
অমেরিকার বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে মিসাইল হামলা চালানোর দাবি করল ইরান। আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-কে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিমান হামলায় হত্যা করার পরেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেভোলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, "আমেরিকার বিমানবাহী জাহাজ আব্রাহাম লিঙ্কনে চারটি ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।" তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, "এই জল ও স্থল সন্ত্রাসবাদী আগ্রাসনকারীদের কবরস্থানে পরিণত হবে।"
জানুয়ারির শেষ থেকে আরব সাগরেই রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা 'অপারেশন এপিক ফিউরি' শুরু করার সময়ে ইরানের একটি জামারান-ক্লাস করভেট যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে।
"অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু হওয়ার সময় মার্কিন সেনার হামলায় ইরানের একটি জামারান-ক্লাস করভেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে চাবাহার বন্দরের কাছে ওমান উপসাগরের গভীরে ডুবে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট যেমনটা বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী, আইআরজিসি এবং পুলিশের সদস্যদের অস্ত্র ত্যাগ করা উচিত। জাহাজ ছেড়ে বেরিয়ে যান।"
"১ মার্চ, সকাল ৯:৩০ মিনিট (ET) পর্যন্ত, অপারেশন এপিক ফিউরি-তে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। আরও বেশ কয়েকজন সামান্য শ্রাপনেলের আঘাতে জখম হয়েছেন এবং তাদের ডিউটিতে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। বড় ধরনের সামরিক অভিযান জারি রয়েছে এবং আমাদের পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে, তাদের পরিচয় প্রকাশ করার আগে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করা হবে।"
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আল জাজিরাকে বলেছেন, "আমেরিকা আলোচনার মাঝেই আমাদের উপর দ্বিতীয়বার হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আমরা সবসময়ই আলোচনার দরজা খোলা রেখেছি।" এরই মধ্যে, দিনের শুরুতে ইজরায়েলি বায়ুসেনা ইরান থেকে ছোড়া কিছু মিসাইল শনাক্ত করে। X-এ একটি পোস্টে তারা জানায়, "কিছুক্ষণ আগে ইরান থেকে ইজরায়েলের দিকে মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে আইডিএফ শনাক্ত করেছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হুমকি মোকাবিলার জন্য কাজ করছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ড ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইলে সরাসরি নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। জনসাধারণকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং নির্দেশিকা মেনে চলতে অনুরোধ করা হচ্ছে - কারণ এটাই জীবন বাঁচাবে। সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুরক্ষিত জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে এবং নতুন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকতে হবে।"