
পুজোর ক্যালেন্ডার দেখুন, ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিটি দিনের আগে ‘মহা’ শব্দটি বসে - মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী। কারণ এই দিনগুলো দেবীর আরাধনার, শক্তির জাগরণের মহা-ক্ষণ। কিন্তু দশমী এলেই ‘মহা’ উধাও, জায়গা নেয় ‘বিজয়া’। কেন এই ব্যতিক্রম?
কারণ দশমী পুজোর দিন নয়, বিজয়ের দিন। এটি আর আরাধনা নয়, সিদ্ধিলাভের উদযাপন।
দুর্গার বিজয় থেকেই বিজয়া: পুরাণ অনুযায়ী, মহিষাসুর ব্রহ্মার বরে বলীয়ান হয়ে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল দখল করে নিয়েছিল। কোনও পুরুষ তাকে বধ করতে পারবে না। তখন সব দেবতার সম্মিলিত তেজ থেকে সৃষ্টি হলেন দেবী দুর্গা। মার্কণ্ডেয় পুরাণ ও কালিকা পুরাণ বলছে, আশ্বিনের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে দেবীর আবির্ভাব হয় এবং টানা ৯ দিন ৯ রাত যুদ্ধের পর শুক্লা দশমীর দিনে তিনি মহিষাসুরকে বধ করেন। অশুভ শক্তির পরাজয় ও শুভ শক্তির জয় হয় এই তিথিতেই। তাই এই তিথির নাম হয় ‘বিজয়া দশমী’ - অর্থাৎ বিজয় অর্জনের দশমী।
রামের বিজয় ও দশেরা: একই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রামায়ণের কাহিনীও। বলা হয়, আশ্বিনের শুক্লা দশমী তিথিতেই রামচন্দ্র ৯ দিন দেবীর আরাধনা করে রাবণকে বধ করেছিলেন। রাবণের ১০টি মাথা - যা ১০টি পাপের প্রতীক - কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য ইত্যাদির বিনাশ হয় এই দিনে। তাই উত্তর ও মধ্য ভারতে এই দিনটি ‘দশহরা’ বা দশেরা নামে পরিচিত। সংস্কৃত ‘দশহর’ থেকেই দশেরা, অর্থাৎ দশানন রাবণের হার।
বাঙালির কাছে দশমী উমার কৈলাসে ফেরার দিন, তাই মন ভারাক্রান্ত। কিন্তু শাস্ত্র বলছে, এটা বিষাদের দিন নয়, বিজয়ের আনন্দে মিষ্টিমুখ করার দিন। একসময় ঋগ্বেদের যুগে এই বিজয়া দশমী থেকেই নতুন বছর শুরু হত, বলা হত “জীবেম শরদাং শতম” - শত শরৎ বাঁচো। তাই সবাইকে আলিঙ্গন করে বলা হত “বিজয়ী হও”। সেই শুভেচ্ছা থেকেই ‘বিজয়া’ শব্দটি আসে। তাই দশমীর পর আমরা বলি ‘শুভ বিজয়া’ - যার অর্থ বিজয়ের শুভেচ্ছা।