
Rodri Barcelona: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোনও এক রাতে, ম্যাঞ্চেস্টার সিটির এতিহাদ স্টেডিয়ামে একটি টিফো দেখা গেছিল (rodri barcelona)। সেটিতে লেখা ছিল, “Stop Crying Your Heart Out"। ব্যালন ডি'অর হাতে রদ্রির ছবি দিয়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে নিয়ে মজা করেছিল সিটির ফ্যানরা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে সেই রাতের কথাই যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে বার্সেলোনা। সোজা কথায় বলতে গেলে, রদ্রিকে পাওয়ার চেষ্টা এখন থামিয়ে দেওয়াই ভালো। কারণ, লস ব্লাঙ্কোস জার্সিতে তাঁকে দেখার আর কোনও সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে (Rodri Barcelona transfer)।
আরও পড়ুনঃ Barcelona vs Oviedo: সাইড ভলিতে দুরন্ত গোল করলেন ইয়ামাল, আবারও লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনা
স্পেনে ফেরার জন্য রদ্রি প্রথমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকেই বেছে নিতে চেয়েছিলেন এবং সেই কথা তিনি স্পষ্টও করে দেন। কিন্তু সিটির সঙ্গে রিয়ালের চুক্তিতে দেরি হওয়ায়, আসরে নেমে পড়ে বার্সেলোনা। স্প্যানিশ মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, সিটির সঙ্গে কথা বলার জন্য বার্সাকে ইতিমধ্যেই সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন রদ্রি। তার মানে হল, বার্সার নতুন কোচ হান্সি ফ্লিকের প্রোজেক্টে তিনি যথেষ্ট আগ্রহী। কিন্তু রিয়ালের বদলে বার্সা কেন? আর বার্সার সিস্টেমে রদ্রি কতটা ফিট হবেন? অবশ্য তার পিছনে মূলত তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথম এবং সবচেয়ে সহজ কারণটি হল, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে স্পেনকে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় রদ্রির দলে বার্সেলোনার আটজন ফুটবলার ছিলেন। লামিনে ইয়ামাল, ফেরান টোরেস, পেদ্রি, দানি অলমো, পাউ কুবাসি, এরিক গার্সিয়া এবং জোয়ান গার্সিয়া। ফলে, ক্যাম্প ন্যুতে এলে ড্রেসিংরুমে মানিয়ে নিতে তাঁর কোনও সমস্যাই হবে না।
দ্বিতীয়ত, মাঠের খেলা নিয়ন্ত্রণ করার যে ক্ষমতা রদ্রির আছে, তা মোরিনহোর স্ট্রাকচারের তুলনায় ফ্লিকের সিস্টেমের সঙ্গে বেশি মানানসই। ডিফেন্স এবং মিডফিল্ডকে জুড়ে রাখেন রদ্রি। তাই উইং-ব্যাকরা যখন আক্রমণে ওঠেন, তখন তিনি সেন্টার-ব্যাকদের সাপোর্ট দেন এবং পাসিং লেন ব্লক করার পাশাপাশি নতুন করে খেলা তৈরিও করতে পারেন। মাঠে থেকেও যেন অদৃশ্যভাবে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। পাশাপাশি ডাইরেক্ট মুভের থেকে পাসিংয়ের মাধ্যমে মাঠ ডমিনেট করার যে ফ্লিক-সিস্টেম রয়েছে, তার সঙ্গে রদ্রির খেলার ধরন একেবারে সেট হয়ে যায়। তাছাড়া সিটিতে পেপ গুয়ার্দিওলার কৌশলের সঙ্গেও ফ্লিকের বার্সার মিল রয়েছে। অন্যদিকে, বার্সার মিডফিল্ডে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের না থাকাটাও রদ্রির দলের আসার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে। ডান পায়ে চোটের কারণে, ডি ইয়ংকে অন্তত চার মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তাই ফ্লিককে মাঝমাঠের শূন্যস্থান পূরণ করতেই হবে।
বার্সার মাঝমাঠের আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হলেন পেদ্রি। কিন্তু বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে তিনি মাঝমাঠে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। তাই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বে তাঁকে বেঞ্চে বসতে হয়েছিল। রদ্রি যখন মাঝমাঠের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন, তখন স্পেন আরও বেশি ডমিনেট করতে শুরু করে। রদ্রি ও পেদ্রি একসঙ্গে বার্সার মাঝমাঠে এলে তা ফ্লিকের জন্য বোনাস হয়ে যাবে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।