
Vishnu temple Strait of Hormuz: যে ইরানে ৯৯% মানুষ মুসলিম, সেখানেই আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক বিষ্ণু মন্দির। হরমুজ প্রণালীর ধারে বন্দর আব্বাস শহরে ১৮৯২ সালে এই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন ভারতীয় হিন্দু ব্যবসায়ীরা। গুজরাটি ব্যবসায়ীদের অর্থে তৈরি এই মন্দিরের গায়ে আজও রয়েছে শ্রীকৃষ্ণের ছবি। সম্প্রতি অমিতাভ বচ্চন ভিডিও শেয়ার করতেই ভাইরাল হয়েছে এই ইতিহাস।
ভাবুন তো, ইরানের মতো একটি ইসলামিক দেশে, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জলপথ হরমুজ প্রণালী, তার একদম গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটি বিষ্ণু মন্দির। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।
বন্দর আব্বাস শহরে অবস্থিত এই মন্দিরটি আজও ভারত ও ইরানের শতাব্দী প্রাচীন বন্ধুত্বের সাক্ষী হয়ে আছে। সম্প্রতি অমিতাভ বচ্চন তাঁর ইনস্টাগ্রামে এই মন্দিরের ভিডিও শেয়ার করার পর থেকেই এটি নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।
ইতিহাস বলছে, ১৮৮৮ সালে ইরানের ইতিহাসবিদ মোহাম্মদ আলী সাদিদ-অল-সালতানেহ-র নথি অনুযায়ী, বন্দর আব্বাসে ব্যবসা করা ভারতীয় হিন্দু ব্যবসায়ীরা একটি মন্দির তৈরির অনুমতি চান। বিশেষ করে গুজরাটের শিকরপুরের ধনী ব্যবসায়ীরা তখন হরমুজ দিয়ে ব্যবসা করতেন।
তৎকালীন শাসক মোহাম্মদ হাসান খান সাদ-অল-মালেক সেই অনুমতি দেন। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চাঁদায় ৪ বছর ধরে তৈরি হয়ে ১৮৯২ সালে (১৩১০ হিজরি) মন্দিরটি সম্পূর্ণ হয়। এটি তৈরি করা হয়েছিল মূলত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে কাজ করা ভারতীয়দের উপাসনার জন্য।
এই মন্দিরের স্থাপত্য একেবারে ইউনিক। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে ইরানের কোনও মসজিদ, কারণ এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি বড় গম্বুজ, যা সাধারণত হিন্দু মন্দিরে দেখা যায় না। গম্বুজের ভিতরে ইসলামিক মুকারনাস ডিজাইন, আর বাইরে ৭২টি ছোট টাওয়ারে হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি।
মন্দিরটি প্রবাল পাথর, চুন ও মাটি দিয়ে তৈরি। ভিতরের করিডোরে আজও শ্রীকৃষ্ণের ছবি আঁকা রয়েছে। স্থানীয়রা হিন্দুদের এই মন্দিরকে 'বোতগুরান' বা ' গুরান' বলে ডাকে।
দেশভাগ ও ব্যবসা কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ভারতে ফিরে আসেন, মন্দিরটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। বহু বছর খারাপ অবস্থায় পড়ে থাকার পর ইরান সরকার ১৯৯৮ সালে এটিকে সংস্কার করে এবং জাতীয় ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে এটি একটি মিউজিয়াম হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পর্যটকরা ভিতরে কৃষ্ণের ছবি ও স্থাপত্য দেখতে পারেন।
হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই বিষ্ণু মন্দির প্রমাণ করে, ধর্মের ঊর্ধ্বে গিয়ে কীভাবে ভারতীয় সংস্কৃতি আজও বিদেশের মাটিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।