
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন যে ইজরায়েল এবং লেবানন এক 'ঐতিহাসিক' আলোচনায় বসতে চলেছে। তিন দশকেরও বেশি সময় পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে এত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হতে চলেছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যালে' ট্রাম্প একটি পোস্টে লেখেন, "ইজরায়েল আর লেবাননের মধ্যে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। দুই দেশের নেতারা শেষবার কথা বলেছিলেন প্রায় ৩৪ বছর আগে। কাল এটা হতে চলেছে। দারুণ ব্যাপার!"
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইজরায়েলি সেনা এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাতের আবহে এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘোষণা এমন একটা সময়ে ট্রাম্প করেছেন, যখন ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শত্রুতা এবং বিক্ষিপ্ত সংঘাত বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে এমন একটা কূটনৈতিক পদক্ষেপকে বড় ব্রেকথ্রু হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার আমেরিকা, ইজরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়। ১৯৯৩ সালের পর এটাই ছিল তাদের প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরাসরি আলোচনা শুরু করা। তিন পক্ষই যুদ্ধবিরতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং একটি বৃহত্তর শান্তি চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও, কাউন্সেলর মাইকেল নিডহ্যাম, লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিসা এ জনসন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েকিয়েল লিটার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াদ।
আমেরিকা এই বৈঠককে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। তারা লেবানন সরকারের বলপ্রয়োগের একচেটিয়া অধিকার পুনরুদ্ধার এবং বাইরের প্রভাব কমানোর পরিকল্পনাকে সমর্থন করে।
ওয়াশিংটন আশা প্রকাশ করেছে যে এই আলোচনা ২০২৪ সালের চুক্তির পরিধি ছাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির দিকে এগোবে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহর ক্রমাগত আক্রমণের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকেও তারা সমর্থন জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শত্রুতা বন্ধ করার যেকোনো চুক্তি অবশ্যই দুই দেশের সরকারের মধ্যে হতে হবে এবং আমেরিকা এর মধ্যস্থতা করবে, অন্য কোনো পথে নয়। আমেরিকা জোর দিয়ে বলেছে যে এই আলোচনার মাধ্যমে লেবাননের জন্য বড় ধরনের পুনর্গঠন সহায়তা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ খুলতে পারে। এছাড়া দুই দেশের জন্যই বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে।
ইজরায়েল জানিয়েছে, তারা লেবাননের সমস্ত বেসরকারি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিরস্ত্র করা এবং সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়ার পক্ষে। তারা আরও জানিয়েছে যে দুই দেশের মানুষের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লেবানন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইজরায়েল সমস্ত অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের জন্য সরাসরি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, যাতে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্ভব হয় এবং এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বাড়ে।
অন্যদিকে, লেবানন ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা পুরোপুরি কার্যকর করার জরুরি প্রয়োজনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং পূর্ণ সার্বভৌমত্বের নীতির ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট তীব্র মানবিক সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে লেবানন।