
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure 2.0) প্রয়োগের নীতি এবং তেহরানের অনমনীয় অবস্থান এই পরিস্থিতির মূল কারণ।
ট্রাম্পের সমরসজ্জা ও হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে । বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বর্তমানে ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বা অবস্থান করছে। এছাড়া কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান এবং বি-টু স্টিলথ বোমারু বিমানকেও উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ট্রাম্পের সেই ‘সহায়তা আসছে’ বার্তাটি দেওয়ার পর থেকেই মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্পের কাছে সামরিক অভিযানের বিকল্প পথটি সবসময় খোলা রয়েছে।
জেনেভা আলোচনা ও অমীমাংসিত সংকট সামরিক প্রস্তুতির সমান্তরালে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও তাতে খুব একটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জেনেভায় ওমানি দূতের বাসভবনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে একটি ‘ভালো শুরু’ বলে অভিহিত করেছেন, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন যে দুপক্ষের মধ্যে এখনো ‘বিশাল ব্যবধান’ রয়ে গেছে।
ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ও আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা প্রদান বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আপস করতে নারাজ। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরানকে দাবি মানার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হতে পারে।
আমেরিকার এই সামরিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে রাজি নয় তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, মার্কিন নৌবাহিনীকে ‘সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার’ ক্ষমতা ইরানের রয়েছে। এরই মধ্যে ইরান, রাশিয়া এবং চিন উত্তর আরব সাগরে যৌথ নৌ-মহড়া শুরু করেছে, যাকে আমেরিকার প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বছর ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে আমেরিকার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যে হামলা চালিয়েছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। ইজরায়েলও এই উত্তেজনায় শামিল হয়ে ইরানের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক দিন বা সপ্তাহ নির্ধারণ করবে যে মধ্যপ্রাচ্য কি আরও একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পথে হাঁটবে, নাকি শেষ মুহূর্তে কূটনীতির জয় হবে।