
ইউক্রেন সংঘাত মেটাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চেষ্টার প্রশংসা করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মোদীর কাছে বেশ কিছু "ভালো আইডিয়া" আছে।
এক জনসভায় পুতিন বলেন, "আমাদের মধ্যে খুব ভালো এবং ব্যক্তিগত স্তরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এমন একজন বিশ্বনেতা যিনি ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর বিষয়টি নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলেন।" তিনি আরও জানান, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটা সমাধান খোঁজার জন্য মোদী সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুতিনের কথায়, "সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার বিষয়ে নরেন্দ্র মোদীর গভীর আগ্রহ এবং খুব ভালো কিছু আইডিয়া রয়েছে। সেই দিক থেকে দেখলে, প্রধানমন্ত্রী স্বাভাবিকভাবেই একটা নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন, তবে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে তাঁর যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। আমার মনে হয়, এটা সরাসরি বলা আমার কর্তব্য। আর তাঁর এই আইডিয়াগুলোর জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।"
আলোচনার মাধ্যমে এই সংঘাত মেটানোর জন্য মোদীর চেষ্টা এবং ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য পুতিন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, "যত দ্রুত সম্ভব এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই যুদ্ধ থামানোর যে ইচ্ছা তাঁর রয়েছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।" প্রধানমন্ত্রী মোদী বারবার শান্তির ডাক দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে ভারত সবসময় একটা নীতিগত এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে।
গত অগাস্ট মাসে জাপান সফরের সময় সেদেশের সংবাদমাধ্যম 'দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথাগুলো বলেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, "এই সংঘাতে ভারত একটা নীতিগত এবং মানবিক অবস্থান নিয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দুজনেই সমানভাবে প্রশংসা করেছেন। এর পাশাপাশি, এই সংঘাতের বিষয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি জানাতে দুই নেতাই আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি ভারতের নীতিগত এবং ধারাবাহিক অবস্থানের কথা আবার মনে করিয়ে দিয়েছি এবং সংঘাত মেটাতে আলোচনা ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছি।"
দুই দেশের মধ্যে শান্তি ফেরাতে ভারত কী ভূমিকা নিতে পারে, এমন এক প্রশ্নের জবাবে মোদী বলেন, "সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য যেকোনো অর্থবহ চেষ্টাকে সমর্থন করতে ভারত যে প্রস্তুত, তা আমি আগেই জানিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, মূল অংশীদারদের পাশাপাশি দুই পক্ষের সঙ্গেই আমাদের ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে, ইউক্রেনে দ্রুত এবং স্থায়ী শান্তি ফেরানোর চেষ্টাকে আমরা আরও জোরদার করতে পারি।"
মোদী এবং পুতিনের শেষবার দেখা হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে, নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সামিটের ফাঁকে। সেখানে তাঁরা ২০৩০ সালের অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচির বাস্তবায়ন-সহ বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মজবুত করা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি পরিকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়।