
চুল আঁচড়ালেন, ঝরে পড়া চুল হাতের কাছে যা পেলেন সেখানেই ফেলে দিলেন। বাথরুমের সিঙ্কে, বিছানার চাদরে, অফিসের টেবিলে, এমনকি রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে। "এ আর এমন কী" ভেবে আপনি উড়িয়ে দিলেও বাস্তুশাস্ত্র আর পুরোনো ঠাকুমা-দিদিমারা মাথা নাড়েন। তারা বলছেন, এই ছোট ভুলটাই ডেকে আনতে পারে চরম অমঙ্গল।
*বাস্তু-জ্যোতিষ কী বলছে? চুল ফেলার ৩টে কুফল:*
*কুফল ১: টাকা-পয়সা আটকে যায়, দারিদ্র্য আসে*:
বাস্তু মতে চুল হলো "শনির কারক"। শনি মানে কর্মফল। যেখানে-সেখানে চুল ফেললে শনির অশুভ দৃষ্টি পড়ে। ফলে আয়ের রাস্তা বন্ধ হয়। ব্যবসায় লোকসান, চাকরিতে প্রমোশন আটকে যায়। ঘরের উত্তর-পূর্ব কোণে চুল জমলে "কুবের স্থান" দূষিত হয়। তাই লোকবিশ্বাস - চুল ফেলতে হয় কাগজে মুড়ে বা জলে ভাসিয়ে।
*কুফল ২: শত্রু বৃদ্ধি + বদনজর লাগে*
তন্ত্রশাস্ত্রে চুল, নখ, রক্ত দিয়ে "অভিচার" করা হয়। আপনার ফেলে দেওয়া চুল কেউ পেয়ে গেলে আপনার ক্ষতি করতে পারে - এই বিশ্বাস যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তাই মা-ঠাকুমারা বলতেন চুল পুড়িয়ে ফেলতে বা গঙ্গায় ভাসাতে। চুল রাস্তায় পড়ে থাকলে শত্রু আপনার নামে কুনজর দিতে পারে।
*কুফল ৩: সংসারে অশান্তি + সম্পর্ক নষ্ট*
বাস্তু বলছে, বিছানা, সোফা, রান্নাঘরে চুল পড়ে থাকলে "নেগেটিভ এনার্জি" তৈরি হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অকারণে ঝগড়া বাড়ে। বাচ্চারা জেদি হয়। ঘরে শান্তি থাকে না। কারণ চুল হলো মৃত কোষ, এটা পচে গিয়ে দূষণ তৈরি করে।
*ডাক্তাররা কী বলছেন? অমঙ্গলের পাশাপাশি ৩টে রোগের ঝুঁকি:*
*ঝুঁকি ১: ড্রেন জ্যাম + ফাঙ্গাল ইনফেকশন*
চুল জলে গলে না। বাথরুমের সিঙ্ক বা শাওয়ারের ড্রেনে চুল জমে পাইপ বন্ধ হয়ে যায়। প্লাম্বার ডাকতে ৫০-১০ টাকা গচ্চা। আর জমা জলে জন্মায় ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস। সেই জল পায়ে লাগলে পায়ের আঙুলে ফাঙ্গাস, গোড়ালি ফাটা, চুলকানি হবেই।
*ঝুঁকি ২: স্ক্যাল্প ইনফেকশন*
ঝরে পড়া চুলে "ডেড স্কিন সেল + তেল" লেগে থাকে। সেই চুল যদি বালিশ, কম্বল, তোয়ালেতে লেগে থাকে, তাহলে আবার স্ক্যাল্পে লেগে "ড্যান্ড্রাফ, ফলিকুলাইটিস" তৈরি করে। মানে চুল পড়া আরও বাড়বে।
*ঝুঁকি ৩: পোষ্য-পাখির মৃত্যু ঝুঁকি*
বাড়িতে কুকুর, বিড়াল বা পাখি থাকলে সাবধান। তারা খেলতে খেলতে মেঝের চুল মুখে নিয়ে নেয়। চুল পেটে গিয়ে জট পাকিয়ে "ইনটেস্টাইনাল ব্লকেজ" করে। অপারেশন ছাড়া বাঁচানো মুশকিল। পশু ডাক্তাররা একে "Hairball Obstruction" বলেন।
*তাহলে চুল ফেলবেন কোথায়? শাস্ত্র + সায়েন্স মিলিয়ে ৪টে নিয়ম:*
*নিয়ম ১: কাগজে মুড়ে ডাস্টবিনে ফেলুন*
চুল আঁচড়ানোর পর ঝরে পড়া চুল টিস্যু বা খবরের কাগজে মুড়ে ডাস্টবিনে ফেলুন। খোলা ডাস্টবিনে ফেলবেন না। ঢাকনা দেওয়া ডাস্টবিন বেস্ট। এতে বদনজরও আটকাবে, ড্রেনও বাঁচবে।
*নিয়ম ২: বাথরুমে "হেয়ার ক্যাচার" লাগান*
শাওয়ারের মুখে ৫০ টাকার সিলিকন হেয়ার ক্যাচার লাগিয়ে দিন। সপ্তাহে একবার চুল তুলে কাগজে মুড়ে ফেলুন।
*নিয়ম ৩: শনিবার চুল-নখ কাটুন*
জ্যোতিষ মতে শনিবার চুল-নখ কাটা শুভ। কাটা চুল জলে ভাসিয়ে দিন। গঙ্গা না পেলে বালতির জলে ভাসিয়ে টয়লেটে ফ্লাশ করুন। "জলে ভাসিয়ে দিলে শনির দোষ কাটে" - এই বিশ্বাস প্রাচীন।
*নিয়ম ৪: বিছানা-সোফা রোজ ঝাড়ুন*
রাতে শোওয়ার আগে হাত দিয়ে বালিশ-চাদর ঝেড়ে নিন। চুল জমতে দেবেন না। সপ্তাহে একবার ভ্যাকুয়াম ক্লিনার চালান। নেগেটিভ এনার্জি + ধুলো দুই সাফ।
*একটা বড় ভুল যা ৯০% মানুষ করে:*
চুল কেটে টয়লেটে ফ্লাশ করা। মনে হয় "জলে ভাসিয়ে দিলাম, শাস্ত্র মানা হলো"। ভুল। টয়লেটের পাইপ সরু। চুল + টিস্যু জমে সেপটিক ট্যাঙ্ক ব্লক হয়। পুরো বাড়ির পাইপ লাইন খারাপ। মিউনিসিপ্যালিটির লোক এসে ফাইনও করতে পারে।
*শেষ কথা:*
অমঙ্গল মানুন বা না মানুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মানতেই হবে। যেখানে-সেখানে চুল ফেলা মানে নিজের ঘর নিজেই নোংরা করা। বাস্তু মানলে পুণ্য হবে, না মানলে অন্তত ড্রেন জ্যাম আর ইনফেকশন থেকে বাঁচবেন।
আজ থেকেই অভ্যাস বদলান। আঁচড়ানোর পর চুলটা কুড়িয়ে কাগজে মুড়ে ফেলুন। ছোট স্টেপ, বড় শান্তি।