মঙ্গল গ্রহে মিলল প্রাণের সন্ধান? জলে তৈরি ৮টি গুহা আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা

Published : Jan 08, 2026, 01:41 PM IST
মঙ্গল গ্রহে মিলল প্রাণের সন্ধান? জলে তৈরি ৮টি গুহা আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা

সংক্ষিপ্ত

মঙ্গল গ্রহ কি বাসযোগ্য ছিল? জলে তৈরি ৮টি অস্বাভাবিক গুহার সন্ধান পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এগুলি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের ফলে তৈরি হয়নি, বরং জলে দ্রবণীয় শিলার রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হয়েছে।

বেজিং (জানুয়ারি ০৮): মঙ্গল গ্রহকে এতদিন অনেকেই একটি শুষ্ক ও অনুর্বর গ্রহ বলে মনে করতেন। কিন্তু চিনা বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। গবেষকরা মঙ্গল গ্রহে এমন আটটি গুহা চিহ্নিত করেছেন যা সম্ভবত জলের দ্বারা গঠিত। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন যে এই গবেষণাটি মঙ্গলের পৃষ্ঠের নয়, বরং এর গভীরে লুকিয়ে থাকা ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে।

চিনা বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহের হেব্রাস ভ্যালিস (Hebrus Valles) অঞ্চলে নতুন গুহা আবিষ্কার করেছেন। এই গুহাগুলির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এগুলি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের দ্বারা গঠিত হয়নি, বরং জলে দ্রবণীয় শিলার রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হয়েছে। পৃথিবীতে এই ধরনের গঠনকে কার্স্ট গুহা (Karst Caves) বলা হয়। ডেইলি গ্যালাক্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞানীদের মতে, অন্য কোনো গ্রহে এই ধরনের গুহা নথিভুক্ত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

হেব্রাস উপত্যকা গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু

এই সমস্ত গুহা মঙ্গল গ্রহের হেব্রাস ভ্যালিস অঞ্চলে পাওয়া গেছে। উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে আটটি বৃত্তাকার গভীর গর্ত আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলি সাধারণ উল্কাপিণ্ডের গর্তের মতো দেখতে নয়। এদের উঁচু কিনারা বা চারপাশে কোনো ধ্বংসাবশেষ নেই। বিজ্ঞানীরা সন্দেহ করছেন যে এটি অন্য কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত হতে পারে। গবেষকরা মনে করছেন যে এগুলি কেবল গর্ত নয়, বরং মঙ্গলের পৃষ্ঠের নীচে একটি বড় ব্যবস্থার প্রবেশদ্বার হতে পারে।

নাসার ডেটা

নাসার বিভিন্ন স্যাটেলাইট মিশন থেকে প্রাপ্ত ডেটা ব্যবহার করে এই গবেষণাটি করা হয়েছে। এর মধ্যে মার্স গ্লোবাল সার্ভেয়ারও রয়েছে। থার্মাল এমিশন স্পেকট্রোমিটার থেকে প্রাপ্ত ডেটা কার্বনেট, সালফেটের মতো খনিজ পদার্থ প্রকাশ করেছে। এগুলি সাধারণত জলের উপস্থিতিতে গঠিত হয়।

জলে গঠিত শিলা

কার্বনেট এবং সালফেটের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে যে মঙ্গলের পৃষ্ঠের নীচে একসময় জল প্রবাহিত হত। অনুমান করা হচ্ছে যে এই জল ধীরে ধীরে দ্রবণীয় শিলাকে ক্ষয় করে গুহা তৈরি করেছে। মঙ্গলের গঠনের ইতিহাসে জলের ভূমিকা সম্পর্কে এই নতুন গবেষণা আরও জোরদার প্রমাণ দেয়।

এখানে কি কখনও প্রাণের অস্তিত্ব ছিল?

মঙ্গল গ্রহে যদি প্রাণের অস্তিত্ব থাকত, তবে পৃষ্ঠের কঠোর পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে তার একটি নিরাপদ স্থানের প্রয়োজন ছিল। মঙ্গলের তীব্র সৌর বিকিরণ, ধুলোর ঝড় এবং চরম তাপমাত্রা প্রাণের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে এই ধরনের গুহাগুলি অণুজীবদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় প্রদান করতে পারত।

ভবিষ্যৎ মঙ্গল অভিযানের জন্য বড় ইঙ্গিত

এই গবেষণা মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সন্ধানে নতুন দিকনির্দেশনা দেয়। ভবিষ্যতের মিশনগুলি আর শুধু মঙ্গলের পৃষ্ঠে নয়, মঙ্গলের নীচের মাটিতেও অন্বেষণ করতে পারে। প্রাণের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এই লাল গ্রহের গভীরে লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Trump Tariffs Declared Illegal: ট্রাম্পের শুল্ককে অবৈধ বলে খারিজ সুপ্রিম কোর্টের, কী কারণে হোঁচট খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
Sea Level Rise: সাগরের জলস্তর বাড়লে বিপদে পড়বে ১০ কোটি বাড়িঘর!