
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। করাচিতে সাম্প্রতিক এক হামলা থেকে এই উত্তেজনার সূত্রপাত। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানে রাতে বিমান হামলা চালিয়েছে, এতে ৩৪ জনেরও বেশি নিহত এবং ৪০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো পাক্তিকা ও পাক্তিয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিহত সবাই সাধারণ নাগরিক। টোলো নিউজের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলাগুলো রবিবার রাতে ঘটে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের পাক্তিকা প্রদেশের জ্ঞান জেলা এবং পাক্তিয়া প্রদেশের সামকানি জেলার অসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই হামলায় ৩৪ জনেরও বেশি নিহত এবং ৪০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। সূত্র জানায়, নিহতদের মধ্যে কেউই সেনা সদস্য ছিলেন না; সবাই বেসামরিক নাগরিক।
এছাড়াও জানা গেছে যে, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কুনার প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে। পাক্তিকা পুলিশ কমান্ডের মুখপাত্র মুনিব জাদরান টোলো নিউজকে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার মতে, সামকানি জেলায় এই হামলায় ৩৫ জনেরও বেশি নিহত এবং ৪০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
জাদরান বলেছেন যে, সামকানি জেলার মান্দোখেল এলাকায় বিসমিল্লাহ জান নামের এক বেসামরিক নাগরিকের বাড়িকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর যখন লোকজন বিসমিল্লা জানের বাড়িতে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে ছুটে যায়, ঠিক সেই সময়েই আরেকটি হামলা চালানো হয়। এর মানে হল উদ্ধারকারীরাও এই দ্বিতীয় হামলার শিকার হন। এই বিষয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। আফগানিস্তান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে সাধারণ নাগরিকদের উপর সরাসরি হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী 'রেঞ্জার্স'-এর আঞ্চলিক সদর দফতরে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক-সহ জঙ্গিদের হামলায় তিন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঠিক পরের দিনই এই ঘটনাটি ঘটল। নিরাপত্তা বাহিনী তিন হামলাকারীকে হত্যা এবং অপর একজনকে গ্রেফতার করে। তিনি আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে পাকিস্তানি তালিবানের একটি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী 'জামায়াত-উল-আহরার' করাচির ওই হামলার দায় স্বীকার করে।