
Paraguay Political Crisis এক ভয়াবহ আর্থিক কেলেঙ্কারি ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের রাষ্ট্রপতি সাঁতিয়াগো পেনিয়া। দেশটির অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল ব্যাঙ্ক 'উয়েনো ব্যাংক' (Ueno Bank) দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাষ্ট্রপতির ইস্তফা ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্যারাগুয়ের নিম্নকক্ষ 'কংগ্রেস'-এ তাঁর বিরুদ্ধে ৭৮-০ ভোটে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) প্রস্তাব পাশ হয়ে যায়।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি সপ্তাহের শুরুতেই। সর্বনিম্ন মূলধন ও আর্থিক স্থায়িত্বের ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় উয়েনো ব্যাংকের সমস্ত কার্যক্রম বাজেয়াপ্ত করে দেশটির সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক। ব্যাঙ্কের যাবতীয় পরিষেবা, নগদ অর্থ তোলা ও ডেবিট কার্ডের লেনদেন রাতারাতি ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। আর তাতেই বিপাকে পড়েন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ লাখ গ্রাহক। প্যারাগুয়েতে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই এই ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতেন। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনারদের জমানো টাকা পুরোপুরি আটকে পড়ে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও পেনশন ফান্ড মিলিয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি ডলার সেখানে জমা ছিল।
দেখুন ভিডিও
BREAKING: 🇵🇾 What just happened in PARAGUAY is a WARNING for everyone on earth.
More than 3 million people (60% of Paraguay's adult population) have lost access to EVERYTHING. Their bank accounts. Their pensions. Frozen. Inaccessible.
Paraguay’s largest digital bank, Ueno Bank, has collapsed.
The president of the Central Bank (who is deeply connected to Ueno) has just RESIGNED. Eight high-level executives including the founder and the Bank President are being detained.
The people have taken to the streets to demand their money back. And rightly so.
This is the model Milei and the rest of the Epstein class are pushing. This could happen ANYWHERE. Best to save in physical gold and physical silver, imo.
— ADAM (@adamemedia) November 5, 2026
ব্যাঙ্কটির এই আকস্মিক পতনের নেপথ্যে রাষ্ট্রপতি সাঁতিয়াগো পেনিয়ার সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতিকেই দায়ী করছেন ক্ষুব্ধ জনতা। গত বছর মার্চে পর্যন্ত পেনিয়া নিজেই উয়েনো ব্যাংকের মূল সংস্থা 'গ্রুপো ভাসকেস'-এর শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। তা ছাড়া, তিনি রাষ্ট্রপতি পদে বসার পর থেকে ব্যাংকে সরকারি ফান্ডের জমা একলাফে বহুগুণ বেড়ে যায়। এমনকী তিনি সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রধান হিসেবেও বসিয়েছিলেন উয়েনো ব্যাংকেরই এক প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে।
ব্যাঙ্ক বন্ধের খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশের রাজধানী আসুনসিওনসহ দেশের একাধিক শহর উত্তাল হয়ে ওঠে। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন লাখ লাখ আমানতকারী। পার্লামেন্ট ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে।
ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিরোধী দলগুলোর অভিশংসন দাবির মুখে সোশ্যাল মিডিয়া এক্স (X) ও জাতীয় টেলিভিশনে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন পেনিয়া। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, "দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছি, যদি কোনো ভুল করে থাকি। দেশের রাজনৈতিক স্থায়িত্ব, সামাজিক শান্তি ও গণতন্ত্র রক্ষা করতেই আমি ইস্তফা দিচ্ছি।" তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক কারচুপির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁর দাবি, ব্যাংকটির সঙ্গে তাঁর পুরোনো সম্পর্ক স্রেফ এক সাধারণ বিনিয়োগ ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
আইনি সুরক্ষা তুলে নেওয়া হচ্ছে
পেনিয়ার পদত্যাগের পরও তাঁর আইনি সুরক্ষা বা ইমিউনিটি তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সিনেট। ইতিমধ্যেই কেলেঙ্কারির তদন্তে উয়েনো ব্যাংকের একাধিক শীর্ষকর্তাকে আটক করা হয়েছে এবং স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে আগেই ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর। নিয়মানুযায়ী, প্রাক্তন ডানপন্থী ও রক্ষণশীল রাষ্ট্রপতি পেনিয়ার জায়গায় এবার দেশটির শাসনভার সামলাবেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা।