
দক্ষিণ এশিয়ায় ফের উত্তেজনা চরমে। আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় বহু সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে যে, এই হামলায় ‘ডজনখানেকেরও বেশি’ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি আফগান প্রশাসনের।
আফগান সরকারের দাবি, পাকিস্তান পূর্ব আফগানিস্তানের Afghanistan–এর একাধিক প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে Nangarhar এবং Paktika প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাসিক এলাকা ও সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু পরিবার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। আফগান মুখপাত্রদের অভিযোগ, এই হামলা সরাসরি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আঘাত।
পাকিস্তানের দাবি কী?
অন্যদিকে পাকিস্তান স্বীকার করেছে যে তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান অভিযান চালিয়েছে। তবে ইসলামাবাদের দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল জঙ্গি ঘাঁটি।
পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য, সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলায় তাদের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের পরই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, সীমান্তের ওপার থেকে জঙ্গিরা তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে এবং আফগান মাটিতে আশ্রয় নিচ্ছে।
গত কয়েক বছরে আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা একাধিকবার বৃদ্ধি পেয়েছে। জঙ্গি দমন, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ তীব্র। আফগান প্রশাসন পাকিস্তানের এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। তারা আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ ও নিন্দা দাবি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। বিশেষ করে United Nations Assistance Mission in Afghanistan (UNAMA) বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পাল্টা হামলা ও সামরিক অভিযানের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। যদি দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।