
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে বসেছে ২৩ তম কমনওয়েলথ গেমসের আসর। এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ২৩ জুলাই থেকে এবং চলবে আগামী ২ অগাস্ট পর্যন্ত। যে মেগা ইভেন্টে বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে মোট ৩,০০০ জন ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করছেন। সর্বমোট ১৬টি স্পোর্টস ইভেন্টে রয়েছে এবারের কমনওয়েলথ গেমসে। চলতি কমনওয়েলথ গেমসে এখনও অবধি ভারতের হয়ে পদক জিতলেন কারা? সেই প্রতিযোগিতায় ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতেছে। ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত অধ্যায় টিম ইন্ডিয়ার জন্য।
মহিলাদের ৪৮ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে সোনা জিতেছেন মীরাবাঈ চানু। তিনিই চলতি ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সোনার পদক জিতেছেন। পাশাপাশি কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে স্বর্ণপদক জয়ের হ্যাটট্রিক করে নয়া মাইলস্টোন তৈরি করলেন এই ভারতীয় তারকা। ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬, তিনবারই সোনা ঞ্জিতলেন মীরাবাঈ চানু। এই জয় ভারতের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক এবং কমনওয়েলথ গেমসে দেশের অন্যতম সফল ক্রীড়াবিদ হিসেবে তাঁর অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করে তুলল।
অন্যদিকে, ভারতের হয়ে রুপো জিতেছেন ঋষিকান্ত সিং। পুরুষদের ৬০ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে রুপোর পদক জিতেছেন এই ভারতীয় তারকা। স্ন্যাচ: ১২১ কেজি, যা কমনওয়েলথ গেমসে একটি রেকর্ড। ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ১৪৩ কেজি, মোট ২৬৪ কেজি। ঋষিকান্ত সিং স্ন্যাচ বিভাগে ১২১ কেজি ওজন তুলে একটি নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন। নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মোট ২৬৪ কেজি উত্তোলনের ফলে, তিনি রুপোর পদক জয় করেন এবং গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে প্রথম সিলভার পদকটি অর্জন করেন। ঋষিকান্ত মণিপুরের বাসিন্দা এবং ভারোত্তোলন বিভাগে ভারতের অন্যতম একজন উদীয়মান তারকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
রাজা মুথুপান্ডিও ভারোত্তোলন বিভাগে পদক জিতেছেন। যিনি ২০২৬ সালের চলতি কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে রুপো জিতেছেন। তরুণ তারকা হিসেবে তিনি দেশকে সিলভার মেডেলটি এনে দিয়েছেন।
ভারতের হয়ে চতুর্থ পদকটি জেতেন জ্ঞানেশ্বরী যাদব। কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর মঞ্চে মহিলাদের ৫৩ কেজি বিভাগে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। এবার তিনিও পদক জিতেছেন। মহিলাদের ৫৩ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে রুপো জিতেছেন জ্ঞানেশ্বরী যাদব। তাঁর এই পদক চলতি প্রতিযোগিতায় ভারতের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সকে আরও সমৃদ্ধ করল এবং এটি আমাদের দেশের জন্য চতুর্থ ভারোত্তোলন পদক।
মহিলাদের ৫৮ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন বিন্ধ্যারানি দেবী। ভারতের হয়ে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। মোট উত্তোলন ১৯৯ কেজি, স্ন্যাচ: ৮৭ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ১১২ কেজি। প্রসঙ্গত, এটি বিন্ধ্যারানি দেবীর দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমস পদক। এর আগে তিনি ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৫৫ কেজি ইভেন্টে রুপো জেতেন। এই ব্রোঞ্জ জয়ের মাধ্যমে চলতি ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দেশের ভারোত্তোলন দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অব্যাহত রইল এবং দেশের পদক তালিকায় আরও একটি পদক যুক্ত হল।
আরও একটি ব্রোঞ্জ পদক এসেছে। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিং বিভাগে ভারতকে সাফল্য এনে দিয়েছেন ঝান্ডু কুমার। সেরা লিফট ১৯০ কেজি, ব্রোঞ্জ পদক জিতলেন তিনি দেশের হয়ে। উল্লেখ্য, ভারতের হয়ে প্রথম পদক জিতলেন ঝান্ডু কুমার। বিহারের বাসিন্দা ঝান্ডু কুমারকে প্রচুর আর্থিক প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে এই জায়গায় আসতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে পদক জেতার আগে পরিবারকে সহায়তা এবং নিজের প্রশিক্ষণের খরচ জোগাতে একটা সময় তিনি সবজি বিক্রি করেছেন ও ই-রিকশাও চালিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যকে অদম্য সংকল্প এবং জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে।
ভারতীয় প্যারা-অ্যাথলিট শর্মিলা ধানকার দেশের হয়ে দ্বিতীয় সোনার পদকটি জিতলেন। তাঁর অনবদ্য লড়াইকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। মহিলাদের শট পুট এফ৫৭ (F57) বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে মঙ্গলবার, ৯.৮১ মিটারের ‘সিজন-বেস্ট’ থ্রো-এর মাধ্যমে কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা-অ্যাথলেটিক্স বিভাগে ভারতের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাঁর হাত ধরেই কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা-অ্যাথলেটিক্স বিভাগে প্রথম সোনার পদক এল। শর্মিলা মূলত হরিয়ানার বাসিন্দা। মাত্র ২ বছর বয়সে তিনি পোলিওতে আক্রান্ত হন, যা তাঁর একটি পায়ের উপর প্রভাব ফেলে। তারপরেও লড়াই ছাড়েননি তিনি। প্রতিযোগিতামূলক প্যারা-অ্যাথলেটিক্স দিয়ে শুরু করেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদক বিজয়ী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। কমনওয়েলথ গেমসের আগে, তিনি ফাজ্জা আন্তর্জাতিক প্যারা অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ সহ একাধিক প্রতিযোগিতায় পদক জিতে তাক লাগিয়ে দেন।
পুরুষদের হাই জাম্প ইভেন্টে রুপোর পদক জিতলেন সর্বেশ অনিল কুশারে। মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা সর্বেশ বিশ্বের মঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করলেন। এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম একজন শীর্ষস্থানীয় অ্যাথলিট তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। চলতি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর মঞ্চে ২.২৫ মিটার উচ্চতা অতিক্রম করে এই মেগা প্রতিযোগিতার হাই জাম্প ইভেন্টে রুপোর পদক ছিনিয়ে এনেছেন তিনি। ব্যক্তিগত সেরা সাফল্যের নিরিখে দেখতে গেলে ২.৩১ মিটার (জাতীয় রেকর্ড)। এটি তিনি ২০২৬ সালের জুন মাসে অর্জন করেন এবং তার মাধ্যমে ২.৩০ মিটারের বাধা অতিক্রমকারী প্রথম ভারতীয় পুরুষ অ্যাথলিট হিসেবে ইতিহাস গড়েন। সর্বেশ প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রথম ভারতীয় পুরুষ হাই জাম্পার হিসেবে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠেন এবং ২০২৫ সালে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। সেইসঙ্গে, ২০২৩ সালের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রুপোর জেতেন।
গ্লাসগোতে আয়োজিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ৭৯ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে ভারতের হয়ে রুপো জিতেছেন ভাল্লুরি অজয় বাবু। স্ন্যাচ ১৪৯ কেজি, যা কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে একটি রেকর্ড এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ১৮১ কেজি, তথা মোট উত্তোলন: ৩৩০ কেজি। মাত্র ১ কেজির ব্যবধানের জন্য স্বর্ণপদক হাতছাড়া হয় তাঁর। তবে দুর্দান্ত লড়াই করে সিলভার মেডেল ছিনিয়ে এনেছেন তিনি।
মহিলাদের শট পুট এফ৫৭ (F57) বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। এটি এমন একটি ইভেন্ট যা শরীরের নিম্নাংশে অক্ষমতা থাকা সেইসব অ্যাথলিটদের জন্য নির্ধারিত। যারা সাধারণত বসে থেকে শট পুট নিক্ষেপ করে থাকেন। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের শট পুট F57 ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা অ্যাথলিট শিল্পা কে. শায়লা। প্রাথমিকভাবে তিনি পদক তালিকার বাইরে থাকলেও, আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার পর নাইজেরিয়ান অ্যাথলিট ইউচারিয়া ইয়িয়াজি (Eucharia Iyiazi) অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় তিনি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। মহিলাদের শট পুট F57 ইভেন্টে ব্যক্তিগত সেরা থ্রো করেন তিনি, ৭.২৬ মিটার।
রুপো জিতলেন হরজিন্দর কৌর। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৬৯ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে হরজিন্দর কৌর সিলভার মেডেল জিতলেন। নিঃসন্দেহে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন তিনি এবং ভারতকে আরও একটি পদক এনে দিলেন। স্ন্যাচে ১০১ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২৬ কেজি, মোট ২২৭ কেজি ওজন তুলে ভারতের সফল ভারোত্তোলন অভিযানে আরও একটি পদক যুক্ত করেছেন হরজিন্দর কৌর।
গ্লাসগোতে ইতিহাস। ভারতীয় অ্যাথলিট গুলবীর সিং ইতিহাস গড়লেন। কমনওয়েলথ গেমসে লম্বা দূরত্বের দৌড়ে পদক জয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হিসেবে নিজের নাম লেখালেন তিনি। পুরুষদের ১০,০০০ মিটার ইভেন্টের ফাইনালে গুলবীর সিং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রুপোর পদক জিতলেন। এই প্রতিযোগিতার বেশিরভাগ সময় তিনি পিছিয়ে থাকলেও, শেষ পর্যায়ে এসে অবিশ্বাস্য গতিতে দৌড়ন এবং দ্বিতীয় স্থানটি নিশ্চিত করেন। এমন একটি ইভেন্ট যেখানে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারত ঐতিহাসিকভাবে খুব কমই পদক জিততে পেতেছে অতীতে। তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাস বলা চলে। পুরুষদের ১০,০০০ মিটার ইভেন্টের ফাইনালে গুলবীর সিং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রুপোর পদক জিতলেন। গ্লাসগোতে তৈরি হল ইতিহাস। মঙ্গলবার রাতে, ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় অ্যাথলিট গুলবীর সিং (Commonwealth Games 2026)। কমনওয়েলথ গেমসে লম্বা দূরত্বের দৌড়ে পদক জয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হিসেবে নিজের নাম লেখালেন তিনি।
পুরুষদের ১০০ মিটার T47 প্যারা অ্যাথলেটিক্স বিভাগে সোনা জিতলেন দিলীপ গাভিট। তিনি দৌড় শেষ করতে সময় নেন ১০.৭১ সেকেন্ড। আর সেই সুবাদেই কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়লেন এই ভারতীয় অ্যাথলিট। সেই একই ইভেন্টে আরেক ভারতীয় অ্যাথলিট মহম্মদ বাসিল মোরসিংনাকাথ রুপো জেতেন। অর্থাৎ, এই ইভেন্টের প্রথম এবং দ্বিতীয়, দুটি পজিশনেই টিম ইন্ডিয়ার দাপট। দিলীপ হলেন কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী প্রথম ভারতীয় পুরুষ প্যারা অ্যাথলিট। তাঁর এই জয় ভারতীয় প্যারা-স্পোর্টসের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকল।
চলতি ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিলেন মহম্মদ বাসিল মোরসিংনাকাথ। পুরুষদের ১০০ মিটার টি৪৭ প্যারা অ্যাথলেটিক্স বিভাগে রুপো জিতলেন এই তারকা। সেই একই ইভেন্টে আরেক ভারতীয় অ্যাথলিট দিলীপ গাভিট সোনা জিতলেন। অর্থাৎ, এই ইভেন্টের প্রথম এবং দ্বিতীয়, দুটি পজিশনেই টিম ইন্ডিয়ার দাপট। চলতি ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় এটি ছিল ভারতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য, যা প্যারা স্প্রিন্ট ইভেন্টগুলোতে ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।
গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের লং জাম্প ইভেন্টে মুরলী শ্রীশঙ্কর রুপোর পদক জয় করলেন। তাঁর সেরা জাম্প: ৮.০৯ মিটার। প্রসঙ্গত, গত ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে সিলভার মেডেল জয়ের পর, এটি শ্রীশঙ্করের টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে রুপোর পদক জয়। ফাইনালের আগে শ্রীশঙ্কর তাঁর প্রথম প্রচেষ্টাতেই ৮.০১ মিটার লাফিয়ে সহজেই যোগ্যতা অর্জন করেন এবং সরাসরি পদক জয়ের লড়াইয়ের জন্য নিজের জায়গাটি নিশ্চিত করেন।
মহিলাদের ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে সীমা কালিরমনা ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের সম্মান উজ্জ্বল করলেন। তাঁর সেরা থ্রো ৫৮.৬৫ মিটার। সীমার এই সাফল্য বিশেষভাবে অনুপ্রেরণা দেবে তরুণ প্রজন্মকে। কারণ, তিনি একইসঙ্গে একজন সন্তানের মা এবং পিএইচডি গবেষক। প্রতিযোগিতার সময় চারটি ফাউল হওয়া সত্ত্বেও, সীমা ৫৮.৬৫ মিটারের সেরা থ্রো করে ব্রোঞ্জ পদকটি নিশ্চিত করেন। তিনি তাঁর এই পদকটি তাঁর স্বামীকে উৎসর্গ করেছেন এবং এই যাত্রাপথে তাঁর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেছেন।
পুরুষদের +১১০ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে রুপো জিতলেন লাভপ্রীত সিং। নিঃসন্দেহে ভারতের হয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন তিনি। পুরুষদের +১১০ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে সিলভার মেডেল জিতলেন লাভপ্রীত। স্ন্যাচ ১৭৬ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ২১২ কেজি, তাঁর মোট উত্তোলন ৩৮৮ কেজি। প্রসঙ্গত, স্ন্যাচ বিভাগে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তবে মাত্র ১ কেজির ব্যবধানে স্বর্ণপদক হাতছাড়া হল। নিউজিল্যান্ডের ডেভিড লিটি তাঁর চূড়ান্ত লিফটের মাধ্যমে এগিয়ে থেকে সোনার মেডেল জেতেন। পাঞ্জাবের অমৃতসরের বাসিন্দা এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্য লাভপ্রীত ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন এবং এবার ২০২৬ সালে জিতলেন রুপোর পদক।
মহিলাদের ৪৮ কেজি জুডো ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস গড়লেন অস্মিতা দে। মাত্র ২৩ বছর বয়সে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতলেন তিনি। দক্ষিণ ত্রিপুরার অন্তর্গত বেলোনিয়ার বাসিন্দা হলেন অস্মিতা। ভোপালের স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়াতে অনুশীলন করেন তিনি। কোচের নাম যশপাল সোলাঙ্কি। ফাইনালে কানাডার হেইডি কোয়াচকে পরাজিত করে সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নেন অস্মিতা দে। কার্যত, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর 'গোল্ডেন স্কোর' পর্যায়ে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়। আর কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে স্বর্ণপদক জয়ী প্রথম ভারতীয় নারী হলেন অস্মিতা দে। নিঃসন্দেহে ইতিহাস লিখলেন তিনি। সহ-জুডোকা হর্ষ সিং-এর সঙ্গে মিলে তিনি কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে ভারতের হয়ে প্রথমবারের জন্য ‘ডাবল গোল্ড’ জয়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৫ সালের কাসাব্লাঙ্কা আফ্রিকান ওপেন, ২০২৩ জুনিয়র এশিয়া কাপ, ২০২৩ এশিয়ান ওপেন এবং ২০২৩–২৪ জুনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন সহ একাধিক খেতাব রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। পাশাপাশি খেলো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি গেমসে তিনি বহুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষদের ৬০ কেজি জুডো ইভেন্টে হর্ষ সিং গোল্ড মেডেল জিতলেন। সেই সুবাদেই তিনি কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী প্রথম ভারতীয় পুরুষ জুডোকা হিসেবে ইতিহাস তৈরি করে ফেললেন। ফাইনালের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার জশুয়া কাটজকে পরাজিত করেন ভারতের হর্ষ সিং। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় গোটা খেলায়। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে একটি নির্ণায়ক 'ওয়াজা-আরি' (Waza-ari) পয়েন্ট অর্জন করে হর্ষ জয় নিশ্চিত করেন। তাঁর এই জয় এবং সেইসঙ্গে মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে অস্মিতা দে-র স্বর্ণপদক জয়! যার সুবাদে কমনওয়েলথ গেমসের জুডো ইভেন্টে ভারত প্রথমবারের জন্য একই আসরে দুটি স্বর্ণপদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করল।
রুপো জিতলেন যামিনী মৌর্য। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত হওয়া ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৫৭ কেজি জুডো ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সিলভার মেডেল জিতলেন তিনি। ফাইনালে ইংল্যান্ডের অ্যাচেলিয়া তোপ্রাকের কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত হন। ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয় 'গোল্ডেন স্কোর' (অতিরিক্ত সময়)-এর মাধ্যমে। উল্লেখ্য, এর আগে এফআইএসইউ (FISU) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন যামিনী। পাশাপাশি কমনওয়েলথ গেমসের আগে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলিতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ভারতের এই মহিলা অ্যাথলিট।
কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ডেকাথলনের জ্যাভলিন থ্রো ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতলেন তেজস্বিন শঙ্কর। শুক্রবার, কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে পুরুষদের ডেকাথলন ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে প্রথম পদকজয়ী ভারতীয় অ্যাথলিট হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। মোট ৭৯৭৬ পয়েন্ট নিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করেন তেজস্বিন। ৮০৯৬ পয়েন্ট পেয়ে গ্রেনাডার লিন্ডন ভিক্টর সোনা এবং ৮০৩৬ পয়েন্ট নিয়ে কানাডার ড্যামিয়ান ওয়ার্নার রুপো জয় করেন। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসেও তিনি ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। তবে সেটি ছিল পুরুষদের হাই জাম্প ইভেন্টে। পাশাপাশি এশিয়ান গেমস ২০২৩: ডেকাথলনে রুপো জেতেন তেজস্বিন শঙ্কর। জাতীয় রেকর্ডের পরিসংখ্যান, হাই জাম্প ২.২৯ মিটার এবং ডেকাথলন: ৮০৫৭ পয়েন্ট।
ভারতীয় জ্যাভলিন থ্রোয়ার যশ বীর সিং ব্রোঞ্জ জিতলেন। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত হওয়া ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রো ইভেন্টে ভারতকে ব্রোঞ্জ পদক এনে দিলেন এই অ্যাথলিট। সেই একই ইভেন্টে ভারতের নীরজ চোপড়া রুপো জেতেন। যার ফলে, ভারত এই ইভেন্টে একইসঙ্গে দুটি পদক জয়ের এক স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করে। যশ বীর সিং-এর ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স হল, ৮২.৫৭ মিটার (২০২৫ সালে অর্জিত)। ৮০ মিটারের দূরত্ব অতিক্রম করা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তরুণ জ্যাভলিন থ্রোয়ার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে নীরজ চোপড়া দুর্দান্ত পারফর্ম করলেন। পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রো ইভেন্টের বাছাইপর্বে ৭৯.৬১ মিটার দূরত্বে থ্রো করে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন তিনি এবং ফাইনালে জায়গা পাকা করে নেন। তবে তীব্র ঠান্ডা ও হাওয়া তথা প্রতিকূল আবহাওয়া একাধিক প্রতিযোগীর পারফরম্যান্সকেই প্রভাবিত করে। তবুও নীরজ লড়লেন এবং দেশকে রুপো এনে দিলেন। তাঁর সেরা থ্রো ৮৫.৮৩ মিটার। ৮৯.৭৫ মিটার থ্রো করে সোনা জিতেছেন শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাগে। ৮৫.৮৩ মিটার থ্রো করে রুপো জিতেছেন ভারতের নীরজ চোপড়া। এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদকটিও ভারতের দখলে। ৮৫.৪১ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ জিতলেন যশ বীর সিং।
ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মহিলা বক্সার প্রীতি পাওয়ার পদক জিতলেন চলতি কমনওয়েলথ গেমসে। মহিলাদের ৫৪ কেজি (ব্যান্টামওয়েট) বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। হরিয়ানার বাসিন্দা প্রীতি মহিলাদের ৫৪ কেজি বক্সিং-এর ইভেন্টে সোনা জিতলেন। একজন বক্সারের পাশাপাশি রিনি একজন ভারতীয় সেনাবাহিনীর নায়েব সুবেদার। ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন কানাডার স্কারলেট ডেলগাডো। সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ৫-০ ব্যবধানে জেতেন ভারতের প্রীতি পাওয়ার। ম্যাচের শুরু থেকেই নিখুঁত লক্ষ্যভেদ এবং রিংয়ের ওপর আধিপত্য বজায় রেখে ভারতের জন্য বক্সিংয়ে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে স্বর্ণপদক জয় করেন ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাপ ২০২৫-এ (নারীদের ৫৪ কেজি) এবং ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন এশিয়ান গেমস ২০২২ (২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত) নারীদের ৫৪ কেজি বিভাগে। চমৎকার ফুটওয়ার্ক, নিখুঁত কাউন্টার-পাঞ্চিং এবং সুশৃঙ্খল রক্ষণাত্মক ভঙ্গি প্রীতির অন্যতম ইউএসপি।
জ্যাসমিন লাম্বোরিয়া ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আরেকজন মহিলা বক্সার, যিনি ৫৭ কেজি (ফেদারওয়েট) বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সোনা জিতলেন। প্রসঙ্গত, জ্যাসমিনও হরিয়ানার বাসিন্দা। তাঁর উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি এবং মহিলাদের ৫৭ কেজি (ফেদারওয়েট) বিভাগে সোনা জিতে দেশকে জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসনে বসালেন। ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন নর্থ আয়ারল্যান্ডের বক্সার মাইকেলা ওয়ালশ। কিন্তু সুশৃঙ্খল এবং অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ফাইনালে জয়ী হয়ে কমনওয়েলথ গেমসের শিরোপা জয় করেন ভারতের জ্যাসমিন। উল্লেখ্য, এর আগে তিনি বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়ন (৫৭ কেজি) হন। পাশাপাশি ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন এবং প্যারিসে ২০২৪ সালের অলিম্পিক গেমসে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। জ্যাসমিন এই মুহূর্তে ভারতের অন্যতম একজন শীর্ষস্থানীয় ফেদারওয়েট বক্সার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
সোমান রানা একজন ভারতীয় প্যারা-অ্যাথলিট যিনি পুরুষদের শট পুট F57 বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি প্যারা-স্পোর্টসে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফিল্ড-ইভেন্ট অ্যাথলিট। পুরুষদের শট পুট F57 বিভাগে দেশকে সোনা এনে দিলেন সোমান রানা। তিনি বিহারের বাসিন্দা এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোর্খা রাইফেলসের প্রাক্তন হাবিলদার। তিনি আর্মি প্যারালিম্পিক নোড, বিইজি (BEG) অ্যান্ড সেন্টার, পুনেতে প্রশিক্ষণ নেন। এর আগে ২০২০ সালের টোকিও ২০২০ প্যারালিম্পিক্সে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্যারিস ২০২৪ প্যারালিম্পিক্সে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং পুরুষদের শট পুট F57 ফাইনালে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন। ২০২৫ ওয়ার্ল্ড প্যারা-অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। ভারতের শীর্ষ প্যারা শট পুট অ্যাথলিটদের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন সোমান। তবে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ সোমান রানা কার্যত, ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছেন। পুরুষদের শট পুট F57 ইভেন্টে স্বর্ণপদক জয় করে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।
২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৫১ কেজি বক্সিং ইভেন্টের ফাইনালে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে স্বর্ণপদক জয় করলেন সাক্ষী চৌধুরী। ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ রুবি হোয়াইটকে হারিয়ে সোনার পদক জিতলেন তিনি। ম্যাচের শুরু থেকেই সাক্ষী তাঁর নিখুঁত কম্বিনেশন পাঞ্চ, কার্যকর পাল্টা-আক্রমণ (কাউন্টার-পাঞ্চিং) এবং রিং-এ চমৎকার মুভমেন্টের মধ্য দিয়ে লড়াই পুরো নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ফলে, পাঁচজন বিচারকই তাঁর পক্ষে রায় দেন এবং ইংল্যান্ডের রুবি হোয়াইটের বিরুদ্ধে তিনি ৫-০ ব্যবধানে সর্বসম্মতভাবে জয়লাভ করেন। এই জয়ের সুবাদে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক তালিকায় আরও একটি মুকুট যুক্ত হল। সেইসঙ্গে, সাক্ষী এর আগে প্রাক্তন বিশ্ব যুব (World Youth) এবং বিশ্ব জুনিয়র (World Junior) চ্যাম্পিয়ন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর হয়ে প্রতিনিধিত্বও করেন তিনি। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাম্বার জেন-ওয়ালকে ৫-০ ব্যবধানে এবং তার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে নর্থ আয়ারল্যান্ডের ক্যাটলিন ফ্রায়ার্সকে পরাজিত করে তিনি কমনওয়েলথ গেমসের ফাইনালে পৌঁছেছিলেন।
চলতি ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৬০ কেজি বক্সিং ইভেন্টের ফাইনালে কানাডার মারি-বাথুল আল-আহমাদিয়েহ-কে পরাজিত করে প্রিয়া ঘাঙ্গাস স্বর্ণপদক জিতেছেন। মহিলাদের ৬০ কেজি (লাইটওয়েট) বিভাগে সোনা জতলেন তিনি। ৪-১ ব্যবধানে 'স্প্লিট ডিসিশন'-এ জয়ী হন। কানাডিয়ান এই বক্সার ম্যাচের শুরুটা ভালো করেন এবং প্রথম রাউন্ডে কিছুটা এগিয়েও ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রিয়া আক্রমণাত্মক কম্বিনেশন এবং রিংয়ের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জোরালোভাবে ঘুরে দাঁড়ান। নির্ধারক রাউন্ডেও তিনি নিজের ছন্দ ধরে রাখেন এবং বিচারকদের ৪-১ ব্যবধানে 'স্প্লিট ডিসিশন'-এর মাধ্যমে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করতে বাধ্য করেন।
কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর মঞ্চে মহিলাদের ৭০ কেজি বক্সিং ফাইনালে সোনা জিতলেন অরুন্ধতী চৌধুরী। ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ শ্যান্টেল রিডকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে স্বর্ণপদক জয় করলেন অরুন্ধতী।নিখুঁত কাউন্টার-পাঞ্চিং এবং ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে তিনটি রাউন্ডেই নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন তিনি এবং প্রতিটি রাউন্ডেই বিচারকরা তাঁর পক্ষে ১০-৯ স্কোর দেন। সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়ন রোজি একলসকে (ওয়েলস) পরাজিত করে ফাইনালে ওঠেন। রাজস্থানের কোটার বাসিন্দা অরুন্ধতী ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাপ ফাইনালে মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগেও স্বর্ণপদক জিতেছিলেন।
গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ৬০ কেজি (লাইটওয়েট) বক্সিং ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতলেন শচীন সিওয়াচ। হরিয়ানার এই বক্সারের উচ্চতা ১.৭৭ মিটার এবং নামিবিয়ার বক্সার ট্রাইঅ্যাগেইন মর্নিং এনডেভেলোকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে 'স্প্লিট ডিসিশন'-এ জয়ী। এর আগে তিনি রাউন্ড অফ ৩২-তে কানাডার প্রতিপক্ষ কিওমা আল-আহমাদিয়েহ-কে ৪-১ ব্যবধানে 'স্প্লিট ডিসিশন'-এ পরাজিত করেন। নক-আউট পর্বগুলিতে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে অবশেষে ফাইনালে স্বর্ণপদক জয় করলেন। এর আগে ২০১৬ এআইবিএ (AIBA) যুব বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জয় করেছিলেন তিনি। কমনওয়েলথ যুব গেমসেও স্বর্ণপদক জয়ী বক্সার হলেন শচীন। এই মুহূর্তে ভারতের অন্যতম সেরা লাইটওয়েট বক্সার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক জয়ের বড় দাবিদার।
পুরুষদের বক্সিং-এর ৮০ কেজি ওজন বিভাগে সোনা জিতলেন অঙ্কুশ পাংঘাল। আক্রমণাত্মক পাল্টা-আঘাত (counter-punching), দ্রুত ফুটওয়ার্ক এবং শক্তিশালী রক্ষণাত্মক দক্ষতার সুবাদেই স্বর্ণপদক হাসিল করলেন তিনি। ইংল্যান্ডের ডিমেইজি শিত্তুকে ৪-১ ব্যবধানে 'স্প্লিট ডিসিশন'-এ পরাজিত করে দেশকে সোনা এনে দিলেন এই ভারতীয় বক্সার। সেমিফাইনালে কানাডার জোশুয়া ওফোরিকে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করেন অঙ্কুশ।
রুপো জিতলেন প্রবীণ চিত্রভেল। ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফিল্ড অ্যাথলেট এবং পুরুষদের ট্রিপল জাম্প ইভেন্টে জাতীয় রেকর্ডধারী তামিলনাড়ু্র ক্রীড়াবিদ। চলতি কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ট্রিপল জাম্প ইভেন্টে সিলভার মেডেল জয়লাভ করলেন ভারতীয় অ্যাথলিট প্রবীণ চিত্রভেল। তাঁর সেরা জাম্প: ১৬.৬৬ মিটার। ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স ১৭.৩৭ মিটার, যেটি ২০২৩ সালে ভারতীয় জাতীয় রেকর্ড। তাঁর কোচ ইয়োয়ান্দ্রি বেটানজোস। গত ২০২৫ সালের এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জেতেন। তার আগে ২০২৩ এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপেও রুপোর পদক আসে। এরপর ২০২২ সালের এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক এবং ২০১৮ সালের যুব অলিম্পিক গেমসেও ব্রোঞ্জ পদক জেতেন প্রবীণ। এই বিভাগে সহ-প্রতিযোগী ভারতীয় অ্যাথলেট সেলভা প্রভু থিরুমারান ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। যার ফলে, এই ইভেন্টে ভারত একইসঙ্গে দুটি পদক (ডাবল পোডিয়াম ফিনিশ) অর্জন করে।
জাদুমণি সিং মান্দেংবাম হলেন মণিপুরের একজন ভারতীয় বক্সার, যিনি পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে বক্সিং-এ পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগে সিলভার জিতলেন তিনি। ফাইনালে ওঠার পথে তিনি রাউন্ড অফ ৩২-র লড়াইতে স্কটল্যান্ডের অ্যারন কালেনকে ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত করেন। এরপর রাউন্ড অফ ১৬-এর লড়াইতে পাকিস্তানের সুমামাহ রেহমানকেও ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত করেন। কোয়ার্টার-ফাইনালে আরও একটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সেমিফাইনালে পৌঁছন।
শুভম জুয়াল একজন ভারতীয় প্যারা-অ্যাথলিট যিনি পুরুষদের শট পুট F57 বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং রুপোর পদক এনে দিয়েছেন দেশকে। প্যারা-অ্যাথলেটিক্সে পুরুষদের শট পুট F57 ইভেন্টে সর্বোচ্চ ১৩.২৮ মিটার দূরত্বে শট পুট নিক্ষেপ করেন তিনি এবং রুপোর পদক জেতেন। ভারত এই ইভেন্টে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করে। প্রথম এবং দ্বিতীয়, দুটি স্থানই টিম ইন্ডিয়ার দখলে। কারণ, তাঁর সতীর্থ সোমান রানা ১৩.৪০ মিটার দূরত্বে শট পুট নিক্ষেপ করে স্বর্ণপদক জয় করেন। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৫ ওয়ার্ল্ড প্যারা-অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনি ভালো ফল করেন। বাছাইপর্বের গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করে ফাইনালে ওঠেন এবং পুরুষদের শট পুট F57 ফাইনালে ১৩.৭২ মিটারের ব্যক্তিগত সেরা থ্রো-সহ সপ্তম স্থান অর্জন করেন। মরক্কোতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড প্যারা-অ্যাথলেটিক্স গ্র্যান্ড প্রিক্সে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। ক্রমাগত নিজের থ্রোয়িং বা নিক্ষেপের দূরত্ব বাড়িয়ে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় F57 অ্যাথলিটে পরিণত হয়েছেন।
লাভলিনা বোরগোহাইন ভারতের অন্যতম সফল একজন বক্সার এবং তিনি ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৭৫ কেজি (মিডলওয়েট) বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই ইভেন্টে এবার তিনি দেশকে রুপো এনে দিলেন। মহিলাদের ৭৫ কেজি (মিডলওয়েট) বিভাগে রুপো জিতলেন তিনি। সেমিফাইনালে তিনি টুভালুর তারোনা তাফাকিকে ৫–০ ব্যবধানে (সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে) পরাজিত করে ফাইনালে ওঠেন। অস্ট্রেলিয়ার এমা-সু গ্রিনট্রির বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর রুপোর পদক জয় করেন। এর আগে টোকিও ২০২০ অলিম্পিক: ব্রোঞ্জ পদক (মহিলাদের ওয়েল্টারওয়েট), ২০২৩ আইবিএ (IBA) মহিলাদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক এবং এবার ২০২৬ সালে কমনওয়েলথ গেমসে রুপোর পদক জিতলেন তিনি।
নরেন্দ্র বেরওয়াল একজন ভারতীয় সুপার-হেভিওয়েট বক্সার, যিনি গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ৯০+ কেজি বিভাগে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং দেশকে রুপোর পদক এনে দিয়েছেন। তিনি পেশায় একজন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সুবেদার। সেমিফাইনালে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর প্রতপক্ষ নাইজেল পলকে ৫-০ ব্যবধানে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পরাজিত করেন তিনি। এর আগে তিনি ২০১৯ দক্ষিণ এশীয় গেমসে সোনা, ২০১৯ সালের এলিট পুরুষ জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা, জার্মানিতে ২০১৮ সালের কেমিস্ট্রি কাপে ব্রোঞ্জ, সার্বিয়ার বেলগ্রেডে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনালে ব্রোঞ্জ, ২০১৫ সালের ওয়ার্ল্ড মিলিটারি গেমসে ব্রোঞ্জ এবং ২০১২ সালের যুব বিশ্বকাপে রুপো জেতেন তিনি। এবার কমনওয়েলথ গেমসে জিতলেন সিলভার মেডেল।
সেলভা প্রভু থিরুমারান ভারতের অন্যতম শীর্ষ উদীয়মান ট্রিপল জাম্পার এবং ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স দলের একজন সদস্য। পুরুষদের ট্রিপল জাম্প ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতলেন তিনি। ব্যক্তিগত সেরা (আউটডোর) পারফরম্যান্স ১৭.০৫ মিটার (মার্চ ২০২৬-এ অর্জিত)। ইনডোর সেরা পারফরম্যান্স ১৭.১৯ মিটার (বাতাসের অনুকূল সহায়তাযুক্ত/রেকর্ড হিসেবে গণ্য নয়)। এর আগে ২০২২ সালের ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে রুপোর পদক জেতেন তিনি। তাছাড়া ২০২৬ সালের এনসিএএ (NCAA) আউটডোর চ্যাম্পিয়ন (যুক্তরাষ্ট্র)। চলতি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ তাঁর সেরা জাম্প ১৬.৫২ মিটার। উল্লেখ্য, পুরো প্রতিযোগিতা জুড়েই সেলভা পদক জয়ের লড়াইতে ছিলেন এবং শেষপর্যন্ত জিতলেন।
জুডোতে মহিলাদের ৬৩ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতলেন ২৩ বছর বয়সী উন্নতি শর্মা। তাঁর বিশ্ব র্যাঙ্কিং ১১৬ (আইজেএফ বিশ্ব র্যাঙ্কিং, জুলাই ২০২৬) ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কাই নোয়েস্টারকে 'ইপ্পন'-এর মাধ্যমে পরাজিত করে ভারতের জন্য ব্রোঞ্জ পদকটি নিশ্চিত করেন। এর আগে ২০২৬ সালেই ডাকার আফ্রিকান ওপেনে স্বর্ণপদক জয় করেন এবং ২০২৬ চিংদাও গ্র্যান্ড প্রিক্স এবং অন্যান্য আইজেএফ (IJF) ওয়ার্ল্ড ট্যুর ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন।
আবারও পদক জিতলেন গুলবীর সিং। তিনি এবারের কমনওয়েলথ গেমসে ৫,০০০ মিটার এবং ১০,০০০ মিটার, উভয় বিভাগে পদক জিতে কার্যত, ইতিহাস গড়লেন। এশিয়ান এবং কমনওয়েলথ পর্যায়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্সে ভারতের হয়ে পদক জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এবার পুরুষদের ৫,০০০ মিটার ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতলেন গুলবীর সিং।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।