
Nepal Flood 2026: নেপালে বন্যার তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছিল সবকিছু। হিমালয় কোলঘেঁষা জনপদে নেমে এসেছিল কাদা ও পাথরের ধস। সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে এমন এক অভাবনীয় রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে, তা হয়তো গভীর স্বপ্নেও ভাবেননি উদ্ধারকারীরা। কাদা ও ভাঙাচোরা ঘরের স্তূপ সরাতে গিয়ে উঠে এল এক আশ্চর্য শাড়ি, যার ভাঁজ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ উপস্থিত সকলের।
কমলা রঙের জ্যাকেট পরা একদল উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক তখন অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এক ভেঙে পড়া বাড়ির উঠোন ও তার আশপাশ থেকে মাটি সরানোর কাজ চলছিল। হঠাৎই কাদার মধ্যে কিছু একটা আটকে থাকতে দেখেন এক কর্মী। ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতেই দেখা যায়, থকথকে কাদার নিচে চেপে রয়েছে একটি উজ্জ্বল লাল রঙের কাপড়। কাপড়ের একাংশ টেনে বের করতেই বোঝা যায়, এটি একটি সাধারণ লাল শাড়ি। পরিত্যক্ত ও কাদায় মাখামাখি অবস্থায় পড়ে থাকা সেই শাড়িটি কোনো সাধারণ কাপড় নয়, তা উদ্ধারকারীদের বুঝে নিতে বেশিক্ষণ সময় লাগেনি।
দেখুন ভিডিও
🚨 UPDATE : A man spotted a red sari lying abandoned near his home and alerted the authorities after noticing money inside it. When the team searched the spot, they reportedly found lakhs of rupees hidden in the sari. pic.twitter.com/CC6k416d7m
— indiainlast24hr (@indiain24hr) September 4, 2026
কাদামাখা শাড়িটি একটু সাবধানে উদ্ধার করার পর তা সরাতেই ঘটে সেই অলৌকিক কাণ্ড। শাড়ির ভাঁজ খুলতেই গলগল করে বেরিয়ে আসতে থাকে থোকা থোকা কারেন্সি নোট। বন্যার নোংরা জল ও কাদার চাদরে ঢাকা পড়েছিল একের পর এক টাকার বান্ডিল। শাড়ির ভাঁজে ও আঁচলে এমনভাবে টাকাগুলো মুড়ে রাখা হয়েছিল, যেন কোনো এক জরুরি মুহূর্তে কেউ তাড়াহুড়ো করে লুকিয়ে রেখেছিলেন। কাদা থেকে একের পর এক বান্ডিল বের করতেই চোখ কপালে ওঠে কর্মীদের।
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, উদ্ধারের পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা থেকে শুরু করে কোটি টাকার কোঠাতেও পৌঁছাতে পারে। উদ্ধারকারীরা সঙ্গে সঙ্গেই নোংরা হাতেই নোটগুলো মেঝের কাদার ওপর ছড়িয়ে রেখে গোনা ও পরখ করা শুরু করেন। এই অস্বাভাবিক ঘটনার খবর পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে সেখানে জড়ো হয়ে যায় প্রচুর কৌতূহলী মানুষ। বন্যায় নিঃস্ব হয়ে যাওয়া এলাকার মাঝে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার সন্ধান মিলতেই জনতাই উপচে পড়ে প্রচণ্ড চাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা।
ভিড়ের অনেকেই তখন পকেট থেকে মোবাইল বের করে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করতে শুরু করেন। মানুষের চেঁচামেচি, গুঞ্জন ও উত্তেজনায় পুরো এলাকা একপ্রকার সোরগোলময় ও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। প্রশ্ন ওঠে, এত বিপুল অঙ্কের টাকা এল কোথা থেকে? পরিত্যক্ত এই শাড়ির প্রকৃত মালিক কে? বন্যার গ্রাসে সব কিছু হারিয়ে যাওয়া এলাকায় কি কোনো বেআইনি কাজের টাকা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, নাকি কোনো সাধারণ পরিবার নিজেদের সারাজীবনের সঞ্চয় এভাবে কাপড়ে পেঁচিয়ে রেখে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে হারিয়ে ফেলেছেন?
জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ
বর্তমানে সমগ্র নেপালে ধস ও জলচ্ছ্বাসের পর পুনর্বাসন ও উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে। এই আবহে পরিত্যক্ত লাল শাড়িতে মুড়ানো ওই কাঁচা টাকার কোনও প্রত্যক্ষ দাবিদার ঘটনাস্থলে তখন উপস্থিত ছিলেন না। উদ্ধারকারীরা বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানান। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নেপাল পুলিশের বিশেষ টিম। তাঁরা সম্পূর্ণ উদ্ধার হওয়া নোটের তোড়া বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যান। পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছেন। যে বাড়ির কাছে শাড়িটি পাওয়া গিয়েছে,সেই জমির রেকর্ড এবং ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।