
আমেরিকায় ফের হিন্দু মন্দিরে হামলার অভিযোগ। এবার টার্গেট ওহায়ো। সেখানকার একটি হিন্দু মন্দিরে দুষ্কৃতীরা ইট ছুঁড়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন' (HAF)।
এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে তারা জানিয়েছে, "আজ ওহায়োতে হিন্দু মন্দিরে হামলা হয়েছে। দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ রিচমন্ড হাইটসের শ্রী স্বামীনারায়ণ ভড়তাল ধাম হিন্দু মন্দিরে দুষ্কৃতীরা ইট ছোঁড়ে। এতে মন্দিরের বেশ ক্ষতি হয়েছে।" আমেরিকায় ভারতীয়-সহ একাধিক মানুষ যখন লাগাতার হিংসার মুখে পড়ছেন, ঠিক তখনই এই ঘটনা ঘটল। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, "সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা সেটা খতিয়ে দেখছে। @FBI @CivilRights-কেও গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমরা মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং সবরকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি।"
ফাউন্ডেশনের কথায়, "হিন্দু আমেরিকান সম্প্রদায়ের ওপর যেভাবে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি। এই হামলাকে আমরা হেট ক্রাইম বা বিদ্বেষমূলক অপরাধ বলেই মনে করছি। পুলিশের কাছে আমাদের আর্জি, যত দ্রুত সম্ভব দোষীদের গ্রেপ্তার করা হোক।" একইসঙ্গে তারা দেশের নেতা-মন্ত্রী ও সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে আবেদন জানিয়েছে, যাতে ভারতীয় এবং হিন্দু আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ঘৃণামূলক প্রচারের কড়া নিন্দা করা হয়। 'কোয়ালিশন অফ হিন্দুজ অফ নর্থ আমেরিকা' (CoHNA) জানিয়েছে, ওহায়োর গ্রেটার ক্লিভল্যান্ড এলাকার ওই মন্দিরে যখন ইট ছোঁড়া হয়, তখন ভেতরে পুরোহিত এবং ভক্তরা ছিলেন। ইটের ঘায়ে মন্দিরের জানলার কাঁচ ভেঙে যায়। CoHNA-র দাবি, শুক্রবার বিকেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে কেউ আহত হয়েছেন কি না বা ঠিক কতগুলো জানলা ভেঙেছে, তা তারা স্পষ্ট করেনি।
রিচমন্ড হাইটসের মেয়র কিম থমাস এবং পুরসভার আধিকারিকদের কাছে এই ঘটনার কড়া নিন্দার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি পুলিশের কাছেও দ্রুত ব্যবস্থার আর্জি জানিয়েছে তারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা লিখেছে, "আমরা মেয়র কিম থমাস এবং @RichmondHtsOH-এর কাছে এই ধর্মান্ধতার নিন্দা করার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি @PoliceRichmond-কে বলব, দোষীদের বিরুদ্ধে যেন দ্রুত কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়।" তবে বিবৃতিতে কোনও সন্দেহভাজনের নাম বা গ্রেপ্তারি নিয়ে কিছু বলা হয়নি। এমনকি এই হামলার পেছনে সত্যিই কোনও ধর্মীয় কারণ আছে কি না, তারও কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
সংগঠনটি মনে করিয়ে দিয়েছে, ওহায়োতে হিন্দু সম্প্রদায় যখন 'হিন্দু হেরিটেজ মান্থ' বা হিন্দু ঐতিহ্য মাস পালন শুরু করেছে এবং সামনেই নবরাত্রি, ঠিক সেই সময়ই এই ঘটনা ঘটল। আমেরিকায় বিভিন্ন সংগঠন গোটা অক্টোবর মাস জুড়েই এই হিন্দু হেরিটেজ মান্থ পালন করে। আমেরিকায় হিন্দুদের ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা হামলা ও বিদ্বেষ নিয়ে বারবার সরব হয়েছে CoHNA। এর আগে মন্দিরে হামলার বেশ কিছু ঘটনার কথাও তারা তুলে ধরেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের আগস্টে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে শ্রী তুলসী মন্দিরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাঙচুর করা হয়। এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার নেওয়ার্কে এসএমভিএস শ্রী স্বামীনারায়ণ মন্দিরে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি আঁকা হয়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কের মেলভিল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতেও বিএপিএস (BAPS) মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার চিনো হিলসে বিএপিএস মন্দিরেও আপত্তিকর মেসেজ লিখে বিকৃত করা হয়। এর আগে নিউ ইয়র্ক এবং স্যাক্রামেন্টোতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।