতে হবে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বেজিং। অন্যদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বাকি সমস্যাগুলির সমাধান এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আলোচনা চলছে। দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির জন্য সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।