
Iran Fires Ballistic Missiles: ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা। ইজরায়েলের উপর ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। রবিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই হামলাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম সরাসরি ইজরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান। ফলে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার পর যে আপাত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা আবার ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, অন্তত তিন থেকে চার দফায় এই হামলা চালানো হয়। মূল লক্ষ্য ছিল উত্তর ইজরায়েলের বিভিন্ন এলাকা। তবে হামলার সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় হয়ে ওঠে ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
দেশজুড়ে বেজে ওঠে এয়ার রেইড সাইরেন। রাজধানী তেল আভিভ ও জেরুজালেম-সহ একাধিক শহরে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী (IDF) জানিয়েছে, আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে তারা শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইজরায়েল। প্রাথমিকভাবে কোনও বড়সড় প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবুও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সারা দেশে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। জনসমাগমও বাতিল করা হয়েছে এবং নাগরিকদের বাঙ্কার বা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Iran releases footage of missiles launched at Israel in retaliation for the attack on an Iranian petrochemical facility. pic.twitter.com/wiVOldDjxB
— Clash Report (@clashreport) June 8, 2026
ইরান জানিয়েছে, দক্ষিণ বৈরুতে হিজবুল্লার ঘাঁটিতে ইজরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ। তেহরানের দাবি, বৈরুতে হামলা চালিয়ে ইজরায়েল সমস্ত লাল সীমা অতিক্রম করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দেয় ইজরায়েল। সোমবার ভোরে পশ্চিম ও মধ্য ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তেহরানের পাশাপাশি তাবরিজ ও ইসফাহান শহরেও বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। ইরানের সামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই ক্ষেপণাস্ত্র ও পাল্টা হামলার জেরে গোটা অঞ্চলে ফের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা ভেস্তে না দেওয়ার আবেদনও করেছেন তিনি। পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বিটকয়েনের দামেও উল্লম্ফন দেখা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-ইজরায়েল সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও পড়তে পারে।
এখনও পর্যন্ত ইজরায়েলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। দুই পক্ষেরই আরও পাল্টা পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে ফের যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে।