
সনাতন ধর্মে বলা হয় "গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণু গুরুর্দেবো মহেশ্বরঃ"। অর্থাৎ গুরুই ব্রহ্মা, গুরুই বিষ্ণু, গুরুই মহেশ্বর। কারণ গুরুই আমাদের অজ্ঞানের অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো দেখান। শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিকে গুরু পূর্ণিমা বলা হয়। একে ব্যাস পূর্ণিমাও বলা হয়। কারণ এই দিনেই মহর্ষি বেদব্যাসের জন্ম হয়েছিল। তিনিই বেদকে চার ভাগে ভাগ করেছিলেন এবং মহাভারত ও ১৮টি পুরাণ রচনা করেছিলেন।
তাই এই দিনটি কেবল স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানানোর দিন নয়। জীবনে যিনিই আপনাকে কোনও না কোনও ভাবে পথ দেখিয়েছেন, তিনি আপনার গুরু। এই দিনে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালে এবং আশীর্বাদ নিলে জীবনের সব বাধা কেটে যায় এবং ভাগ্যের দরজা খুলে যায় বলে বিশ্বাস।
২০২৬ সালে গুরু পূর্ণিমার তিথি ও শুভ সময়:
কবে পালন করবেন গুরু পূর্ণিমা: পঞ্জিকা মতে, ২০২৬ সালের গুরু পূর্ণিমা পড়েছে ২৯ জুলাই, বুধবার। পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬.১৮ মিনিট থেকে ২৯ জুলাই ৮.০৫ মিনিট পর্যন্ত। ২৯ জুলাই দেশ জুড়ে পালিত হবে পুজো ও ব্রত। ভাগ্য বদল। ও পরম পুণ্য লাভের জন্য ২৯ জুলাই ভোরে ৪:১৭ থেকে ৪:৫৯ মিনিটের ব্রহ্ম মুহূর্তে স্নান ও দান করা অত্যন্ত শুভ।
বাড়িতে সহজে কীভাবে করবেন গুরু পূজা: ভক্তিই হল আসল নিয়ম গুরু পূর্ণিমার দিন খুব ভোরে উঠে স্নান করে পরিষ্কার হলুদ বা সাদা রঙের পোশাক পরুন। তারপর পুজোর জায়গাটি গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করে এ নিন। একটি চৌকির উপর সাদা কাপড় পেতে আপনার দীক্ষাগুরুর ছবি% রাখুন। যাদের দীক্ষা হয়নি তারা মহর্ষি বেদব্যাস, ভগবান বিষ্ণু বা দত্তাত্রেয়ের ছবিও রাখতে পারেন।
এরপর গুরুর ছবিতে চন্দন, হলুদ, অক্ষত, ফুল এবং তুলসী পাতা নিবেদন করুন। ধূপ ও ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে "ওঁ গুরবে নমঃ" মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করুন। পুজোর শেষে গুরুকে ফল, মিষ্টি এবং নতুন বস্ত্র অর্পণ করুন। তারপর মন থেকে প্রণাম করে জীবনে চলার পথে আশীর্বাদ চান।
যারা দূরে থাকার কারণে গুরুর কাছে যেতে পারবেন না, তারা ফোনে আশীর্বাদ নিতে পারেন অথবা ছবির সামনে বসে প্রার্থনা করতে পারেন। এই দিনে ছাত্রদের বই, গরিবদের বস্ত্র বা অন্ন দান করাও অত্যন্ত শুভ ফল দেয়।
এই একদিনেই বদলাতে পারে জীবন গুরু পূর্ণিমার মূল উদ্দেশ্য হল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। গুরু আমাদের শুধু পড়াশোনাই শেখান না, তিনি জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে হাত ধরে সঠিক পথ দেখান। তাই এই দিনে গুরু মন্ত্র জপ করলে মন স্থির হয়, বুদ্ধি বাড়ে এবং নেগেটিভ এনার্জি দূর হয়।
বিশেষ করে যারা পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যবসায় বারবার বাধা পাচ্ছেন, তারা এই দিনে গুর কাছে প্রার্থনা করলে নতুন সুযোগ আসে। শাস্ত্রে বলা আছে গুরু পূর্ণিমার দিনে করা এক ঘণ্টার সাধনাও সাধারণ দিনের হাজার ঘণ্টার সমান ফল দেয়।
গুরুকে স্মরণ করুন
গুরু পূর্ণিমা আমাদের শেখায় কৃতজ্ঞ হতে। আপনার প্রথম শিক্ষক, আপনার বাবা-মা, যে বন্ধু আপনাকে বিপদে সাহায্য করেছে - সবাই আপনার গুরু। তাই এই দিনে তাদের একবার ফোন করে ধন্যবাদ জানান, পা ছুঁয়ে প্রণাম আসে করুন।