সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খেটেও পকেট ফাঁকা। ব্যবসায় আগে যে খদ্দের লাইন দিত, আজ সে দোকানের সামনে দিয়েও তাকায় না। বাড়িতে ছোটখাটো কথা নিয়েও চিৎকার চেঁচামেচি। ছেলের চাকরির ইন্টারভিউ ভালো হয় অথচ শেষে ফোন আসে না। এমন হচ্ছে আপনার সাথেও?
জ্যোতিষী আর বাস্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর পিছনে বড় কারণ হতে পারে বাড়ির বাস্তুদোষ আর নেগেটিভ এনার্জি। কেউ হয়তো চোখ দিয়েছে, নয়তো বাড়ির বাতাসটাই ভারী হয়ে আছে। পুজো পাঠ করেও যখন কাজ হচ্ছে না, তখন তাঁরা একটা খুব সহজ, সস্তা কিন্তু পরীক্ষিত উপায়ের কথা বলছেন। আর সেটা হল আমাদের সবার ঘরে থাকা ফিটকিরি।
শুনে হাসি পেলেও বাস্তুশাস্ত্র মতে ফিটকির মধ্যে আছে নেগেটিভ এনার্জি শুষে নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা। একে বলা হয় "প্রাকৃতিক শুদ্ধিকারক"। দাড়ি কাটার পর রক্ত বন্ধ করা থেকে শুরু করে জল পরিষ্কার করা, সব জায়গায় এর ব্যবহার। এবার ব্যবহার করুন জীবনের বাধা কাটাতে।
১. সংসারে শান্তি ফেরাতে এই টোটকা: বাড়িতে কি সারাদিন কথা কাটাকাটি লেগেই আছে? স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, ছেলে-মেয়ে কথা শুনছে না। বাস্তু মতে এর কারণ বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে নেগেটিভ এনার্জি জমা। এর সমাধান হল এক টুকরো ফিটকিরি লাল রঙের কাপড়ে বেঁধে বেডরুমের ওই কোণায় রেখে দিন। খেয়াল রাখবেন ফিটকিরিটা যেন কারোর নজরে না পড়ে। প্রতি শনিবার পুরনো ফিটকিরিটা বাড়ির বাইরে ফেলে দিয়ে নতুন টুকরো রাখুন। মাত্র ২১ দিনেই দেখবেন বাড়ির পরিবেশ অনেক শান্ত হয়ে গেছে।
২. ব্যবসা-চাকরিতে উন্নতি আর টাকা ফেরত পেতে : দোকানে খদ্দের নেই, অফিসে প্রমোশন আটকে আছে, কাউকে টাকা ধার দিয়ে ফেরত পাচ্ছেন না। বৃহস্পতিবার সকালে স্নান করে এক বালতি জলে এক চামচ ফিটকিরি গুঁড়ো ভালো করে গুলে নিন। সেই জল দিয়ে প্রথমে দোকান বা অফিসের মেঝে, তারপর ক্যাশবাক্স আর মূল দরজা মুছুন। মুছতে মুছতে মনে "ওম শ্রীং মহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ" জপ করুন। বাস্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন এতে চোখ লাগা কাটে আর আটকে থাকা টাকার রাস্তা খোলে।
৩. বাড়ি থেকে নেগেটিভ এনার্জি আর বাস্তুদোষ তাড়াতে: যদি মনে হয় বাড়িতে ঢুকলেই মন খারাপ হয়ে যায়, শরীর ভার লাগে, তাহলে বাড়ির মূল দরজার পাল্লার ভিতরের দিকে একটা কালো সুতোয় ফিটকিরি বেঁধে ঝুলিয়ে দিন। আরেকটা উপায় হল বাড়ির চার কোণে চার টুকরো ফিটকিরি রেখে দেওয়া। ৭ দিন পর ওই ফিটকিরি গুলো তুলে বয়ে যাওয়া জলে বা পুকুরে ভাসিয়ে দিন। ভুলেও ডাস্টবিনে ফেলবেন না। কারণ ওগুলো বাড়ির সব খারাপ শক্তি নিজের মধ্যে টেনে নিয়েছে।
৪. পড়াশোনা আর ইন্টারভিউয়ের বাধা কাটাতে: পরীক্ষার আগে সব পড়া গুলিয়ে যায়? ইন্টারভিউ ভালো দিয়েও সিলেকশন হয় না? আপনার পড়ার টেবিল বা অফিসের ড্রয়ারের ডানদিকের কোণায় একটা ছোট ফিটকিরির টুকরো রেখে দিন। প্রতিদিন সকালে ওটার দিকে তাকিয়ে ৩ বার "ওম গং গণপতয়ে নমঃ" বলুন। বাস্তু মতে ফিটকিরি মস্তিষ্কের নেগেটিভ চিন্তা দূর করে আর মনোযোগ বাড়ায়। ফলে কনফিডেন্সও বাড়ে।
৫. ভালো ঘুম আর দুঃস্বপ্ন দূর করতে : অনেকেই আছেন যারা রাতে ঠিক করে ঘুমাতে পারেন না। বারবার ঘুম ভেঙে যায় বা বাজে স্বপ্ন আসে। এর কারণ ঘরের নেগেটিভ ভাইব্রেশনও হতে পারে। শোয়ার আগে বালিশের নিচে একটা ছোট ফিটকির টুকরো রেখে দিন। সকালে ঘুম থেকে উঠেই সেটা বাড়ির বাইরে ফেলে দিন। দেখবেন ৭ দিনের মধ্যে ঘুম অনেক গভীর হবে আর সকালে ফ্রেশ লাগবে।
প্রথমত যে ফিটকিরি টোটকার কাজে ব্যবহার করবেন সেটা আর কোনোদিন রান্না বা খাওয়ার কাজে ব্যবহার করবেন না। দ্বিতীয়ত ব্যবহারের পর ফিটকিরি বাড়িতে রাখবেন না। বাইরে ফেলে দিন বা জলে ভাসিয়ে দিন। তৃতীয়ত রবিবার, মঙ্গলবার বা অমাবস্যার দিন এই টোটকা শুরু করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।
দেখুন ফিটকিরি কোনো জাদু নয়। এটা আপনার মনকে পজিটিভ রাখার আর বিশ্বাসের একটা মাধ্যম। সাথে নিজের কর্ম আর চেষ্টা থাকতেই হবে। যদি সব চেষ্টার পরেও মনে হয় কোথাও আটকে যাচ্ছে, তাহলে এই ১০ টাকার টোটকা একবার করে দেখুন। বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর।