সুপ্রিম কোর্টে হারের পরেই পাল্টা চাল, সব দেশের ওপর ১০% শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প

Saborni Mitra   | ANI
Published : Feb 21, 2026, 09:27 AM IST
Donald Trump

সংক্ষিপ্ত

Trump's Tariff: সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ হারে বিশ্বব্যাপী শুল্ক চাপানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। 

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে শুল্ক নিয়ে বড়সড় আইনি ধাক্কা খাওয়ার পরেই পাল্টা চাল দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (মার্কিন স্থানীয় সময়) তিনি সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ হারে বিশ্বব্যাপী শুল্ক বসানোর একটি নির্দেশে সই করেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত "প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই" কার্যকর হবে।

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প এই ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন, "ওভাল অফিস থেকে এইমাত্র সব দেশের ওপর ১০% বিশ্বব্যাপী শুল্ক চাপানোর নির্দেশে সই করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত। এই সিদ্ধান্ত প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।"

নতুন আইন না কার্যকর হওয়ার আগে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতক্ষণ না অন্য কোনও আইন আনা হচ্ছে, ততক্ষণ এই নতুন শুল্ক বলবৎ থাকবে। তিনি আমেরিকার বাণিজ্যিক সঙ্গীদের সব চুক্তি মেনে চলার পরামর্শও দিয়েছেন। এই নতুন ১০% শুল্ক ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদী বাণিজ্য নীতিরই একটি অংশ, যার লক্ষ্য হল আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি এবং অন্যান্য দেশের 'অন্যায্য' বাণিজ্য নীতির মোকাবিলা করা।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়

আসলে, এই ঘোষণার ঠিক আগেই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে জানায় যে, ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে শুল্ক আরোপ করেছিল, তা বেআইনি। সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দেয় যে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৭ সালের 'ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট' (IEEPA) ব্যবহার করে যেভাবে ঢালাও আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিল, তা তার আইনি ক্ষমতার বাইরে।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে "ভয়ংকর সিদ্ধান্ত" বলে কটাক্ষ করেন। এরপরেই তিনি জানান যে, এবার তিনি ১৯৭৪ সালের 'ট্রেড অ্যাক্ট'-এর ১২২ নম্বর ধারা ব্যবহার করে ১০% বিশ্বব্যাপী শুল্ক চাপানোর জন্য একটি এগজিকিউটিভ অর্ডারে সই করবেন। এই আইন অনুযায়ী, দেশের বাণিজ্য ঘাটতি সামাল দেওয়ার জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫% পর্যন্ত আমদানি সারচার্জ বসাতে পারেন।

ট্রাম্প বলেন, "সেকশন ২৩২ (জাতীয় নিরাপত্তা) এবং সেকশন ৩০১ (অন্যায্য বাণিজ্য) এর অধীনে থাকা সমস্ত শুল্ক আগের মতোই বহাল থাকছে... আজ আমি ১২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী একটি নির্দেশে সই করব, যা আমাদের সাধারণ শুল্কের ওপরে অতিরিক্ত ১০% বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপ করবে।"

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং বিচারপতি নীল গরসাচ, অ্যামি কোনি ব্যারেট ও অন্য তিন উদারপন্থী বিচারপতি সংখ্যাগরিষ্ঠতার পক্ষে রায় দেন। তাঁদের মতে, মার্কিন সংবিধানে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছে, প্রেসিডেন্টকে নয়। IEEPA আইন প্রেসিডেন্টকে সেই ক্ষমতা দেয় না।

অন্যদিকে, বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো, ক্ল্যারেন্স থমাস এবং ব্রেট কাভানো ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁরা জরুরি ক্ষমতার ক্ষেত্রে প্রশাসনের বৃহত্তর ব্যাখ্যাকে সমর্থন করেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে কোটি কোটি ডলারের শুল্ক বাতিল হয়ে গেছে। এর জেরে সরকারকে প্রায় ১৩০ থেকে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আদায় করা রাজস্ব ফেরত দিতে হতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকার প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ব্যাপক হারে আমদানি শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা IEEPA আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টের নেই। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই বলেছেন যে, আদালত "ভুলভাবে যে শুল্ক বাতিল করেছে", তার জায়গায় "অন্য বিকল্প ব্যবহার করা হবে"। তিনি বলেন, "আদালত ভুলভাবে যা বাতিল করেছে, তার জায়গায় এখন অন্য বিকল্প ব্যবহার করা হবে। আমাদের কাছে বিকল্প আছে। হয়তো আরও বেশি টাকা আসবে... আমরা কোটি কোটি ডলার আয় করেছি। আমরা তা চালিয়ে যাব।"

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Trump Tariffs Declared Illegal: ট্রাম্পের শুল্ককে অবৈধ বলে খারিজ সুপ্রিম কোর্টের, কী কারণে হোঁচট খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
Sea Level Rise: সাগরের জলস্তর বাড়লে বিপদে পড়বে ১০ কোটি বাড়িঘর!