
পুরীর জগন্নাথ মন্দির ঘিরে এক যুগান্তকারী গবেষণায় মাটির নিচে প্রাচীন নগরী ও গোপন সুড়ঙ্গের হদিশ মিলেছে। GPR (Ground Penetrating Radar) সমীক্ষা অনুযায়ী, মন্দিরের আশেপাশে প্রায় ২১.৬ বর্গমিটার এলাকায় মাটির নিচে ৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক কাঠামোর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা দ্বাদশ শতাব্দীর পূর্বের হতে পারে।
প্রাচীন ধর্ম, সভ্যতা, আধ্যাত্মিকতার এক অনবদ্য মিলনভূমি হল এই দেশ। উন্নত নাগরিক সভ্যতা বজায় রাখতে যুগের পর যুগ ধরে একের পর এক আধুনিকতা নিয়ে আসা হচ্ছে। কিন্তু এসবের মাঝেও, এখনও বহু জায়গায় লুকিয়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ঐতিহাসিক তথ্য। এমনই এক ঐতিহ্যপূর্ণ স্থান হল পুরীর (Puri) জগন্নাথ মন্দির
বিস্তারিত আলোচনা ও মূল তথ্যসমূহ:
* মাটির নিচে প্রাচীন শহর: সমীক্ষায় পুরীর বর্তমান মাটির নিচে একটি প্রাচীন, সুপরিকল্পিত নগরীর ধ্বংসাবশেষের ইঙ্গিত মিলেছে। ইমার মঠ, নৃসিংহ মন্দির এবং বুড়ি মা মন্দিরের সংলগ্ন এলাকা এবং মন্দিরমুখী রাস্তাগুলোর নিচে এসব কাঠামো পাওয়া গেছে।
* গোপন সুড়ঙ্গ: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, জগন্নাথ মন্দির থেকে সরাসরি সমুদ্র পর্যন্ত একটি সুড়ঙ্গ বা ভূগর্ভস্থ পথের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় জনশ্রুতিকে Pragativadi সত্যি বলে প্রমাণ করতে পারে।
* ৩২ ফুট দেয়াল: গবেষণায় প্রায় ৩২ ফুটের একটি প্রাচীন প্রাচীর বা দেয়াল এবং একটি বড় চেম্বার (৭.৬ মিটার x ৩ মিটার) পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত প্রাচীন কোনো মন্দিরের অংশ।
* ঐতিহাসিক নিদর্শন: মাটির নিচে প্রাচীন মৃৎপাত্র, ধাতব বস্তু ও নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র পাওয়া গেছে।
* গঙ্গা বংশের যোগসূত্র: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধ্বংসাবশেষ গুলো গঙ্গা বংশের রাজা অনন্তবর্মণ চোড়গঙ্গাদেব (যিনি মন্দিরের নির্মাণ শুরু করেছিলেন) বা তারও আগের সময়ের হতে পারে।
* পরবর্তী পদক্ষেপ: Archaeological Survey of India (ASI) কে এই এলাকায় সুশৃঙ্খল খননকাজ (Excavation) চালানোর জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন।
এই নতুন আবিষ্কার পুরীর ইতিহাস এবং জগন্নাথ সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।