
Harmanpreet Kaur Steps Down: ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলে একটা যুগের অবসান ঘটল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরম্যাট-টেস্ট, ওডিআই এবং টি-টোয়েন্টি থেকেই অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন ৩৭ বছর বয়সী তারকা ক্রিকেটার হরমনপ্রীত কৌর। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন। ১০ বছর দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর সরলেন বিশ্বকাপ অধিনায়িকা হরমনপ্রীত।
এই ঘোষণার মাত্র একদিন আগেই গুয়াহাটিতে বিসিসিআই (BCCI)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং হরমনপ্রীত কৌর, সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা এবং প্রধান কোচ অমোল মজুমদার। ভারতীয় মহিলা দলের ভবিষ্যতের রোডম্যাপ নির্ধারণ করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এর পরেই জাতীয় দলকে বিদায় না জানিয়ে কেবল অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বড় বার্তা দেন হরমনপ্রীত।
ক্যাপ্টেন হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেটে হরমনপ্রীত কৌরের অবদান অনস্বীকার্য। ৫টি টেস্ট, ৫১টি ওডিআই এবং ১৫৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রায় এক দশক ধরে সেই দায়িত্ব সামলান। পরবর্তীতে ২০২২ সালে মিতালি রাজের অবসরের পর তিনি ওয়ানডে ও টেস্টের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পান এবং ২০২৩ সালে তিন ফরম্যাটেই একচ্ছত্র নেতৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।
ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়: ২০২৫ সালে হরমনপ্রীতের নেতৃত্বেই ভারত প্রথম সিনিয়র মহিলাদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ে। তিনিই দেশের একমাত্র মহিলা বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
এশিয়ান গেমসে জোড়া সোনা:কদিন আগে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সোনা এনে দেওয়াই ছিল অধিনায়ক হিসেবে তাঁর শেষ কাজ। এর আগে ২০২২ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসেও তাঁর নেতৃত্বেই ভারত সোনা জিতেছিল।
এশিয়া কাপের সাফল্য: ২০২২ ও ২০২৬ সালসহ একাধিক এশিয়া কাপের ট্রফি এসেছে তাঁর দক্ষ পরিচালনায়।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে হরমনপ্রীত লেখেন, “আজ আমি ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।” তিনি স্বীকার করেন যে এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্ত ছিল, যার পেছনে জড়িয়ে রয়েছে বহু বছরের স্মৃতি, আবেগ ও ত্যাগ। "আমি এই দলকে নিজের রক্ত, ঘাম, সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত খেলা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাও সঁপে দিয়েছি। দলের প্রয়োজনে বারবার নিজেকে আড়ালে রেখেছি। আজ একরাশ আবেগ নিয়ে সরছি ঠিকই, তবে মনে অপার শান্তি আছে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের দল এখন খুব ভালো অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, প্রতিভা, চরিত্র আর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। আমি আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পেরেছি।
সফর চলবে
বার্তার শেষে তিনি জানান, অধিনায়কত্বের মেয়াদ শেষ হলেও খেলোয়াড় হিসেবে ভারতের হয়ে তাঁর সফর থামছে না। সতীর্থ, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, বিসিসিআই, পরিবার ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর বক্তব্য ছিল, “অধিনায়কত্বের অধ্যায় শেষ হলো, কিন্তু পথচলা অব্যাহত থাকবে।”
স্মৃতি মান্ধানার হাতেই কি উঠতে চলেছে নেতৃত্বের ব্যাটন?
হরমনপ্রীতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই নতুন অধিনায়ক কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ফরম্যাটেই দায়িত্ব নেওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন দলের বর্তমান সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা। বিসিসিআই খুব শীঘ্রই নতুন অধিনায়কের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।