'সৌদি আরবে গিয়ে ভিক্ষা করবেন না' নাগরিকদের অনুরোধ পাকিস্তান সরকারের

Published : Aug 17, 2026, 10:43 AM IST
Pakistan Embassy in Saudi Arabia has warned Pakistani Umrah pilgrims workers against begging and other unlawful activities

সংক্ষিপ্ত

পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ উমরাহ ও কর্মসংস্থানের জন্য সৌদি আরবে যান। তবে, সেখানে কিছু পাকিস্তানি নাগরিকের ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৬ সালের জুন মাসে ভিক্ষা করার জন্য রিয়াদে পাকিস্তানি নাগরিকদের গ্রেফতারও করা হয়েছিল। এখন সৌদি আরবে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস নাগরিকদের অনুরূপ কার্যকলাপের বিষয়ে একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।

পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ উমরাহ ও কর্মসংস্থানের জন্য সৌদি আরবে যান। তবে, সেখানে কিছু পাকিস্তানি নাগরিকের ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৬ সালের জুন মাসে ভিক্ষা করার জন্য রিয়াদে পাকিস্তানি নাগরিকদের গ্রেফতারও করা হয়েছিল। এখন সৌদি আরবে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস তাদের নাগরিকদের অনুরূপ কার্যকলাপের বিষয়ে একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। একটি ভিডিও বার্তায়, পাকিস্তানি দূতাবাস সৌদি আরবে সফররত উমরাহ তীর্থযাত্রী এবং কর্মীদের ভিক্ষাবৃত্তি বা এই জাতীয় কোনও কার্যকলাপে জড়িত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে। দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর লঙ্ঘনের ফলে সৌদি কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।

গ্রেফতার থেকে নির্বাসন

পাকিস্তানি দূতাবাস জানিয়েছে, অবৈধ ভিক্ষাবৃত্তির ফলে গ্রেফতার, নির্বাসন এবং ভবিষ্যতে সৌদি আরবে পুনরায় প্রবেশের উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও সব ধরনের ভিক্ষাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং জানিয়েছে যে বিদেশি নাগরিকদের সাজা শেষ হওয়ার পর নির্বাসিত করা হবে। পাকিস্তান দূতাবাস নাগরিকদের মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলিতে কিছু নির্দিষ্ট কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হুইলচেয়ার সার্ভিস, চুল কাটা বা নাপিতের কাজ করা, অনুদান বা আর্থিক সহায়তা বিতরণ, অর্থ বিনিময় এবং অর্থ ধার দেওয়া। দূতাবাস তার নাগরিকদের সৌদি আরবের আইন সম্পূর্ণরূপে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং বলেছে যে একজন দায়িত্বশীল পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে অবৈধ কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। দূতাবাস এটিকে পাকিস্তানের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখার সঙ্গেও যুক্ত করেছে এবং বলেছে যে সৌদি আইন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২৪ হাজার পাকিস্তানিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে

শুধুমাত্র গত বছরেই ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে সৌদি আরব ২৪ হাজার পাকিস্তানিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। দুবাই ফেরত পাঠিয়েছে প্রায় ৬ হাজার ব্যক্তিকে এবং আজারবাইজান ফেরত পাঠিয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পাকিস্তানি ভিক্ষুককে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি অধিকাংশ পাকিস্তানি নাগরিকের উপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তাদের উদ্বেগের কারণ হল দেশটিতে পৌঁছনোর পর এদের মধ্যে কেউ কেউ 'অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে'। ২০২৪ সালে ‘ওভারসিজ পাকিস্তানি’ বিষয়ক সচিব জিশান খানজাদা জানিয়েছিলেন যে, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে আটক হওয়া মোট ভিক্ষুকদের ৯০ শতাংশই ছিল পাকিস্তানের নাগরিক। এই বিষয়টি বিদেশে পাকিস্তানিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি দেশে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও কোনও সুফল বয়ে আনেনি। ভিক্ষুকদের এই ‘রফতানি’ কেবল সৌদি আরবের মতো দেশগুলোকে অস্বস্তিতেই ফেলছে না, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আইন-কানুন মেনে চলা সাধারণ পাকিস্তানিদের উপরেও। কারণ তাঁদের এখন কঠোর ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারও বেড়ে গেছে

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য ২টো শর্ত চাপাল বাংলাদেশ, একটি হল হাসিনার প্রত্যর্পণ
Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালী নিয়ে কড়া আইন আনছে ইরান, ট্রাম্পকে কড়া বার্তা তেহরানের