Puja Vrat Tips: ধূপকাঠি নাকি ধুনো? পুজোয় কোনটা দিলে দেবতা বেশি তুষ্ট হন? জানুন শাস্ত্রের উত্তর

Published : Jun 09, 2026, 11:01 AM IST
sheetala mata puja vidhi 01

সংক্ষিপ্ত

Puja Vrat Tips: সন্ধ্যার পুজোয় ধূপকাঠি জ্বালাবেন নাকি ধুনুচিতে ধুনো দেবেন – এই দ্বন্দ্ব অনেকেরই। শাস্ত্র বলছে দুটোর উদ্দেশ্য আলাদা। ধূপকাঠি মানে সুগন্ধ, আর ধুনো মানে শুদ্ধিকরণ। ঈশ্বর ভক্তি দেখেন, ধোঁয়া নয়। 

PujaVrat Tips: সন্ধ্যা নামলেই বাঙালি ঘরের পুজোর ঘর থেকে ভেসে আসে ধূপের গন্ধ। কারও হাতে ধূপকাঠি, কারও হাতে জ্বলন্ত ধুনুচি। দুটোই সুগন্ধ দেয়, দুটোই ঠাকুরের সামনে জ্বলে। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে, দেবতা আসলে কোনটায় বেশি খুশি হন? শাস্ত্র আর বিজ্ঞান – দুই দিক থেকেই উত্তরটা একটু আলাদা।

শাস্ত্র মতে "ধূপ" শব্দের অর্থই হল সুগন্ধি। তাই দেবতাকে ধূপ দেওয়া অঙ্গ। পুরাণে "ষোড়শ উপাচারে" ধূপ-দীপের উল্লেখ আছে। কিন্তু এখানেই একটা বড় শর্ত আছে। শাস্ত্রে বাঁশের কাঠি যুক্ত ধূপকাঠি জ্বালাতে কড়া নিষেধ। কারণ বাঁশকে অশুভ, অপবিত্র মানা হয়। বিশেষ করে পিতৃপক্ষে বাঁশ পোড়ানো মহাপ। তাই বাজারের সস্তার ধূপকাঠি জ্বালানোর আগে প্যাকেটে "Bamboo-less" লেখাটা দেখে নেওয়া জরুরি। কাঠি ছাড়া শঙ্খ ধূপ বা জেল ধূপ জ্বালালে এই দোষ থাকে না।

জানুন ধূপ-ধুনো দেওয়ার আসল কারণ:-

অন্যদিকে ধুনো হল হাজার বছরের পুরোনো রীতি। ঘুঁটে, গুগ্গুল, লোবান, নিমপাতা, তেজপাতা, কর্পূর একসাথে পোড়ালেই তৈরি হয় ধুনো। আরতি মানেই ধুনো ছাড়া অসম্পূর্ণ। শাস্ত্র বলছে ধুনোর ধোঁয়া সাত্ত্বিক। এই ধোঁয়া শুধু গন্ধ দেয় না, ঘরের বাতাস শুদ্ধ করে, নেগেটিভ এনার্জি কাটে, বাস্তু দোষ নাশ করে। তাই বিশেষ পুজো, অমাবস্যা, গৃহপ্রবেশের মতো বড় কাজে মুনি-ঋষিরা সবসময় ধুনো দিতেই বলেছেন। ধুনো মানে যজ্ঞের একটা ছোট রূপ।

এবার আসি বিজ্ঞানের কথায়। সস্তার ধূপকাঠিতে কাঠের গুঁড়ো, কয়লার গুঁড়ো আর কড়া কেমিক্যাল পারফিউম মেশানো থাকে। জ্বালালে PM 2.5, কার্বন মনোক্সাইডের মতো ক্ষতিকর গ্যাস বের হয়। বন্ধ ঘরে রোজ জ্বালালে মাথা ধরা, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট পর্যন্ত হতে পারে। WHO-ও বেশি ধূপকাঠি জ্বালাতে বারণ করে। কিন্তু ধুনোর বেলায় ছবিটা উল্টো। ঘুঁটে আর নিমপাতা পোড়ালে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধোঁয়া তৈরি হয়। বর্ষাকালে ধুনো দিলে মশা-মাছি পালায়, ঘরের স্যাঁতস্যাঁতে ভাব কেটে যায়। আয়ুর্বেদেও শ্বাসকষ্ট কমাতে ধুনোর ধোঁয়া নিতে বলা হয়।

তাহলে শেষ সিদ্ধান্ত কী দাঁড়াল? ঈশ্বর ধূপকাঠি দেখেন না, ধুনোও দেখেন না। উনি দেখেন আপনার মন। আপনার ডাক যদি সত্যি হয়, একটা ফুল দিলেও উনি তুষ্ট হন। ধূপকাঠি না থাকলে মনের ধূপই সবচেয়ে বড় ধূপ। তবে নিয়ম মেনে পুজো করতে চাইলে একটা সহজ হিসাব রাখুন। রোজকার নিত্য পুজোর জন্য বাঁশ ছাড়া কাঠি ধূপ বা শঙ্খ ধূপই যথেষ্ট। তাড়াতাড়ি হয়, ঘরও নোংরা হয় না। আরতি, শনিবারের পুজো, অমাবস্যা বা ঘর শুদ্ধ করার জন্য ধুনুচিতে ঘুঁটে দিয়ে গুগ্গুল-কর্পূর মিশিয়ে ধুনো দিন। ধুনোর শক্তি অনেক বেশি।

শেষে মাত্র তিনটে নিয়ম মাথায় রাখুন। এক, বাঁশের কাঠি একদম বর্জন করুন। দুই, ধূপ বা ধুনো যাই জ্বালান, ঘরের জানলা একটু খোলা রাখুন যাতে ধোঁয়া জমে না যায়। আর তিন, জ্বালানোর সময় মনটা ঠাকুরের পায়ে রাখুন। কারণ ধূপে গন্ধ আছে, ধুনোয় শক্তি আছে, আর ভক্তিতে ঈশ্বর আছেন। 

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
Religion News (ধর্মের খবর): Read latest news and updates on religion in bengali , Spiritual News, Puja Vratham, Fasting Rule. Find Bengali Religious News, Spiritual News on Asianet Bangla News.
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Parama Ekadashi 2026: কবে পালিত হবে পরমা একাদশী? জেনে নিন সঠিক দিন ও নিয়মকানুন
Mobile Vastu: মোবাইলের রিংটোনও ফেরাতে পারে আপনার ভাগ্য, ভুলেও করবেন না এই ১টা ভুল