
Japan Heads to Mars Moon: মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল জাপান। মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ 'ফোবোস' (Phobos) থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ঐতিহাসিক লক্ষ্য নিয়ে পাড়ি দিল জাপানি মহাকাশযান। মিশনটির নাম দেওয়া হয়েছে 'মার্শিয়ান মুন্স এক্সপ্লোরেশন' বা সংক্ষেপে এমএমএক্স (MMX)। সফল হলে পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ ছাড়া সৌরজগতের অন্য কোনো গ্রহের উপগ্রহ থেকে মাটি বা পাথরের নমুনা সংগ্রহ করে আনার ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে এটাই প্রথম হতে চলেছে।
আজ, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ জাপানের স্থানীয় সময় ভোর ৪টে ৪১ মিনিটে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তানেগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশযানটির সফল উৎক্ষেপণ ঘটে। জাপানের প্রধান ফ্ল্যাগশিপ রকেট 'এইচ-থ্রি' (H3)-র কাঁধে ভর করে এই মানবহীন মহাকাশযানটি উড়ে যায়। এটিই প্রথম ইন্টারপ্ল্যানেটারি বা আন্তঃগ্রহ মিশন, যেখানে এইচ-থ্রি রকেট ব্যবহার করা হয়েছে।
দেখুন ভিডিও
🇯🇵 Japan just launched a spacecraft to a moon of Mars, and it's planning to bring a piece of it home.
The uncrewed probe is headed for Phobos, one of Mars' 2 small moons.
If it pulls this off, it'll be the first mission ever to collect samples from Phobos and return them to Earth.
Writer: Julie
https://t.co/gBRvfpkUr1
— Mario Nawfal (@MarioNawfal) October 20, 2026
জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'জাক্সা' (JAXA)-র নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্তর্জাতিক অভিযানের মূল লক্ষ্য মঙ্গলের বৃহত্তম ও নিকটতম উপগ্রহ ফোবোস। তবে ফোবোসের পাশাপাশি মঙ্গলের অপর ছোট উপগ্রহ 'ডিমোস' (Deimos)-কেও পর্যবেক্ষণ করবে এই যান। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য, ২২ কিলোমিটার প্রস্থ এবং ১৮ কিলোমিটার উচ্চতার আলু আকৃতির অমসৃণ ফোবোস মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৬ হাজার কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে অবস্থান করছে এবং দিনে প্রায় তিনবার লাল গ্রহটিকে প্রদক্ষিণ করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের অগাস্টে মহাকাশযানটি মঙ্গল গ্রহে গিয়ে পৌঁছাবে এবং ফোবোসের কক্ষপথে প্রবেশ করবে। পুরো অভিযানটি সম্পন্ন হতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগবে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ফোবোসের পৃষ্ঠে অন্তত দুটি স্থানে অবতরণের চেষ্টা চালানো হবে, যেখান থেকে ন্যূনতম ১০ গ্রাম নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
এই অভিযানে মূল যানটি অবতরণের আগেই ফোবোসের ভূপ্রকৃতি পরীক্ষার জন্য ‘ইডেফিক্স’ (IDEFIX) নামের একটি ছোট রোভার পাঠানো হবে। ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই রোভারটি প্রায় ১০০ দিন ধরে উপগ্রহটির পৃষ্ঠে কাজ করবে। এরপর মূল যানটি একটি বিশেষ ড্রিলিং বা কোরিং ডিভাইস এবং নিউমেটিক (গ্যাস-ভিত্তিক) স্যাম্পলার ব্যবহার করে নমুনা সংগ্রহ করবে। স্যাম্পলিং প্রক্রিয়াটি ২০২৯ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নমুনা সংগ্রহের কাজ শেষ হলে মহাকাশযানটি মঙ্গলের কক্ষপথ ছেড়ে পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা দেবে এবং ২০৩১ সালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নমুনাভর্তি ক্যাপসুলটি অবতরণ করবে।
এমএমএক্স মিশনে জাক্সার সঙ্গে যৌথভাবে হাত মিলিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA), ফরাসি সংস্থা সিএনইএস (CNES), জার্মানির ডিএলআর (DLR) এবং ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ESA)। মহাকাশযানটিতে ফোবোস এবং সামগ্রিকভাবে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল ও পরিবেশ বিশ্লেষণের জন্য একাধিক বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই মিশন থেকে পাওয়া তথ্য থেকে বোঝা সম্ভব হবে ফোবোস ও ডিমোস কি আদতে গ্রহাণু (Asteroid) ছিল, যাকে মঙ্গলের মহাকর্ষ বল আটকে ফেলেছে; নাকি কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গলের বুকে কোনো প্রকাণ্ড সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ থেকে এদের জন্ম। এমনকি ফোবোসের গায়ে প্রাচীনকালে মঙ্গলে আছড়ে পড়া উল্কাপাত থেকে ছিটকে আসা উপাদান থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। ফলে এই অভিযানের মাধ্যমে শুধু মঙ্গলের ইতিহাসই নয়, সৌরজগতের আদি পর্যায় এবং পৃথিবীর মতো গ্রহগুলিতে জল ও জৈব উপাদানের উপস্থিতি নিয়েও নতুন তথ্য উঠে আসবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।