দুর্গাপুজো ২০২৫: কনক দুর্গা মন্দিরে মা নিজেই ভোগ রান্না করতে আসেন! জানুন মাহাত্ম্য

Published : Oct 01, 2025, 11:23 PM IST
Kanakdurga Mandir

সংক্ষিপ্ত

Chilkigarh Kanak-Durga Temple: ঝাড়গ্রামের কাছে চিল্কিগড়ে কনকদুর্গা মন্দিরে দেবী দুর্গা চার হাত বিশিষ্ট। এই মন্দিরে কথিত আছে দেবী দুর্গা নিজের হাতে তাঁর ভোগ রান্না করেন।

Durga Puja 2025: ঝাড়গ্রাম শহরের কাছেই চিল্কিগড়ে ডুলুং নদীর ধারে কনক দুর্গা মন্দির। সারা বছরই দেবীর আরাধনা জারি থাকে এখানে। এই দুর্গা অশ্বারোহিণী, চতুর্ভুজা । অত্যন্ত জাগ্রত এই দেবীর কাছে বহু মানুষ মানত পূর্ণ হলে পুজো দিয়ে যান। তবে দুর্গাপুজোর চার দিন বিশেষ রীতি আচার মেনে পুজো চলে ঝাড়গ্রামের কনক দুর্গা মন্দিরে। এই চার দিন দেবীকে হাঁসের ডিম, মাছ পোড়া, শাক ভাজা ও পান্তা ভাতের ভোগ নিবেদন করা হয়। অষ্টমীর রাতে মন্দিরে পাতকুয়োর সামনে পাঁঠা বলি দেওয়া হয়। নবমীর অন্নভোগের আগে বলির মাংস নতুন মাটির হাঁড়িতে সেদ্ধ করে রাখা হয়। অষ্টমী পুজোর পর গভীর রাতে জঙ্গলের ভিতরে বলির আয়োজন করা হয়। তিথি-নক্ষত্র মেনেই বলি দেওয়া হয়। সেখানে বাইরের কারও প্রবেশাধিকার থাকে না।

কনক দুর্গা মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ঢল

চিল্কিগড়ে মত্তগজ রাজবংশের গোপীনাথ সিং এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেন বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। চিল্কিগড়ের প্রায় ভেঙে পড়া যে প্রাচীন মন্দির রয়েছে তার পশ্চিমপ্রান্তের দালানে এক সময় নরবলি হত। সেই রক্তে পুজো হত কনকদূর্গার। সময়ের সঙ্গে নরবলি বন্ধ হয়ে চালু হয়েছে মোষ বলির প্রথা। মহাষ্টমীতে হাঁসের ডিমের ভোগ দেওয়া হয়। নতুন মাটির হাঁড়িতে জল ও অন্যান্য সামগ্রী ভরে শালপাতা দিয়ে হাঁড়ির মুখ বন্ধ করে উনুনে চাপিয়ে দেওয়া হয়। উনুনে তিনটি কাঠে আগুন জ্বেলে ঘরের দরজা তালাচাবি দিয়ে বন্ধ করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস দেবী স্বয়ং এসে এই ভোগ রান্না করেন।

কনক দুর্গা মন্দিরের মাহাত্ম্য জানুন-

  • এখানে দেবীর রূপ কেমন জানুন: এই মূর্তি অন্যান্য দুর্গা প্রতিমা থেকে ভিন্ন। দেবী এখানে চতুর্ভুজা এবং তাঁর বাহন সিংহ নয়, বরং তিনি অশ্ববাহিনী। দেবীর উপরের বাম হাতে পানপাত্র এবং নীচের বাম হাতে ঘোড়ার লাগাম থাকে। এ ছাড়া, ডান দিকের উপরের হাতে থাকে খড়্গ।
  • এখানে পূর্বে ছিল নরবলি প্রথা: এক সময় এই পুজোয় নরবলির প্রচলন ছিল বলে লোকমুখে প্রচলিত আছে। বিশেষত মহানবমীর রাতে এই বলি হত। কথিত আছে, রাজরানি গোবিন্দমণি দেবীর স্তুতি গেয়ে এবং করজোড়ে আবেদন করে এই ভয়াবহ প্রথা বন্ধ করেছিলেন। বর্তমানে অবশ্য পাঁঠাবলি চালু আছে।
  • বিগ্রহের পরিবর্তন: ১৯৬০ সালে এক বার এবং পরে মাওবাদীদের দাপটের সময় ২০০৭-২০০৮ সালেও দেবীর অষ্টধাতুর মূল মূর্তি চুরি হয়ে যায়। প্রতিবারই নতুন করে অষ্টধাতুর মূর্তি তৈরি করে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

জঙ্গলের আকর্ষণেও যান পর্যটকরা

চিল্কিগড়ে গিয়ে পৌঁছলেই মনে হবে প্রকৃতি তার সব রূপ যেন ঢেলে দিয়েছে। নদী, ছায়াঘন জঙ্গল, গাছে গাছে রঙবেরঙের প্রজাপতি, কী নেই সেখানে! সেই সঙ্গেই আকর্ষণ জঙ্গলের মধ্যে কনক দুর্গা মন্দির। ডুলুং নদী এবং জঙ্গলের টানে এখানে বছরভর পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। কিন্তু রাতে থাকার ঠিকঠাক ব্যবস্থা না থাকায় মুখ ফেরাচ্ছিলেন অনেকে। এবার সেই ‘কালিমা’ ঘুচিয়ে নবরূপে তৈরি চিল্কিগড়। জঙ্গল লাগোয়া অতিথিশালা রয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে মন্দির চত্বরে সৌন্দর্যায়নের কাজও হয়েছে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
Spiritual News in Bangla, and all the Religious News in Bangla. Get all information about various religious events, opinion at one place at Asianet Bangla News.
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

নেতাজির ভাবনায় বদলে গিয়েছে বাংলার দুর্গা প্রতিমার ধরন, ফিরে দেখা চমকপ্রদ ইতিহাস
Durga Puja 2025: সঙ্ঘাতির 'দ্বৈত দুর্গা' থিমে বাংলার দুর্গা এবং শেরাওয়ালি মাতা, বিষয়টা ঠিক কী?