
লস্কর-ই-তইবার (এলইটি) প্রতিষ্ঠাতা সন্ত্রাসবাদী হাফিজ সইদ কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছে। এই দাবি করলেন খোদ এক পাকিস্তানি ধর্মগুরুই। পাকিস্তানের ধর্মীয় বক্তা নাসির মাদনি এই দাবি করেছেন। গত ১৪ আগস্ট বাহাওয়ালনগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি লস্কর-ই-তইবার (এলইটি) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের প্রসঙ্গ তোলেন এবং দাবি করেন যে সইদ কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছে। সইদের পক্ষ হয়ে কথা বলার সময় মাদনির এই মন্তব্যটি বহু বছর ধরে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পাঠানোর বিষয়ে ভারতের অভিযোগকে আবারও সামনে এনেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভাষণের ভিডিওতে মাদনি হাফিজ সইদকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, "এই হাফিজ সইদ আত্মত্যাগ করেছেন। আজ তিনি জেলে। তিনি কাশ্মীরের জন্য এবং আত্মত্যাগের জন্য ১০,০০০ যুবক পাঠিয়েছিলেন।” মাদানি এই যুবকদের ‘কমান্ডো’ বলেও উল্লেখ করেন।
হাফিস সইদ হল পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা। এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে ভারতে বেশ কিছু ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার অভিযোগ রয়েছে। আল-কায়েদা ও তালিবানের সঙ্গে যোগ থাকার কারণে ২০০৫ সালে রাষ্ট্রসংঘ লস্কর-ই-তইবার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আমেরিকা হাফিজ সইদকে বিশ্ব সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ২৬/১১-এর মুম্বাই হামলা-সহ ভারতের বড় বড় জঙ্গি হামলায় জড়িত এই সইদ। গত জুলাই মাসে পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় জম্মুর একটি আদালত সইদের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। মুম্বাই পুলিশ এই মামলায় পলাতক ছয় পাকিস্তানি আসামির বিরুদ্ধে 'অনুপস্থিতিতে বিচার' (in absentia trial) প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে ১০ জন জঙ্গি সমুদ্রপথে মুম্বাইয়ে ঢুকে হামলা শুরু করে। পরবর্তী চার দিন ধরে তারা পুরো শহরজুড়ে একাধিক জায়হায় হামলা চালায়, যাতে ১৬৬ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হন। 'অনুপস্থিতিতে বিচার' প্রক্রিয়ায় আসামিরা দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সাজা ঘোষণা করা হবে। তবে তাদের ভারতে ফিরিয়ে আনা হলে তবেই তারা সেই শাস্তির মুখোমুখি হবে। পহেলগাঁও হামলার তদন্তেও সইদের নাম উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হন। গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় হাফিজ সইদের নেতৃত্বাধীন জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার মুরিদকে সদর দফতরে বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। তাতে অংশ নেওয়া পাইলটদের মধ্যে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একজন মহিলা পাইলটও ছিলেন।