
Digital Yellow Red Card: ফুটবল মাঠে রেফারির হাতে হলুদ বা লাল কার্ড দেখার দৃশ্যটা একেবারে স্বাভাবিক। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবিতেই বদল আসতে চলেছে। কাগজ-কলমে ম্যাচের হিসাব রাখার বদলে ফুটবলে চালু হল ডিজিটাল হলুদ ও লাল কার্ড। নতুন এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছে উরুগুয়েতে। এর ফলে ম্যাচ চলাকালীন রেফারির কাজ যেমন সহজ হবে, তেমনই দ্রুত নথিভুক্ত করা যাবে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
উরুগুয়ের ঘরোয়া কাপ প্রতিযোগিতা 'কোপা এইউএফ উরুগুয়ে'-র শেষ ষোলোর ম্যাচে প্রথমবার এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। মন্টেভিডিওর গ্রান পার্ক সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল নাসিওনাল ও রেনতিস্তাস। ম্যাচটি ৩-০ গোলে জেতে নাসিওনাল। এই ম্যাচেই রেফারি এদুয়ার্দো ভারেলা প্রচলিত প্লাস্টিকের কার্ডের বদলে ব্যবহার করেন হাতের তালুর মতো দেখতে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
🚨JUST IN: Referees in Uruguay have started to use digital yellow and red cards
The device tracks every booking, substitution, goal, and penalty https://t.co/W5ou76gAPd
— Polymarket Sports (@PolymarketSport) October 16, 2026
নতুন এই ডিভাইসে রয়েছে বিশেষ বোতাম এবং টাচস্ক্রিন। বোতাম টিপলেই স্ক্রিনে হলুদ বা লাল আলো জ্বলে উঠবে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ফুটবলারের জার্সি নম্বর নির্বাচন করলেই কার্ড দেখানোর সময়-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত হয়ে যাবে। শুধু কার্ড দেখানোই নয়, ম্যাচে গোল, পেনাল্টি এবং ফুটবলার পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দ্রুত আপডেট করা যাবে। এই তথ্য সরাসরি উরুগুয়ের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (AUF) ‘COMET’ প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে যাবে। ফলে ম্যাচের রিপোর্ট তৈরির কাজ অনেকটাই সহজ হতে পারে।
নাসিওনাল ও রেনতিস্তাসের ম্যাচের ১২ মিনিটে প্রথম ডিজিটাল হলুদ কার্ড দেখানো হয়। রেনতিস্তাসের মিডফিল্ডার হুয়ান পাবলো প্লাদা সেই কার্ড দেখেন। পরে ম্যাচের ৮৯ মিনিটে দেখানো হয় প্রথম ডিজিটাল লাল কার্ড। এতদিন ম্যাচ চলাকালীন রেফারিদের ফাউল বা কার্ড দেখানোর পাশাপাশি ফুটবলারের জার্সি নম্বর ও ঘটনার সময় কাগজে লিখে রাখতে হত। ম্যাচের পরে সেই তথ্য দিয়ে তৈরি করতে হত রিপোর্ট। নতুন ডিভাইসের ফলে সেই কাজ অনেক দ্রুত করা সম্ভব হবে। রেফারিদের প্রশাসনিক কাজের চাপও কমবে। উরুগুয়ের সংস্থা 'রেফ' (REFe) এবং দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে। ডিভাইসটি চালানোর জন্য স্টেডিয়ামের ওয়াই-ফাইয়ের উপর নির্ভর করতে হয় না। এটি নিজস্ব অফলাইন নেটওয়ার্কের সাহায্যে কাজ করতে পারে।
এই ডিজিটাল ডিভাইস তৈরির ভাবনা কীভাবে এল? এর উদ্ভাবক মাউরো সাকো ও দিয়েগো দে লা পেনিয়া জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর আগে বৃষ্টির মধ্যে একটি ম্যাচ চলাকালীন তাঁরা দেখেছিলেন, রেফারিকে ভিজে কাগজ-কলমে নানা তথ্য লিখে রাখতে হচ্ছে। সেই ঘটনা থেকেই নতুন প্রযুক্তি তৈরির ভাবনা আসে। উদ্ভাবকদের লক্ষ্য, ফুটবলে এখনও যেসব কাজে পুরনো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, সেগুলিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। ডিভাইসটির পেটেন্টও করানো হয়েছে। তবে দিনের আলোয় বা টেলিভিশনের পর্দায় ডিজিটাল কার্ডের রং কতটা স্পষ্ট দেখা যাবে, তা নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যা কাটাতে ভবিষ্যতে স্ক্রিনের চারপাশে আরও উজ্জ্বল এলইডি আলো লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আপতত পরীক্ষামূলকভাবে শুরু
আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলেও ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির আরও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকী, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি সংবাদমাধ্যমের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থাও চালু হতে পারে। সব মিলিয়ে, ফুটবলে রেফারিংয়ের কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পথে নতুন পদক্ষেপ এই ডিজিটাল কার্ড।
ফুটবল ম্যাচে রেফারিরা হলুদ ও লাল রঙের প্লাস্টিকের কার্ড ব্যবহার করে আসছেন। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে হলুদ ও লাল কার্ডের ব্যবহার শুরু হয়। হলুদ কার্ড দেখিয়ে ফুটবলারকে সতর্ক করেন রেফারি। আর লাল কার্ড দেখানোর অর্থ, সংশ্লিষ্ট ফুটবলারকে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে। এতদিন কার্ড দেখানোর পাশাপাশি ম্যাচের সময়, ফুটবলারের জার্সি নম্বর এবং ঘটনার বিবরণ কাগজে লিখে রাখতেন রেফারিরা। এবার সেই চেনা পদ্ধতিতেই বদল আনতে চলেছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। উরুগুয়েতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে ইলেকট্রনিক হলুদ ও লাল কার্ড।