
Saudi Aramco Helicopter Crash: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহের মাঝে ভয়বাহ কপ্টার দুর্ঘটনা। সৌদি আরবের পূর্ব উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র রাস তানুরায় ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ১৪ জন। রবিবার সকালে সৌদি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা সকলেরই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি প্রশাসন। মৃতদের প্রত্যেকেই সৌদি আরবের নাগরিক। বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী সংস্থা সৌদি আরামকোর অধীনেই পরিচালিত হচ্ছিল ওই হেলিকপ্টারটি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাস তানুরা বিমানবন্দর থেকে একটি অফশোর তেল স্থাপনায় যাওয়া-আসার দায়িত্বে ছিল সেটি। তবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
দুর্ঘটনার পরই পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সৌদি সরকার। জ্বালানি মন্ত্রক-সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা তদন্তে নেমেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি, খারাপ আবহাওয়া, চালকের ভুল নাকি অন্য কোনও মানবিক ভুল, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থার তরফে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কোনও প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।
দেখুন দুর্ঘটনার ভিডিও
Reuters: Helicopter belonging to Saudi oil giant Aramco, crashed on Sunday in Ras Tanura on Saudi Arabia's eastern coast west of the Strait of Hormuz, killing 14 nationals#SaudiArabia #SaudiAramco #BreakingNews #HelicopterCrash #RasTanura #StraitOfHormuz #Aviation #NewsAlert pic.twitter.com/DxHTtsigXt
— VIRAL VOLT (@ViralVolT1) June 28, 2026
রাস তানুরা সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র। পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই অঞ্চলেই রয়েছে আরামকোর বৃহৎ তেল শোধনাগার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল রফতানির অন্যতম প্রধান টার্মিনাল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি এই টার্মিনাল থেকে ফের অপরিশোধিত তেল রফতানি শুরু হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত হেলিকপ্টারটি আরামকোর বহরে ব্যবহৃত লিওনার্দো AW139 মডেলের হতে পারে। যদিও সংস্থার তরফে এখনও সেই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
শোকের ছায়া, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৪টি পরিবারের উপর নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ইতিমধ্যেই জর্ডন-সহ একাধিক দেশ সৌদি আরবের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার জেরে তেল উৎপাদন বা রফতানির কাজে কোনও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তেল ও গ্যাস শিল্পে অফশোর স্থাপনায় কর্মীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে এই দুর্ঘটনা শিল্পক্ষেত্রে বিমান নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা প্রোটোকল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।