
Durga Puja: পুজো প্যান্ডেলে গিয়ে মা দুর্গার মুখের দিকেই আমাদের নজর যায়। কিন্তু কখনও ভালো করে চালচিত্রটা খেয়াল করেছেন? দেবীর ঠিক মাথার ওপরে ছোট্ট একটা জায়গায় ধ্যানমগ্ন হয়ে বসে আছেন দেবাদিদেব মহাদেব। সঙ্গে থাকেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু-সহ অন্যান্য দেবতারা। কিন্তু প্রশ্ন হল, স্বামী হয়েও তিনি স্ত্রীর পাশে নন কেন? কেন তাঁর স্থান সবসময় মাথার ওপরে?
১. পৌরাণিক ব্যাখ্যা - শক্তির ওপর শিবের আশীর্বাদ:
শাস্ত্র মতে, দুর্গা যখন অসুর বধ করতে আসেন, তখন তিনি কারও স্ত্রী নন, তিনি আদ্যাশক্তি, জগৎজননী। সেই সময় মহাদেব তাঁর স্বামী হিসেবে নয়, তাঁর সৃষ্টিকর্তা ও শক্তির আধার হিসেবে অবস্থান করেন। তাই তিনি পাশে না থেকে মাথার ওপরে থাকেন আশীর্বাদকের ভূমিকায়।
মনে করা হয়, শিবের বুকের ওপর দাঁড়িয়েই মা কালী শক্তি রূপ ধারণ করেছিলেন। একইভাবে দুর্গা রূপেও শিব তাঁর ওপর থেকে শক্তি সঞ্চার করেন। তাঁর মাথার ওপরে থাকার অর্থ হল, সমস্ত শক্তির উৎস শিবই, আর তাঁর আশীর্বাদ নিয়েই দেবী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।
আরেকটি লোককথা অনুযায়ী, দুর্গা যখন বাপের বাড়ি অর্থাৎ মর্ত্যে আসেন, তখন শিব কৈলাসে একাই থাকেন। কিন্তু স্ত্রীর ওপর নজর রাখতে তিনি সূক্ষ্ম রূপে চালচিত্রে অবস্থান করেন, যাতে কেউ তাঁর শক্তির অপমান করতে না পারে।
২. শৈল্পিক ব্যাখ্যা - একচালা প্রতিমা ও চালচিত্রের ইতিহাস:
আজকাল আমরা অনেক রকম থিমের পুজো দেখি, কিন্তু সাবেকি দুর্গা প্রতিমা ছিল একচালা। অর্থাৎ একটাই কাঠামোর মধ্যে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ সবাই থাকতেন। আর সেই গোটা কাঠামোর পেছনে যে অর্ধচন্দ্রাকার ফ্রেম থাকত, সেটাই হল চালচিত্র।
এই চালচিত্রে মূলত দেবীর যুদ্ধের দৃশ্য আঁকা থাকত। পুরাণ অনুযায়ী, দুর্গার মহিষাসুর বধ দেখতে স্বর্গ থেকে সব দেবতারা এসেছিলেন। সেই দেবতাদেরই প্রতীকী রূপ হিসেবে চালচিত্রের ওপরে তাঁদের মূর্তি বানানো হত। আর যেহেতু মহাদেব দেবতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তাই তাঁর স্থান হত একেবারে মাঝখানে, দেবীর মাথার ঠিক ওপরে।
বাংলার কুমোরটুলির শিল্পীরা আজও এই রীতি মেনে চলেন। তাঁরা মনে করেন, মাথার ওপর মহাদেব না থাকলে প্রতিমা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এটা শুধু একটা মূর্তি নয়, এটা শিব-শক্তির মিলনের প্রতীক। তাই দুর্গার পাশে নয়, মাথার ওপরেই তাঁর স্থান।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।