
বাংলাদেশ আর ভারতের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। ঢাকা ট্রিবিউনে লেখা এক বিস্তারিত বিশ্লেষণে হুমায়ুন আহমেদ শ্রাবণ ঠিক এই কথাই বলেছেন। তাঁর মতে, দুই দেশের বিক্ষোভের মধ্যে কোনও তুলনাই চলে না। কারণ, বাংলাদেশে যেখানে ১৪০০-র বেশি মানুষ মারা গেছেন, সেখানে ভারতে বিক্ষোভকারীদের আটক করে ওই দিন সন্ধেবেলাই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তার জেরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইস্তফা দিতে হয়। শ্রাবণ তাঁর লেখায় মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতেই প্রথমে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরে সরকারের কড়া পদক্ষেপের কারণেই তা গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়। তিনি আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি ভারতে নেই। ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার অনেকগুলো রাস্তা খোলা আছে।
সত্তরের দশকে ভারতে জয়প্রকাশ নারায়ণের (JP) নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের কথাও ঢাকা ট্রিবিউনের ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার পরেও ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারকে হারের মুখ দেখতে হয়েছিল। গণতন্ত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করার অধিকার থাকাটা যে জরুরি, সে কথাও শ্রাবণ লিখেছেন। তাঁর কথায়, "বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ভারতীয় বিক্ষোভকারীদের কাছে একটা সতর্কবার্তা হতে পারে ঠিকই, কিন্তু ভারতের নিজস্ব সাংবিধানিক ব্যবস্থায় যে সুযোগগুলো রয়েছে, সেগুলোকেও এড়িয়ে গেলে চলবে না।"
ঢাকা ট্রিবিউন আরও জানিয়েছে, ভারতেও বিক্ষোভের ফল একই হবে, এমনটা ধরে নেওয়ার মানে হলো স্থানীয় রাজনীতিকে উপেক্ষা করা এবং "রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অতিরিক্ত সরল করে দেখা।"
ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এ বেনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এখন ভারতে বিক্ষোভ চলছে। আর এই বিক্ষোভের আবহে 'সরকার বদল' বা 'রেজিম চেঞ্জ' শব্দবন্ধের ব্যবহার নিয়ে জোর রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ইতিমধ্যেই বিরোধী দল কংগ্রেস এবং তাদের শরিকদের বিরুদ্ধে ভারতেও বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনী সংস্কারের বদলে দেশে অশান্তি তৈরি করাই এই বিক্ষোভের আসল উদ্দেশ্য। লখনউতে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজনাথ বলেন, "দেশের যুবসমাজকে নৈরাজ্যবাদী রাজনীতির দাবার বোড়ে বানানোর চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের ধাঁচেই এখানেও সরকার বদলের চেষ্টা হচ্ছে।"
'সরকার বদল' শব্দবন্ধের ব্যবহারকে সমর্থন করায় কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমের কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারিও। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়াটা মোটেও গণতান্ত্রিক নয়, বরং এর মাধ্যমে বিরোধীদের 'নৈরাজ্য'ই প্রকাশ্যে আসছে।
'সরকার বদল' কথাটি নিয়ে বিজেপির এমন প্রতিক্রিয়াতেই পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন চিদম্বরম। তিনি একে গণতন্ত্রের একটা স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বলেই দাবি করেন। এক্স (X) হ্যান্ডেলে এই কংগ্রেস নেতা লেখেন, "'সরকার বদল' শব্দবন্ধের ব্যবহার নিয়ে বিজেপি কেন এমন মেকি রাগ দেখাচ্ছে? গণতন্ত্রে 'সরকার বদল' তো একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।"