
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানটি গতকাল দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভ যাচ্ছিল। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার মাঝ আকাশে আচমকাই নিজের কো-পাইলটের হামলার শিকার হন। তিনি রক্তাক্ত অবস্থাতেও যেভাবে ১৩৭ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তা নিয়ে এখন গোটা বিশ্বে চর্চা চলছে। গোটা বিশ্ব (কয়েকটি শত্রু দেশ ছাড়া) তাঁর এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে। ক্যাপ্টেন স্মিত যদি এই তৎপরতা না দেখাতেন, তাহলে হয়তো সব যাত্রীরই মৃত্যু হত। অনেকেই বলছেন, এটা হয়তো ৯/১১-এর মতো আরও একটা বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক ছিল।
এত কিছুর পরেও কর্তৃপক্ষ ওই কো-পাইলটের নাম কেন গোপন রেখেছে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। কে এই ব্যক্তি? তার নাম কী? তার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল? সে কি বিমানে থাকা ইজরায়েলি যাত্রীদের মেরে ফেলার ছক কষেছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সবাই এখন সরকারিভাবে আরও তথ্য সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, ওই কো-পাইলট ওমানের নাগরিক। ইজরায়েলের সঙ্গে ওমানের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এই তথ্য সামনে আসার পরেই বিতর্ক আরও বেড়েছে। অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষের ওপর এখন ইজরায়েল রুটের বিমানগুলোতে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তার নিয়মকানুন ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব এসে পড়েছে।
অন্যদিকে, ক্যাপ্টেন স্মিত FZ 1073 বিমানটিকে ঘুরিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল এই গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারী দল এর পিছনে কোনও জঙ্গি সংগঠনের হাত রয়েছে কি না বা এটা আগে থেকে ছক কষা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে। ফ্লাইদুবাইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাঝ আকাশে ককপিটের ভেতরেই বচসা শুরু হয়। বাকি ক্রু মেম্বারদের পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিমানটিকে সুরক্ষিত রাখতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। এই বিবৃতির ভিত্তিতেই এখন জোরকদমে তদন্ত চলছে।