
সংসারে অশান্তি, অফিসে বাধা, অকারণ ভয় - সব কিছুর একটাই সমাধান "জয় বজরংবলী"। হনুমানজিকে বলা হয় সংকটমোচন। যেখানে তিনি থাকেন সেখানে নেগেটিভ শক্তি, ভূত-প্রেত আর শত্রুরা ঘেঁষতে পারে না। কিন্তু অনেকেই জানেন না বাড়িতে বজরংবলীর ছবি যেখানে-সেখানে রাখা যায় না। বাস্তুশাস্ত্রে এর জন্য নির্দিষ্ট দিক আর নিয়ম আছে। ভুল জায়গায় রাখলে কৃপার বদলে বাধা আসতে পারে।
বাস্তু মতে বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ হল "শক্তির স্থান"। এই দিকে বজরংবলীর পাহাড় তুলে থাকা বা লঙ্কা দহন করার ছবি লাগান। এতে ঘরে সাহস, আত্মবিশ্বাস আর শক্তি বাড়ে। শত্রুরা ক্ষতি করতে পারে না। অফিসে যাদের প্রমোশন আটকে আছে তাদের জন্য এটা খুব উপকারী।
যদি টাকা-পয়সার টানাটানি লেগে থাকে, তাহলে বাড়ির উত্তর দেওয়ালে বজরংবলীর ছবি রাখুন। তবে খেয়াল রাখবেন ছবিতে হনুমানজির মুখ যেন দক্ষিণ দিকে থাকে। উত্তর দিকে ছবি রাখলে কুবেরের কৃপা পাওয়া যায়। ঋণ থেকে মুক্তি মেলে। ব্যবসায় উন্নতি হয়।
মেন গেটের ঠিক সামনের দেওয়ালে বা গেটের উপরে বজরংবলীর ছবি লাগান। কিন্তু শর্ত একটাই - ছবিতে হনুমানজি যেন বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এটা বাড়ির জন্য একটা সুরক্ষা কবচের মতো কাজ করে। নজর দোষ, তন্ত্র-মন্ত্র কিছুই ঢুকতে পারবে না।
*কোন ছবি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী?*
*১. পাহাড় হাতে বজরংবলী* - অসাধ্য কাজ সাধন করতে সাহায্য করে।
*২. রাম-সীতার চরণে বসা হনুমান* - ভক্তি আর আনুগত্য বাড়ায়। সংসারে শান্তি আসে।
*৩. সিঁদুর মাখা বজরংবলী* - মঙ্গলবার পুজো করলে রোগ-ব্যাধি দূর হয়।
*১. বাথরুম, রান্নাঘর বা সিঁড়ির নীচে ছবি রাখবেন না* - এটা অপমান করা হয়।
*২. শোয়ার ঘরে পায়ের দিকে ছবি রাখবেন না* - ঘুমের সমস্যা আর দুঃস্বপ্ন আসে।
*৩. ছেঁড়া, ধুলো পড়া ছবি রাখবেন না* - ১ মাসে একবার ছবি পরিষ্কার করুন।
*৪. হনুমানজির মুখ যেন দরজার দিকে না থাকে* - তাহলে বাড়ি থেকে পজিটিভিটি বেরিয়ে যাবে।
*পুজোর সহজ নিয়ম*:
মঙ্গলবার আর শনিবার সকালে স্নান করে বজরংবলীর ছবির সামনে সিঁদুর, জুঁই ফুল আর লাড্ডু নিবেদন করুন। তারপর ১১ বার "ওম হং হনুমতে নমঃ" মন্ত্র জপ করুন। মনে রাখবেন, বজরংবলী শুধু শক্তি দেন না, ভয় দূর করেন। যেখানে বিশ্বাস আছে সেখানেই তিনি বিরাজ করেন।