ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিডে সবচেয়ে বড় হামলা চালাল রাশিয়া! কেন এই আক্রমণ? দেখুন ধ্বংসের ছবি

Published : Feb 04, 2026, 08:50 AM IST
ukraine kyiv russia missile attack 27 december 2025 air defense explosion news

সংক্ষিপ্ত

রাশিয়ার ড্রোন ও মিসাইল হামলা: ৪৫০টি ড্রোন ও ৭০টি মিসাইল দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিডে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে। ন্যাটো প্রধানের কিয়েভ সফর ও শান্তি আলোচনার ঠিক আগে কেন এই আক্রমণ? ঠান্ডা, অন্ধকার আর ভয়ই কি রাশিয়ার নতুন কৌশল?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আবার এক ভয়াবহ মোড়ে পৌঁছেছে। যখন গোটা বিশ্ব শান্তির আশা করছিল, ঠিক তখনই রাশিয়া ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিডে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কির মতে, রাশিয়া এক রাতেই প্রায় ৪৫০টি দূরপাল্লার ড্রোন এবং ৭০টি মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, হিটিং এবং জল সরবরাহ ব্যবস্থা। এই হামলা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ন্যাটোর সেক্রেটারি-জেনারেল মার্ক রুটে সমর্থন জানাতে কিয়েভে পৌঁছেছিলেন এবং আমেরিকার মধ্যস্থতায় আবু ধাবিতে শান্তি আলোচনার ঠিক একদিন আগে।

শীতকালে কেন এই হামলা? সাধারণ মানুষকে ভাঙাই কি উদ্দেশ্য?

জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে শীতের সবচেয়ে ঠান্ডা দিনগুলো বেছে নিয়েছে। কিয়েভে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে, এবং এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও হিটিং বন্ধ হয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়া নাগরিকদের অন্ধকার ও ঠান্ডায় রেখে তাদের মনোবল ভাঙতে চায়।

 

 

পাওয়ার গ্রিডে সরাসরি আঘাত: কতটা ক্ষতি হয়েছে?

ইউক্রেনের বৃহত্তম বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থা DTEK জানিয়েছে যে এটি এই বছর বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে হওয়া সবচেয়ে বড় হামলা। হামলায় সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার, থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। শুধু কিয়েভেই ১,১৭০টি অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে হিটিং বন্ধ হয়ে গেছে, এবং বেশ কিছু আবাসিক এলাকা, একটি কিন্ডারগার্টেন ও গ্যাস স্টেশনে আগুন লেগে যায়।

কতজন আহত হয়েছেন? কোন কোন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভ ছাড়াও খারকিভ এবং ওডেসার মতো এলাকাতেও হামলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কিয়েভে অবস্থিত ন্যাশনাল ওয়ার্ল্ড ওয়ার-II মিউজিয়ামেরও ক্ষতি হয়েছে, যাকে ইউক্রেন “প্রতীকী ও নিন্দনীয় হামলা” বলে অভিহিত করেছে।

 

 

ন্যাটো এবং আমেরিকার ভূমিকা কী হবে?

মার্ক রুটে ইউক্রেনের সংসদে বলেছেন যে ন্যাটো দেশগুলো ইউক্রেনের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও সাহায্য চালিয়ে যাবে। তিনি জানান যে ন্যাটোর সদস্যরা ইউক্রেনের এয়ার ডিফেন্সে ব্যবহৃত ৯০% মিসাইল সরবরাহ করেছে। অন্যদিকে, আমেরিকার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত শান্তি আলোচনা থেকে কোনো ठोस ফলাফল পাওয়া যায়নি।

শান্তি আলোচনার আগে কি রাশিয়া চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই হামলা শুধু সামরিক নয়, এর একটি রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। প্রশ্ন হলো, রাশিয়া কি আলোচনার আগে নিজের শক্তি দেখিয়ে শর্ত মানাতে চাইছে, নাকি এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে? ইউক্রেন এই মুহূর্তে শুধু যুদ্ধ নয়, অন্ধকার, ঠান্ডা এবং এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সঙ্গেও লড়াই করছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

AI-এর ফাঁদ পাতা ভুবনে! ChatGPT খুলে দিল প্রেমিকের মুখোশ- জানুন কী করে
মহাজাগতিক বিস্ময়! রাতের আকাশে একসঙ্গে দেখা গেল ৪টি চাঁদ, কীভাবে সম্ভব? দেখুন ছবি