
বৃহস্পতিবার দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই খুশির ইদ হবে আগামী ২১ মার্চ। লখনউ ঈদগাহের ইমাম, মৌলানা খালিদ রশিদ ফিরঙ্গি মহালি এই ঘোষণা করেছেন। সংবাদ সংস্থা ANI-কে মৌলানা রশিদ মহালি জানিয়েছেন, লখনউ ইদগাহে ইদের নামাজে বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হবে। তিনি বলেন, "আজ শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই কাল ৩০তম রোজা রাখা হবে এবং ২১ মার্চ ইদ-উল-ফিতর পালিত হবে। লখনউ ইঈদগাহে সকাল ১০টায় ঈদের নামাজ হবে, তারপর বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হবে। এই উপলক্ষে আমি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাই।"
অল জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর শিয়া অ্যাসোসিয়েশনও জানিয়েছে যে চাঁদ দেখা যায়নি, তাই ইদ ২১ মার্চই হবে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, "কাশ্মীরে আকাশ মেঘলা থাকায় চাঁদ দেখা যায়নি। অল জেঅ্যান্ডকে শিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (AJKSA) রুয়াত-এ-হিলাল কমিটি কাশ্মীর বা ভারতের অন্য কোনও জায়গা থেকে চাঁদ দেখার কোনও নির্ভরযোগ্য খবর পায়নি।" AJKSA আরও জানায়, "তাই, শিয়া ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী, ইদ-উল-ফিতর শনিবার, ২১ মার্চ পালন করা হবে।"
মুসলিম ক্যালেন্ডারের নবম মাস রমজানকে অন্যতম পবিত্র মাস হিসেবে ধরা হয়। কারণ এই মাসেই পবিত্র কোরান নাজিল হয়েছিল। রমজান শেষে উপবাস ভাঙার উৎসব হিসেবে ইদ-উল-ফিতর পালন করা হয়। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন এবং উপহার বিনিময় করেন। গরিবদেরও বিশেষ উপহার দেওয়া হয়। তবে, বিশ্বের কিছু অংশে ২০ মার্চ ঈদ পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ, ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাইদ এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে ইদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির আশাও প্রকাশ করেছেন।
পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনির মৃত্যুর প্রভাব ভারতের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উপরও পড়েছে। রাজস্থানের শিয়া সম্প্রদায় ঘোষণা করেছে যে তারা এই বছর ইদ উদযাপন করবে না।
শোকের চিহ্ন হিসেবে সম্প্রদায়ের সদস্যরা কালো আর্মব্যান্ড পরে শুধু নামাজ পড়বেন। রাজস্থানজুড়ে শিয়া সম্প্রদায় এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। জয়পুরের শিয়া জামা মসজিদের ইমাম সৈয়দ নাশিশ আকবর কাজমি বলেন, "রাজস্থানের শিয়া সম্প্রদায় ইদ উদযাপন করবে না। শুধু পুরুষরাই নন, শিশু ও মহিলারাও নতুন পোশাক পরবেন না। আমরা কোনও আনন্দ উদযাপন না করে শুধু নামাজ পড়ব। বাড়িতে মিষ্টি তৈরি হবে না এবং ঈদের শুভেচ্ছাও বিনিময় করা হবে না।" তিনি আরও যোগ করেন, "তাই আমরা এই বছর ইদ উদযাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নামাজের সময় আমরা ইরানের শত্রু দেশগুলির ধ্বংসের জন্য প্রার্থনা করব।"