
নেপালের বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫৫০ মেগাওয়াট (MW) কমে গেছে। এই কঠিন সময়ে নেপালকে সহায়তা করতে ভারত এগিয়ে এসেছে। স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে প্রয়োজনে নেপালকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত।
ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বন্যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে নেপাল ভারত থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির অনুমোদন বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছে। নেপালের চাহিদা অনুযায়ী ভারত প্রয়োজনমতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
২৬শে আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ত্রিশূলী ও লেন্দি খোলা নদী অববাহিকায় আকস্মিক বন্যায় নেপালের অনেক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রমও ব্যাহত হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৫৫০ মেগাওয়াট কমে যায়। তবে, বন্যার আগে নেপালের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪,২০০ মেগাওয়াটের বেশি। এর ফলে নেপাল থেকে ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহও প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট কমে গেছে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন যে নেপালে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। যেহেতু ভারতের একটি শক্তিশালী জাতীয় পাওয়ার গ্রিড এবং পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে, তাই সাময়িক ঘাটতি সহজেই মেটানো সম্ভব।
এই আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া এবং নুয়াকোট জেলার বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, সেখানে কর্মরত শত শত শ্রমিক ও কর্মচারী নিখোঁজ রয়েছেন। জানা গেছে, নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ৫৩৭ জন কর্মচারী এখনও নিখোঁজ। তবে, উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসাবশেষ ও কাদায় অবরুদ্ধ সুড়ঙ্গগুলোতে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।