
আজকের দ্রুতগতির জীবনে শরীরের আগেই মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রতিদিনের মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, ভয় এবং অতিরিক্ত ভাবনা ধীরে ধীরে মনের শান্তি কেড়ে নেয়। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময় অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণের দেওয়া উপদেশ আজও মনের ভারসাম্য বজায় রাখার পথ দেখায়। এগুলি কোনো গভীর দর্শন নয়; বরং সাধারণ জীবনের সত্য, যা যে কেউ বুঝতে পারে। শ্রীকৃষ্ণ শিখিয়েছিলেন কীভাবে মনকে শান্ত করতে হয়, অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং সাহসের সাথে চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়। ভগবদ্গীতার এই শিক্ষা আজকের চাপপূর্ণ জীবনে শান্তি খুঁজে পেতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
শ্রীকৃষ্ণের মতে, জীবন গঠনে মনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়ন্ত্রিত মন ভয়, বিভ্রান্তি এবং ক্রমাগত মানসিক চাপের জন্ম দেয়। নেতিবাচক চিন্তা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং ভেতরের শান্তি নষ্ট করে। কিন্তু সচেতনতা, বিশ্বাস এবং সঠিক কর্মের মাধ্যমে মনকে শৃঙ্খলায় আনলে তা আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু হয়ে ওঠে। শান্ত মন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে, মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং স্থির অগ্রগতিতে সাহায্য করে। ভগবদ্গীতা শেখায় যে আত্মসংযম এবং একাগ্রতাই মানসিক শান্তির মূল ভিত্তি।
সুখ এবং দুঃখ কোনোটাই চিরস্থায়ী নয়, তা আসে এবং যায়, একথা কৃষ্ণ বলেছেন। এই সত্যটি যিনি বোঝেন, তিনি উভয় পরিস্থিতিতেই ভারসাম্য বজায় রাখেন। সুখ এলে অহংকার থাকে না, দুঃখ এলে ভয় থাকে না। এই ধরনের মানসিকতা মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং ভেতরের শক্তি বাড়ায়। জীবনের পরিবর্তনগুলিকে সচেতনভাবে গ্রহণ করলে মানসিক চাপ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। ভগবদ্গীতার এই বার্তা আজকের দ্রুত এবং প্রতিযোগিতামূলক জীবনে ধৈর্য, স্বচ্ছতা এবং শান্তির সাথে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।
ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে মনের চাপ বেড়ে যায়। কৃষ্ণ যেমন বলেছেন, প্রকৃত শান্তি আসে কর্মের উপর মনোযোগ দিলে, ফলের উপর নয়। সাফল্য বা ব্যর্থতার ভয় ছাড়া পরিশ্রম করলে মন হালকা থাকে। ভগবদ্গীতার এই শিক্ষা দৈনন্দিন জীবনের উদ্বেগ এবং অতিরিক্ত চিন্তা কমায়। কাজে পুরোপুরি মগ্ন থেকে প্রক্রিয়ার উপর বিশ্বাস রাখলে মানসিক ভারসাম্য এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত আসক্তি ক্ষতির ভয় এবং ক্রমাগত চিন্তার জন্ম দেয়। কৃষ্ণ যে বৈরাগ্যের কথা বলেছেন, তা জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়। ফলাফলের উপর নির্ভরশীল না হয়ে, ভারসাম্যপূর্ণ মন নিয়ে জীবনযাপন করা এবং কাজ করাই হলো বৈরাগ্য। প্রত্যাশা কমলে মন শান্ত হয়। ভগবদ্গীতা অনুসারে, আসক্তি মনকে বেঁধে রাখে এবং দুঃখ বাড়ায়; বৈরাগ্য চিন্তাভাবনাকে মুক্তি দেয় এবং ভেতরের স্থিতিশীলতা প্রদান করে। এর ফলে সাফল্য-ব্যর্থতাকে ভারসাম্যের সাথে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
অস্বাস্থ্যকর প্রত্যাশা এবং ফলের ভয় ছাড়া পরিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করা।
বৈরাগ্য মানে কি জীবন ত্যাগ করা?
না। এর অর্থ হলো জীবনে যুক্ত থেকেও ভারসাম্য এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
আসক্তি কীভাবে ভয় বাড়ায়?
ফলের উপর নির্ভরতা ক্ষতির ভয় এবং হতাশার কারণ হয়।
বৈরাগ্য থেকে কীভাবে মানসিক শান্তি আসে?
অতিরিক্ত চিন্তা কমে যায়, আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ আসে এবং চ্যালেঞ্জের মাঝেও মন শান্ত থাকে।