
Iran Strike:মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আগুনে এবার পুড়ে ছারখার হল এক ভারতীয় পরিবারের স্বপ্ন। কুয়েতে ইরানের হামলায় প্রাণ হারালেন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা মনজুর আহমেদ। প্রায় তিন দশক ধরে কুয়েতে দর্জির কাজ করে সংসার চালানো ওই ভারতীয়ের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবার ও গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে কুয়েতে পাড়ি দিয়েছিলেন মনজুর। সেখানেই দর্জির কাজ করে ধীরে ধীরে একটি স্থিতিশীল জীবন গড়ে তুলেছিলেন। স্ত্রী, সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরসা ছিলেন তিনিই। তাঁর উপার্জনের টাকাতেই চলত সংসার, পড়াশোনা করত সন্তানরা। ভবিষ্যতে একটি নতুন বাড়ি তৈরির স্বপ্নও দেখছিল পরিবার।
কিন্তু সেই সমস্ত স্বপ্ন এক মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। কুয়েতে ইরানের হামলার জেরে নিহত হন মনজুর আহমেদ। তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই মধ্যপ্রদেশে বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের দাবি, পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন তিনি। ফলে তাঁর মৃত্যু শুধু মানসিক আঘাতই নয়, পরিবারকে বড় আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখেও ঠেলে দিয়েছে।
মনজুরের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দ্রুত সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের মূল দাবি, যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা হোক এবং পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক। ইতিমধ্যেই কুয়েতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করছে বলে জানা গিয়েছে। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কুয়েতে হামলায় আরও কয়েকজনের হতাহতের খবরও সামনে এসেছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় প্রবাসীদের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতপ্রবণ এলাকায় কাজ করা লক্ষ লক্ষ ভারতীয় শ্রমিক প্রতিনিয়ত নানা ঝুঁকির মধ্যে জীবন কাটান। মনজুর আহমেদের মৃত্যু সেই কঠিন বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এল।
এদিকে মনজুরের গ্রামে তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। মধ্যপ্রদেশ সরকারও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। দীর্ঘ ৩০ বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন, সবকিছুই শেষ হয়ে গেল এক ভয়াবহ হামলায়। আন্তর্জাতিক সংঘাতের অভিঘাত যে কতটা নির্মমভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করতে পারে, মনজুর আহমেদের মৃত্যু যেন তারই এক বেদনাদায়ক উদাহরণ।