
ব্রিটেনের একটি স্কুলে হিন্দু পড়ুয়ার কপালে তিলক পরা নিয়ে বিতর্ক। ধর্মীয় রীতি মেনে তিলক পরার কারণে স্কুলের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে ওই পড়ুয়া। এবার স্কুলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করল তার পরিবার। ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে এবার স্কুলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেছেন ওই পড়ুয়ার বাবা। ৯ বছরের ছেলের হয়ে দায়ের করা এই মামলায় ২৫ হাজার পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্কুলের পোশাকবিধি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি পশ্চিম লন্ডনের অ্যালপারটনের ভিকার্স গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের। অভিযোগকারী পড়ুয়া স্বামিনারায়ণ হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুসারী। ২০২১ সাল থেকে সে নিয়মিত কপালে তিলক-চাঁদলো পরে স্কুলে যেত। এই চিহ্নে থাকে চন্দনকাঠের পেস্ট দিয়ে তৈরি U আকৃতির দাগ এবং মাঝখানে লাল কুমকুমের বিন্দু। পরিবারের অভিযোগ, ২০২৫ সালের শেষের দিকে স্কুলের কর্মীরা ওই তিলক নিয়ে আপত্তি জানাতে শুরু করেন। পড়ুয়ার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়েও তাকে বারবার প্রশ্ন করা হয়।
আদালতে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, তিলক পরার বিষয়টি নিয়ে আপত্তির পর ওই পড়ুয়াকে স্কুল কাউন্সিল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কিছু স্কুলের কার্যকলাপেও তার অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তিলক পরা চালিয়ে যেতে চাইলে তাকে ধর্মীয় স্কুলে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলেও পরিবারের দাবি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির জেরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সন্তানকে ওই স্কুল থেকে সরিয়ে নেন বাবা-মা।
পরিবারের তরফে ব্রিটেনের হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, স্কুলের আচরণে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমানাধিকারের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এই মামলায় তাদের প্রতিনিধিত্ব করছে Ashray Law। পাশাপাশি Action for Harmony নামে একটি হিন্দু সংগঠনও পরিবারকে সহায়তা করছে। অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তিলক পরতে নিষেধ করার অর্থ এই নয় যে পড়ুয়াকে হিন্দুধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে। স্কুলের বক্তব্য, তারা সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টি সামলেছে এবং বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাবও দিয়েছিল। স্কুলের আরও আশঙ্কা, ওই ধর্মীয় চিহ্ন পরার অনুমতি দিলে পড়ুয়াদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এখনও চূড়ান্ত রায় দেয়নি আদালত। আইনজীবী অম্বরিশ লিম্বাচিয়ার বক্তব্য, এই মামলা ব্রিটেনের শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সমানাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে। তবে এখনও আদালতের কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ বা রায় সামনে আসেনি। মামলাটি বিচারাধীন।