
ভাই-বোনের ভালোবাসা, স্নেহ আর অটুট বন্ধনের উৎসব রাখি পূর্ণিমা। যদিও পূর্ণিমা শুরু হয়েছে আজ, ২৭ আগস্ট থেকে। তবে ২০২৬ সালে রাখি পূর্ণিমা পালিত হবে শুক্রবার, ২৮ অগস্ট। তবে এ বছর রাখি বাঁধার ক্ষেত্রে সময়ের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ শুভ সময়টি রয়েছে মূলত সকালেই। তবে সকালে শুভ সময় মাত্র ৩ ঘণ্টা।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৮ অগস্ট সকাল ৫টা ৫৮ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত রাখি বাঁধার শুভ মুহূর্ত রয়েছে। অর্থাৎ মোট ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট সময়ের মধ্যে ভাইয়ের হাতে রাখি পরাতে পারবেন বোনেরা।
এবার পূর্ণিমা তিথি ২৭ অগস্ট সকাল থেকে শুরু হয়ে ২৮ অগস্ট সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। তাই ২৭ অগস্ট থেকে পূর্ণিমা তিথি শুরু হলেও রাখি পূর্ণিমা পালনের দিন হিসেবে ২৮ অগস্টকেই ধরা হচ্ছে। কারণ ওই দিন সূর্যোদয়ের সময় পূর্ণিমা তিথি থাকবে। তাই যাঁরা পঞ্জিকা মেনে রাখি বাঁধতে চান, তাঁদের জন্য ২৮ অগস্টের সকালের সময়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
দ্রিক পঞ্চাঙ্গের দেওয়া সময়ানুসারে, ২৮ অগস্ট রক্ষা বন্ধনের পৈতা অনুষ্ঠানের শুভ মুহূর্ত ভোর ৫টা ৫৮ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ মূল রাখি অনুষ্ঠানের জন্য ভক্তদের হাতে থাকবে মোট ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিটের শুভ সময়।
রাখি পূর্ণিমার দিন সাধারণত বোনেরা ভাইয়ের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে তাঁর হাতে রাখি বাঁধেন। তার আগে একটি পুজোর থালা সাজিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে রাখা যায় রাখি, রোলি বা কুমকুম, চাল বা অক্ষত, মিষ্টি এবং প্রদীপ।
প্রথমে ভাইকে তিলক বা কুমকুম পরিয়ে, অক্ষত দিয়ে এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে তাঁর হাতে রাখি বাঁধা হয়। এরপর ভাই-বোন একে অপরের মঙ্গল কামনা করেন। ভাইও বোনকে উপহার দিয়ে তাঁর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
২০২৬ সালে রাখি বাঁধার নির্দিষ্ট শুভ মুহূর্ত তুলনামূলকভাবে ছোট। সকাল ৫টা ৫৮ মিনিট থেকে ৯টা ৪৮ মিনিট—এই সময়ের মধ্যেই মূল রাখি বাঁধার মুহূর্ত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই পঞ্জিকা মেনে অনুষ্ঠান করতে চাইলে আগেই সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রাখা ভালো।
তবে শুভ মুহূর্ত শহর ও স্থানভেদে কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ধর্মীয় আচার পালনের আগে নিজের এলাকার স্থানীয় পঞ্জিকার সময় মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।