
তাইচুং (তাইওয়ান): চিনের সম্ভাব্য হামলা কীভাবে ঠেকানো যায়, তার মহড়া হিসেবে তাইওয়ান সরাসরি চিনের দিকেই রকেট ছুড়েছে। আমেরিকার দেওয়া অত্যাধুনিক মোবাইল লঞ্চিং সিস্টেম ব্যবহার করে এই মহড়া চালানো হয়। এই 'শুট অ্যান্ড স্কুট' মোবাইল লঞ্চারগুলো থেকে বেশ আগ্রাসী ভঙ্গিতেই রকেট ছোড়া হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে জায়গা বদলাতে পারে।
চিনের ঠিক উল্টোদিকে, তাইওয়ানের পশ্চিম উপকূলে এই সামরিক মহড়ার দ্বিতীয় দিনে রকেটগুলো ছোড়া হয়। এর পাশাপাশি ১৫৫ এমএম হাউইৎজারও ব্যবহার করা হয়। রকেটগুলো তাইওয়ান প্রণালীর দিকে ছোড়া হয়, যা তাইওয়ানকে চিন থেকে আলাদা করেছে। তবে রকেটের পাল্লা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল যাতে তা উপকূল থেকে বেশি দূরে না গিয়ে জলেই পড়ে। হাইমার্স (HIMARS) নামে পরিচিত এই মার্কিন লঞ্চার তাইওয়ান আগেও পরীক্ষা করেছে, কিন্তু এই প্রথমবার তারা চিনের দিকে রকেট ছুড়ল। তাইওয়ানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের হুমকির কথা মাথায় রেখে হাইমার্স-এর প্রশিক্ষণ চলতেই থাকবে।
চিন তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দেখে এবং মনে করে, খুব শীঘ্রই একে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। এই কারণে চিন প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের কাছাকাছি যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠায়। সম্প্রতি সেখানে বড় আকারের সামরিক মহড়াও করেছে তারা। অন্যদিকে, আমেরিকা তাইওয়ানকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও, জোর করে দখল করার বিরোধী। তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহকারী প্রধান দেশ হল আমেরিকা।
হাইমার্স অর্থাৎ হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম আসলে কম খরচের একটি রকেট লঞ্চার। বিপুল টাকা খরচ করে চিনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে, চিনকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্যই এটি ডিজাইন করা হয়েছে। ট্রাকে বসানো এই রকেট পড যেকোনো গোপন জায়গা থেকে দ্রুত বেরিয়ে এসে মিসাইল ছুড়তে পারে এবং তারপর সঙ্গে সঙ্গে আবার নতুন কোনো গোপন জায়গায় লুকিয়ে পড়তে পারে।
ডিসেম্বরে আমেরিকা ঘোষণা করেছিল যে তারা তাইওয়ানকে আরও ৮২টি হাইমার্স সিস্টেম বিক্রি করবে। কিন্তু গত মাসে ট্রাম্প বেইজিং গিয়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করার পর সেই সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।